মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

শিরোপা জিততে ফাইনালে আজ সেরাটাই খেলতে হবে -ডোমিঙ্গো

স্পোর্টস রিপোর্টার : ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ফাইনালে আজ মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। ফাইনাল ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জয় করতেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে ফাইনালে জিততে আজ দলের সেরাটাই খেলতে হবে বলে মনে করেন টাইগার কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। ফাইনাল ম্যাচের আগে আনুষ্ঠানিক ম্যাচ-পূর্ব সাংবাদিক সম্মেলনে ডোমিঙ্গো বলেন, ‘আমরা ৬০-৭০ ভাগ খেললে শিরোপা জিততে পারব এমনটা আমি মনে করি না। অবশ্যই আমাদের ভালো খেলতে হবে, সামর্থ্যরে সেরাটা খেলতে হবে। আমরা ৬০-৭০ ভাগ খেললেই জিতে যাবো এমনটা ভাবার কারণ নেই। তবে আফগানিস্তানকে যদি তাদের ৬০-৭০ ভাগের মধ্যে আটকে রাখতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’ ওয়ানডে ক্রিকেটে গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ দল ভালো করলেও, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখনও পারেনি বড় কিছু করতে। বিশেষ করে কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে যেনো খেই হারিয়ে ফেলেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীমরা। তবে টাইগার কোচের দাবি চলতি টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলার দিকেই এগুচ্ছে তার দল। নিজের সেরা সামর্থ্য পর্যন্ত পৌঁছানোই দলের মূল লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এ টুর্নামেন্টে ধীরে ধীরে পারফরম্যান্সের গ্রাফটা ওপরের দিকে উঠেছে। তবে আমাদের এখনও ভালো খেলার জায়গা রয়েছে। আমার মনে হয় না এখনও সেরাটা খেলতে পেরেছি। নিজেদের সর্বোচ্চ বিন্দুতে যাওয়াটাই মূল লক্ষ্য। প্রায়ই দেখা যাচ্ছে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে আমরা একাধিক উইকেট হারিয়ে ফেলছি। এরপর ১০ ওভারের মধ্যে আরও পিছিয়ে পড়ি। তাই আমাদের এ জিনিসটা নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে যত সম্ভব কম উইকেট হারিয়ে, পরে রান বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে পরপর চার ম্যাচ হারার পর গত ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের আগে ডাবল রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে জয় পেলেও বাংলাদেশে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারেনি। তাই ফাইনালের আগে কোন দল ফেভারিট তা বলাটা বেশ কঠিন। ডোমিঙ্গো বলেন, ‘আমরা জানি আফগানিস্তান খুব ভালো দল। কিন্তু আমরা জানি যে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে যেকোনো দলকে হারাতে পারি। আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের কৌশল ঠিক রেখে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা। তবেই আফগানিস্তানকে হারানো সহজ হবে। আর এভাবে বাংলাদেশ জিতলেও অবাক হবো না।’ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তাদের সেরাটা দিতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ‘আমরা এখনো আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি। এখনো সময় রয়েছে ভালো করার, নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় যেটা করতে পারলে ভালো খেলা সম্ভব। বেশ কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। প্রথম ৫-৬ ওভারে ২-৩টা উইকেট হারাচ্ছি। প্রথম ১০ ওভারে আমরা বেশি উইকেট হারিয়ে ফেলছি। এই জায়গাটাতে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। ১৫ ওভারের মধ্যে যেনো ২টা উইকেটের বেশি হারাতে না হয়, যাতে শেষ ৫ ওভারে বেশি রান তোলায় মনোযোগী হতে পারি। এই জায়গাটাতে আমাদের উন্নতি করতে হবে বলে আমি মনে করি। আশা করি আমরা সেটা পারবো।’ ইনজুরির কারণে গত ম্যাচে খেলতে পারেননি লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম। তিনি খেলবেন কিনা এমন প্রশ্নে ডোমিঙ্গো বলেন, ‘এটা বলা খুব কঠিন। তার বাম হাতে তিনটা সেলাই পড়েছে যেটা তার বোলিং হাত নয়। কিন্তু খেলতে হলে শুধু বোলিং নয় ফিল্ডিংও করতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ম্যাচের প্রয়োজনীয় সময়ে ক্যাচ ধরতে হতে পারে। বোলিং করা সময় হাতে লাগতে পারে। কোচ হিসেবে আমি মনে করি পুরোপুরি ফিট না হয়ে খেলা উচিৎ না। তার পরিবর্তে অনেক ক্রিকেটার রয়েছে যারা খেলতে পারে।’ গেল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা হয়েছে। এই ফিল্ডিংয়ের কারণেই বেশ ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে। নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণেই হারতে হয় টাইগারদের। বিশ্বকাপের পর ফিল্ডিং নিয়ে বেশ সচেতন হয়ে যায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তান বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ও ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য অনুশীলনের বেশিরভাগ সময় ফিল্ডিংয়ের পেছনে ব্যয় করে টাইগাররা। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচও মনে করেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচ জয়ে ফিল্ডিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ত্রিদেশীয় সিরিজে উইকেটের পেছনে মুশফিক বেশ কয়েকটি বল মিস করেন। তাই তার চাপ কমানোর জন্য কিপিংটাকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু রাসেল ডমিঙ্গো বিষয়টি পুরোপুরি ‘না’ করে দেন। তার কাছে আউট ফিল্ডিংয়ের গুরুত্ব বেশি। ডোমিঙ্গো বলেন, ‘এই মুহূর্তে এটা নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই আমাদের। লিটন ফিল্ডার হিসেবে মুশফিকের চেয়ে ভালো যেটা আমরা উপভোগ করতে চাই। আমাদের দলে ভালো ফিল্ডার প্রয়োজন যারা ৬-৭ রান সেভ করতে পারবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এটা  বেশি দরকার। লিটন-আফিফ-শান্ত এই ধরনের ফিল্ডার যারা রান সেভ করতে পারে। ক্রিকেটের সব ফরম্যাটেই দরকার এটা।’ লিটনকে এই কারণেই উইকেটকিপিং করতে দেওয়া হয় না বলে জানান কোচ। তিনি বলেন, ‘এটা একটা অন্যতম কারণ যে, সে (লিটন) ভালো ফিল্ডার। গত ম্যাচে মুশফিক দুই-তিনটা বল মিস করেছে কিন্তু স্ট্যাম্পের পিছনে সে ভালো। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিক। সে অধিনায়ককে বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দিতে পারে কারণ স্টাম্পের পেছন থেকে সবকিছুই ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। লিটন মাঠে যেভাবে নিজেকে মেলে ধরে, আমরা তাতে সন্তুষ্ট। সে দারুণ ফিল্ডার, মুশফিকের চেয়ে ভালো। গ্রাউন্ডে আমরা যতজন ভালো ফিল্ডার পাবো, আমাদের দলের জন্য সেটা ততো ভালো। লিটন-আফিফ-শান্তর মতো ফিল্ডাররা যে ৫-৬ রান বাঁচায়, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ কিন্তু এমনটা আর কতদিন? এখন কি মুশফিককে ব্যাটিংয়ের জন্য নির্ভার করে কিপিং গ্লাভস তুলে দেয়া যায় না লিটনের হাতে? উত্তরে ডোমিঙ্গো যা বললেন, তাতে উইকেটরক্ষক লিটনের  চেয়ে ফিল্ডার লিটনের প্রশংসাই থাকল বেশি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ