মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

পুলিশ পাহারায় ক্যাসিনো?

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ইত্তেফাকের লিড আইটেম ছিল ‘রাজধানীর ৬০ স্থানে চলছে ক্যাসিনো’। এসব ক্যাসিনোতে প্রতিরাতে উড়ছে ১২০ কোটি টাকা। কারা চালাচ্ছে এবং মহানগরীর কোথায় কোথায় বসছে এগুলো তা প্রায় বিস্তারিতই উল্লেখ করা হয় রিপোর্টে। এমনকি কারা কারা রাতের অন্ধকারে এগুলোতে যাতায়াত করেন তাও বাদ যায়নি। হ্যাঁ, ক্ষমতাসীনদের ছাত্রসংগঠন, যুবসংগঠন এবং রাজনৈতিক দলের নেতারাও এসবের সঙ্গে জড়িত বলে প্রকাশ। চলতো পুলিশ পাহারায়। টাকা যেতো সবার পকেটে। এগুলোতে নেতারা যাতায়াত করলেতো পুলিশ পাহারা লাগবারই কথা। ক্যাসিনো ব্যবসা সংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে বলেও উল্লেখ আছে। এ ব্যবসা আর রাখঢাক কোনও বাণিজ্য নয় । প্রায় খোলামেলা চলছে ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর।
ক্যাসিনো জুয়ার আসরে টাকা নিয়ে খেলা জমে। বিদেশি ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ বেহাত হয়ে যায় ফিলিপিনো ক্যাসিনোর মাধ্যমেই। রিজার্ভের বেহাত হওয়া টাকা আর পাওয়া যায়নি। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আতিয়ুর রহমানের চাকরিটা চলে যায়। ক্যাসিনোতে টাকা নিয়ে খেলা কীভাবে চলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা থেকেই অনুমান করা যেতে পারে। মহানগরী ঢাকার ৬০ ক্যাসিনোর প্রতিটিতে প্রতিরাতে গড়পরতা ২ কোটি টাকা ওড়ে বলে প্রকাশ। এসব অভিজাত ছাড়াও ঢাকার অলিগলিতে আরও অনেক ক্যাসিনো বসে। এগুলো বিভিন্ন ভবনের ছাদ জবরদখল করে বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া বড় বড় ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েও ক্যাসিনো চালানো হয়। ক্যাসিনো চালাতে বিদেশ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী এবং পাহারাদারও আনা হয়েছে। এসব ক্যাসিনোতে টাকার খেলার সঙ্গে নারীদেহের খেলাও অবাধে চলে বলে প্রকাশ।
যারা ক্যাসিনোতে যাতায়াত করেন তাঁরা দু’হাতে টাকা ওড়ান। এসব টাকা তাঁদের পৈত্রিক সম্পদ এমনও নয়। ক্যাসিনোতে ওড়ানো টাকার সিংহভাগই জনগণের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে লুটে নেয়া। রিপোর্ট অনুসারে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলটির ছাত্র-যুব সংগঠন এমনকি মূল সংগঠনের নেতারাও ক্যাসিনোতো যাতায়াত করেন। ঢাকায় ক্যাসিনো পরিচালনা করেন বিদেশিরাও। ক্যাসিনোতে লেনদেন হওয়া টাকার সিংহভাগ পাচার হয় বিদেশে। পক্ষান্তরে দেশের অর্থনীতি ফোকলা করতে এসব ক্যাসিনো যথেষ্ট অবদান রাখছে। তরুণ রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও দেশের ভবিষ্যতদের নৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতেও এসব ক্যাসিনোর ভূমিকা মারাত্মক। দেশ ও জাতিধ্বংসকারী এসব ক্যাসিনো এবং এতে অংশগ্রহণকারীদের আদ্যোপান্ত সম্পর্কে গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তবে এসবের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয় সেটাই এখন দেখবার বিষয়। আশার কথা হচ্ছে, গত বুধবার রাত অবধি প্রায় ২১ ক্যাসিনোতো র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম দফার অভিযানেই বিদেশি নাগরিকসহ ১৮২ জনকে আটক করে ৬ মাস থেকে ১ বছরের কারাদ- দেয়া হয়। উদ্ধার করা হয় অবৈধ অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ টাকা ও জুয়ার সরঞ্জাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ