সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ॥ ফেসবুকে লেখার জন্য আর কাউকে বহিষ্কার করা হবে না 

 

স্টাফ রিপোর্টার: গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) বিতর্কিত ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিকে আন্দোলনের মুখে ফেসবুকে লেখার জন্য আর কাউকে বহিষ্কার না করার ঘোষণা দিয়েছেন বশেমুরবিপ্রবি ভিসি। ফেসবুকে বিরুদ্ধমত প্রকাশের জেরে ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মুখে তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। এর আগে, গত বুধবার বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী ও দ্য ডেইলি সানের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেমা তুজ জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এর একদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে এই শিক্ষার্থীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। একজন ভিসি কীভাবে একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এরকম ভাষায় কথা বলতে পারেন সেটি নিয়েও বিভিন্ন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সুশীল সমাজে কড়া সমালোচনা শুরু হয়।

ভিসির অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত আন্দোলন করেন। তাঁদের এক দফা দাবি ভিসির অপসারণ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্দোলনের মুখে ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজিস্ট্রার মো. নুরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি আদেশ প্রকাশ করেছে।

ওই আদেশের ৪ নম্বরে বলা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ ছাড়া বহিষ্কার করা হবে না। আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে এনে অপমান করা হবে না। যে ফেসবুকে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে এত কিছু, সে বিষয়ে আদেশের ১২ নম্বরে বলা হয়েছে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও কমেন্টকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না।

বাকি সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ বা বহিষ্কারের ঘটনা ঘটবে না; শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভ তাঁদের একাডেমিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না এবং এমনটা হলে ওই শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা হবে; ভর্তি হওয়ার ১০ বছরের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার নোটিশ দেওয়া হবে না; সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে; হলে প্রতি সিটের ভাড়া ১৫০ টাকা এবং রুমের ভাড়া ৫০ টাকা করা; ভর্তি ফি সর্বমোট ১৪ হাজার টাকা ও সেমিস্টার ফি ২ হাজার টাকা করা এবং বিভাগ উন্নয়ন ফি বাদ দেওয়া; বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নামে যে টাকা দেওয়া হয় তার জবাবদিহি করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ