বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ইসলামী সভ্যতার বিকাশে মসজিদ ও মাদ্রাসার ভূমিকা

সুমাইয়া তাসনীম : পরিবারের পরেই মসজিদ হচ্ছে ইসলামী সমাজের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। মুসলিম সমাজের সামষ্টিক কেন্দ্রও মসজিদ। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে মসজিদের রয়েছে ঐতিহাসিক ভূমিকা ও গুরুত্ব। মানুষের মন ও সমাজ থেকে মানুষের প্রভুত্ব তুলে দিয়ে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েমের জন্য দ্বীন বিজয়ের মহান মিশন নিয়ে রাসূলুল্লাহ (স:) এর আগমন। এই মিশন পরিচালনার কেন্দ্রস্থল ছিল মসজিদ।
“আপনি বলুন, আমার রব আমাকে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর আদেশ তো এই যে, তোমরা প্রত্যেক সেজদা ও ইবাদতে লক্ষ্য ঠিক রাখবে। তাকেই ডাক এবং নিজ দ্বীনকে কেবলমাত্র তার জন্যই এখলাস ও নিষ্ঠাপুর্ণ কর।” (আরাফ : ২৯)
“আল্লাহ তাঁর ঘরসমূহের আদব ও সম্মান বৃদ্ধি এবং তাঁর নাম স্মরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঐ সকল মসজিদে  সকাল ও সন্ধ্যায় লোকেরা তাসবীহ ও পবিত্রতা বর্ণনা করে। ব্যবসা ও বেচাকেনা তাদেরকে আল্লাহর যিকর, নামাজ কায়েম ও যাকাত ঠেকর গাফেল বা উদাসীন করতে পারে না। যেদিন অন্তর ও চোখ উল্টে যাবে সেদিনকে তারা ভয় করে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজ বা আমলের উত্তম প্রতিদান দেবেন এবং তাদের নিজ করুণা থেকে আরো বাড়িয়ে দেবেন। আল্লাহ যাকে চান, তাকে অগণিত রিযিক দান করেন।” (নূর: ৩৬-৩৮)
“মসজিদে আবাদ করা তথা তাতে ইবাদত করার কোনো অধিকার মোশরেকদের নেই। ... তারাই মসজিদে ইবাদত করার অধিকার রাখে যারা অপলাহ ও পরকালের উপর ঈমান আনে, নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায় তারা হেদায়াত প্রাপ্তদের মধ্যে শামিল হবে।” (সূরা তাওবাহ : ১৭-১৮)
মক্কার ১৩ বছরের দাওয়াতী যুগের সমাপ্তির পর মদিনায় হিজরতের মধ্য দিয়ে ইসলামের নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। অনুকূল পরিবেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। নবগঠিত এই রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিল তিনটি:
১. মসজিদ (মসজিদে নববী)
২. মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন।
৩. মদীনা সনদ
ইসলামী হুকুমাতের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল এই মসজিদ। রাসূল (স:) এর যুগ থেকে তার পরবর্তী সময়, এমনকি বর্তমান সময়ে পর্যন্তই ইসলামী সভ্যতার সূচনা ও ক্রমবিকাশে মসজিদ ও মাদ্রাসা ভূমিকা রেখেছে অপরিসীম।
মসজিদ :
‘সেজদাহ’ থেকে মসজিদ শব্দের উৎপত্তি। সেজদাহর অর্থ আল্লাহর দরবারে মাথা নত করা এবং ভূলুণ্ঠিত মস্তকে তাঁর হুকুম মানা। আরবি শব্দের গঠন ও রূপান্তরের নিয়ম অনুযায়ী শব্দটি ‘মসজিদ’ না হয়ে ‘মাসজাদ’ হওয়া দরকার ছিল। যেমন ‘মাকতাল’। কিন্তু ‘মাসজিদ’ হলো কেন? অর্থাৎ জিমের উপর যবর না হয়ে নিচে যের হলো কেন? এই প্রশ্নের জবাবে বলা যায় যে, ‘মাসজিদ’ কেবল নামাযের জায়গাই নয়। শুধু নামাযের জায়গা হলে এটি হতো ‘মাসজাদ’। মূলত মাসজিদের অর্থ আরো ব্যাপক। এতে নামাযসহ আরো বহু কাজের আঞ্জাম দিতে হয়। সেজন্য মসজিদ প্রথম দিন থেকেই মহান আল্লাহর হক ও বান্দার হকের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। মুসলিমদের দৈনিক, সাপ্তাহিক ও বার্ষিক সম্মেলন কেন্দ্রও মসজিদ। এভাবে পাড়া, মহল্লার গন্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করেছে মসজিদ। শুধু জাতিগত ঐক্য নয় বরং আন্তর্জাতিক মুসলিম ঐক্য ও সংহতির পয়গাম বিতরণ করে। এর ফলে বিশ্বের সকল মুসলমানদের একই পরিবারভুক্ত করতে সক্ষম হয়।
মসজিদের ফযীলত ও মর্যাদা :
রাসূল (স:) বলেছেন,
া যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ তৈরি করে, আল্লাহ বেহেশতে তার জন্য একটি ঘর তৈরি করেন। (তাবরানী)
া আল্লাহ বলেন, “মসজিদগুলো যমীনে আমার ঘর। সেগুলোতে ইবাদতকারীরা আমার যিয়ারতকারী। যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয়ে আমার ঘরে এসে যিয়ারত করে তার জন্য সুখবর, যিয়ারতকারী মুমিনদের সম্মান করা মেজবানের দায়িত্ব ও কর্তব্য।” (রেসালাতুল মসজিদ দিল ইসলাম- ড. আব্দুল আযীয মোহাম্মদ, প্রকাশ ১৯৮০)
া আমার সামনে আমার উম্মাহর সওয়াব ও পুরস্কার পেশ করা হয়েছে। এমনকি যে ব্যক্তি মসজিদ থেকে ময়লা-আবর্জনা দূর করে, তার পুরস্কারও পেশ করা হয়েছে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে খোযায়মা)
া হযরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসূল (স:) কে বলতে শুনেছি, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মসজিদ তৈরি করে, আল্লাহ বেহেশতে তার জন্য একটি ঘর তৈরি করবেন। (বুখারী, মুসলিম)
া আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (স:) বলেছেন, যখন তোমরা দেখ কেউ মসজিদে যেতে অভ্যস্ত তখন তার জন্য ঈমানের সাক্ষ্য দাও। (আহমেদ, তিরমিযী)
উপরোক্ত হাদিসগুলো প্রমাণ করে :
া মসজিদে নিয়মিত গমনকারী ঈমানদার হিসেবে বিবেচিত হবে।
া মসজিদ নির্মাণ জান্নাতলাভের কারণ হবে।
া মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নকারী বা তত্ত্বাবধায়কের জন্যেও পুরস্কার থাকবে।
া মসজিদে গমনকারীর প্রতি কদমের বিনিময়ে গুনাহ মাফের নিশ্চয়তা রয়েছে।
বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসূল (স:) বলেন, “যে ব্যক্তি তার বাড়িতে পবিত্রতা অর্জন করলো, অতঃপর ফরয ইবাদত আদায়ের উদ্দেশ্যে আল্লাহর ঘরে (মসজিদে) গেল তার এক কদমের বিনিময়ে গুনাহ মার্জনা হবে এবং ওপর কদমের বিনিময়ে মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।” (আহমেদ, তিরমিযী)
মসজিদের ঐতিহাসিক ভূমিকা :
রাসূল (স:) এর যুগ :
মসজিদে কুবা : ইসলামের প্রাথমিক যুগে সমাজ পরিবর্তনে মসজিদের ভূমিকাই ছিল প্রধান। মসজিদ ছিল একইসাথে দাওয়াতী কাজের প্রাণকেন্দ্র এবং রাষ্ট্রীয় ভবন। দাওয়াতী কার্যক্রম এখান থেকেই পরিচালনা করা হতো। বিভিন্ন বিষয়ের পরামর্শ ও সিদ্ধান্তগ্রহন এখানেই সম্পাদন হতো। রাসূল (স:) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সময় সর্বপ্রথম কুবা পল্লীতে আসেন। বনী আমর বিন খাওফ গোত্রের এ পল্লীতে কয়েকদিন তিনি অবস্থান করেন। এ সময় কুবায় তিনি নির্মাণ করেন ইসলামের প্রথম মসজিদ। এ মসজিদ সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে,
“যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত, তাতেই আপনার নামায পড়া বেশি যুক্তিসংগত। তাতে এমনসব লোক রয়েছেন যারা অধিকতর পবিত্রতা পছন্দ করেন। আল্লাহ বেশি পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন।” (সূরা তওবা : ১০৮)
রাসূল (স:) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঘরে ওযু করে মসজিদে কুবায় এসে নামায পড়ে, সে একটি ওমরাহর সওয়াব পাবে।” (ইবনে মাজাহ)
া মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের পথে মহানবী (স:) কুবায় প্রায় দুই সপ্তাহ অবস্থান করেন। তারপর মদীনা শহরের অভ্যন্তরে পৌঁছার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পথে বনী সালেম পল্লীতে শুক্রবার জুমআর নামায পড়েন এবং জুমআ শেষে তিনি রওনা করেন। তাঁর উট মসজিদে নববীর বর্তমান স্থানে এসে বসে পড়ে। এই স্থানটি ছিল খেজুর শুকানোর স্থান এবং উট-বকরীর আস্তাবল। দুইজন ইয়াতীম শিশু ছিল ওই জায়গার মালিক। রাসূল (স:) ১০ টি সোনার দিনারের বিনিময়ে এ সম্পত্তি কেনেন এবং হযরত আবু বকরকে মূল্য পরিশোধ করার আদেশ দেন। এ যমীনে খেজুর গাছ ও মুশরিকদের কবর ছিল এবং এক অংশ ছিল নিচু। তাতে বৃষ্টির পানি জমে থাকত। তিনি খেজুর গাছ কেটে ফেলেন এবং কবরের হাড় গোড় বের করে অন্যত্র পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেন। নিম্নাংশ ভরাট করেন। ১২ দিন পর্যন্ত তিনি খালি স্থানে নামায পড়েন। তারপর মসজিদ তৈরি করেন। তিনি এবং মোহাজের ও আনসার সাহাবায়ে কেরাম মিলে মসজিদ তৈরি করেন। আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) ছিলেন মসজিদের প্রধান রাজমিস্ত্রি ও নির্মাণ কৌশলী। রাসূল (স:) নিজেও সাহাবায়ে কেরামের সাথে ইট বহন করেন। তিনি নিজহাতে একটি পাথর দিয়ে মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। মসজিদের ভিত্তিতে পাথর, দেয়ালে ইট, চালে খেজুর পাতা ও সুঘ্রাণ ইজখির ঘাস এবং খুঁটিতে খেজুর গাছ ব্যবহার করা হয়। চালের উপর কাদামাটির প্রলেপ দেয়া হয় ঠান্ডার জন্য। ১ম হিজরী সনে নির্মিত মসজিদের আয়তন ছিল ৭০/৬০ গজ বা ৮৫০.৫ বর্গমিটার। উচ্চতা ছিল ২.৯ মিটার। ৭ম হিজরীতে খায়বার বিজয়ের পর ক্রমবর্ধমান মুসল্লির সংকুলানের জন্য মসজিদকে সম্প্রসারিত করা হয়। তখন এর আয়তন দাঁড়ায় ১০০দ্ধ১০০ গজ অর্থাৎ ২০২৫ বর্গমিটার এবং ছাদ ৭ গজ উঁচু করা হয়।
া মসজিদের ভেতর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে রাওদাহ বা বেহেশতের বাগান। রাসূল (স:) বলেছেন, “আমার ঘর ও মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থান হচ্ছে বেহেশতের বাগান।” (বুখারী ও মুসলিম)
া এ মসজিদের ফযীলত সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূল (স:) বলেছেন, “তিন মসজিদ ব্যতীত আর কোনো পবিত্র স্থানে সওয়াবের নিয়তে যেন সফর না করা হয়। সে তিন মসজিদ হচ্ছে মক্কার মসজিদে হারাম, মদীনার মসজিদে নববী এবং জেরুজালেমের মসজিদে আকসা।” (বুখারী ও মুসলিম)
কাবা :
কাবাঘর মুসলমানদের কিবলাহ। যমীনে যখন মানুষ সৃষ্টি করা হয়নি তখন ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে মক্কায় কাবা শরীফ নির্মাণ করে কাবা তাওয়াফ করেন। তারপর যখন হযরত আদম (আ) কর যমীনে পাঠানো হলো, তখন তিনি মক্কায় এই কাবা ঘরকে কেন্দ্র করে আল্লাহর ইবাদত করেন। আল্লাহ ফেরেশতাদের আসমানে মক্কার কাবা বরাবর মসজিদে বাইতুল মামুর তাওয়াফের নির্দেশ দেন। প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা বাইতুল মামুর তাওয়াফ করেন। তারা কাবা তাওফকারীদের জন্য দোয়া করেন।
ফেরেশতা ও আদম (আ) এর তৈরি কাবা নূহ (আ) এর প্লাবনের সময় ধ্বংস হয়ে যায়। তারপর হযরত ইবরাহীম(আ) জিব্রাইল এর ইঙ্গিতে পূর্বের প্রতিষ্ঠিত ভিত্তির উপর দেয়াল নির্মাণ করে কাবা পুনঃনির্মাণ করেন। ইতিহাসে কাবা শরীফ নির্মাণকারীর সংখ্যা ১১ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ৭০ জন ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে রোকনে ইয়ামানিতে। যারা সেখানে এই দোয়াটি পড়বে, ওই ফেরেশতারা আমিন বলবে। কাবা শরীফের এই রোকনে ইয়ামানি অত্যন্ত সম্মানিত। রাসূল (স:) একে হাতে স্পর্শ করেছেন।
কাবা শরীফের দেয়ালের অন্য কোণে রয়েছে হাজরে আসওয়াদ। এটিকে তাওয়াফের সময় চুমু দেয়া সুন্নাত। রাসূল (স:) তাতে চুমু খেয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি বেহেশতের পাথর। এক হাদিসে এসেছে, তাতে ৭০ জন ফেরেশতা নিয়োজিত আছেন। তারা রুকু সেজদাহকারী এবং তাওফকারীদের জন্য গুনাহ মাফ চায়। (আল সালেহী)
অন্য এক হাদিসে এসেছে, “যে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে, সে যেন আল্লাহর সাথে হাত মিলায় এবং মোসাফাহা করে।” (ইবনে মাজাহ)
কাবা শরীফের পেছন দেয়ালে রয়েছে পাপমুক্তির স্থান। এটাকে আরবিতে ‘আল মোস্তাজাব’ বলে। রোকনে ইয়ামানি থেকে কাবা শরীফের পেছনে বিলুপ্ত দরজা পর্যন্ত ৪ হাত জায়গাকে মোস্তাজাব বলে। এখানে দোয়া করলে গুনাহ মাফ হয় এবং দোয়া কবুল হয়।
রাসূলের যুগে মসজিদের ভূমিকা :
১. জ্ঞান সেবা :  মসজিদে নববী ছিল ইবাদত সহমুসলিম মিল্লাতের একটি বহুমুখী প্রতিষ্ঠান বা কর্মশালা। সর্বোপরি তার মসজিদ ছিল ইসলামের সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। এটাই ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখান থেকেই সাহাবায়ে কেরামের শিক্ষার হাতেখড়ি, এখান থেকেই উচ্চ ডিগ্রি লাভ। তারা যা শিখতেন তা অন্যদের পৌঁছিয়ে দিতেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সকলের জ্ঞানগত যোগ্যতা সমান ছিল না। তারানির্বিশেষে ইলম, হেদায়াত, ফযীলত ও শিষ্টাচার অর্জন করেছেন। তবে সবার সমান সুযোগও ছিল না। অনেকেই ছিলেন অভাবগ্রস্ত। ফলে জীবিকার দাবি মেটাতে গিয়ে সবাই জ্ঞান আহরণে সমান সময় দিতে সক্ষম ছিলেন না। অথচ প্রত্যেক সাহাবীই সাধ্যানুযায়ী মসজিদে নববীতে হাজির হওয়ার চেষ্টা করতেন এবং যারপরনাই যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন। এমনকি হযরত ওমর (রা.) তার প্রতিবেশীর সাথে পালাক্রমে মসজিদে নববীতে আসতেন এবং ঐদিনের আলোচনা পরস্পর পরস্পরের থেকে জেনে নিতেন। এভাবে তারা জ্ঞানার্জনের বিষয়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ বিষয়ে বুখারীর অধ্যায়ে বর্ণিত আছে, হযরত ওমর (রা.) বলেন, “আমি এবং আমার আনসার প্রতিবেশী রাসূলুল্লাহ (স:) এর কাছে পালাক্রমে যেতাম। তিনি একদিন এবং আমি অপরদিন যেতাম। আমি যেদিন যেতাম সেদিনের খবর প্রতিবেশীকে জানাতাম এবং তিনি যেদিন যেতেন সেদিনের খবর আমাকে জানতেন।” (বুখারী, ইলম অধ্যায়) (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ