সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

ভূমি নিবন্ধন সেবায় অনিয়ম-দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করছে

গতকাল সোমবার মাইডাস সেন্টারে টিআইবি আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান -সংগ্রাম

# স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতে ১৫ দফা সুপারিশ
স্টাফ রিপোর্টার : টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অবৈধ লেনদেন এবং সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে ঘুষ আদায় করা হচ্ছে। এখাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করছে এবং জবাবদিহিতার যে কাঠামো আছে তা কাজ করছে না। বরঞ্চ অংশীদারিত্ব ও যোগসাজশের মাধ্যমে দুর্নীতি হচ্ছে এবং সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতি বিরাজমান, যার জন্য একধরণের প্রতিষ্ঠিত রূপরেখা তৈরী করা আছে। দলিল নিবন্ধন ও দুর্নীতি সমার্থক হয়ে গেছে মন্তব্য করে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, “আমরা চাই এ খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হোক, জনগণ দুর্নীতি থেকে মুক্ত হোক। তা করা গেলে এখাত থেকে রাজস্ব আদায়ও অনেক বৃদ্ধি পাবে। আমরা মনে করি, কর্তৃপক্ষের স্বদিচ্ছা থাকলে অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার মাধ্যমে খাতটিকে দুর্নীতিমুক্ত করার মত সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব, আর তা করতেই হবে। কোন অপরাধ যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটতে দেয়া হয় তার বিস্তৃতি ও গভীরতা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক, যার ফলাফল হলো দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। এই সেবা খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় অন্যতম উপায় হিসেবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিজিটাইজেশন নিশ্চিত করার সুপারিশ করছে টিআইবি।”
গতকাল সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে টিআইবি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সেবার খাতটা দুর্নীতিতে ভরা। ভূমির দলিল নিবন্ধন সেবা জনগুরুত্বপূর্ণ এবং সরকারের রাজস্ব আহরণের অন্যতম প্রধান উৎস হলেও এই সেবার যুগোপযোগী মানোন্নয়নে আইনি পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইনি জটিলতার কারণেও কিছু অস্পষ্টতা ও বিরোধিতা হয়ে আসছে। হালনাগাদ খতিয়ান সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ হচ্ছে না। এছাড়াও আছে কম জনবল, লজিস্টিকস ও আর্থিক বরাদ্দ এবং দুর্বল অবকাঠামো ও ডিজিটালাইজেশনের ঘাটতি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে সেবাগ্রহীতারদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এই আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে বিভিন্ন অংশে বিভিন্নজনের পারস্পরিক যোগসাজশ থাকায় অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা কাঠামো যৌথভাবে কাজ করছে না। ফলে এর প্রতিটি পর্যায়ে অনিয়ম দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে।
টিআইবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, নকল নবিশ পদে তালিকাভুক্তি এবং নকল নবিশ থেকে স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত অর্থ দিতে হয়। এক্ষেত্রে মেয়র, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর সুপারিশ প্রয়োজন হয়। নকল নবীশ নিয়োগ জেলা রেজিস্ট্রারের এখতিয়ার হলেও এক্ষেত্রে নিবন্ধন অধিদফতরের সিদ্ধান্তই মনোনয়নে প্রাধ্যান্য পায়।
অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে থেকে কোনো চাহিদা না থাকলেও মন্ত্রণালয়-অধিদফতর থেকে নিয়োগের সুপারিশ বা অনুমোদন হয়। সাব-রেজিস্ট্রারসহ অন্যান্য কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতির জন্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের নিয়মবহির্ভূত অর্থের লেনদেন হয়। বর্তমানে সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগ পিএসসির মাধ্যমে হলেও সাব-রেজিস্ট্রারের একাংশ বিভিন্নভাবে নিয়োগ পেয়েছেন।
প্রতিবেদনে উঠে আসে, মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী বিভাগীয় কোটায় ৫ শতাংশ, প্রধান অফিস সহকারী থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। মুজিবনগর সরকার কর্মচারী নিয়োগে ১৯৭ জন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের একাংশের বয়স ১৯৭১ সালে ১৮ বছরের কম ছিল। বিভাগীয় প্রধান অফিস সহকারী থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের একাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এসএসসি পাশ ব্যক্তিও রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। তবে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার পর থেকে লেনদেনের মাত্রা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন একজন সাব রেজিস্ট্রার।
অন্যদিকে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলির জন্য নিয়মবহির্ভূত অর্থের লেনদেন ও প্রভাব বিস্তার বা তদবির করা হয়। বিশেষ করে পছন্দনীয় স্থানে বদলির জন্য বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। নিবন্ধন সেবাও দুর্নীতিপ্রবণ হওয়ায় সাব রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে বদলির বিষয় এবং এক্ষেত্রে লেনদেনের পরিমাণ আরো অনেক বেশি। তাদের বদলির ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৩ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা দিতে হয়। এলাকাভেদে নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেনের পরিমাণ কম-বেশি হয়। ঢাকার আশপাশের এলাকার জন্য ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়মবহির্ভূত অর্থের লেনদেন হয়েছে। আবার সাব-রেজিস্ট্রার থেকে জেলা রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি নিয়মবহির্ভূত অর্থের লেনদেন রয়েছে। নকল নবিশ পদে তালিকাভুক্তি এবং অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রেও নিয়মবহির্ভূত দিতে হয়। নকল নবিশদের তালিকাভুক্তির কাজে যোগদানের জন্য ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দলিল নিবন্ধন ফি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ফলে তারা সহজেই দুর্নীতির শিকার হচ্ছে। ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবা জনগুরুত্বপূর্ণ এবং সরকারের রাজস্ব আহরণের অন্যতম প্রধান উৎস। রাজস্ব আহরণের অন্যতম প্রধান উৎস হওয়া সত্ত্বেও এই সেবার যুগোপযোগী মানোন্নয়নে আইনি, পদ্ধতিগত, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। আর্থিক দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী লেখকদের একাংশের যোগসাজশে কার্যকরতায় ঘাটতি রয়েছে। ভূমি নিবন্ধনে প্রতিটি পর্যায়ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুনীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে এবং সেবাগ্রহীতা, সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবাখাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতে দুটি জিনিসকে গুরুত্ব দেয়া উচিত জানিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি-অনিয়মের সাথে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। কর্তৃপক্ষের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। দুর্নীতির অংশীজনদের নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করা, দুর্নীতিপরায়ণদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সেবাগ্রহীতারা হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন, সরকারের রাজস্ব আহরণ আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
দ্বিতীয়ত প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি ও আধুনিকায়নকে গুরুত্ব দেয়া। যদিও সরকার এই কার্যক্রম গ্রহণ করলেও অগ্রগতি নেই। এক্ষেত্রে ই-নিবন্ধনসহ পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। এটা সম্ভব হলে এই খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমে আসবে।
অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, “দলিল নিবন্ধন সেবার ক্ষেত্রে যেই পরিমাণ চাহিদা আছে, সে তুলনায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি আছে। তদারকির অভাব আছে, যারা তদারকি করছেন তারাও সঠিকভাবে তদারকি করছেন না ইত্যাদি নানা কারণে সেবা দেয়ার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দরকার তার ঘাটতি আছে। আমরা সুপারিশ করেছি যে, দলিল নিবন্ধন সেবার ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিতে অবশ্যই প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।”
সাংবাদিক সম্মেলনে টিআইবি’র পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য ১৫ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: দলিল নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনি ও পদ্ধতিগত সংস্কার এবং আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে; যথাযথ চাহিদা নিরূপণ সাপেক্ষে দেশের সকল সাব-রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, অবকাঠামো, লজিস্টিকস ও জনবল নিশ্চিত করতে হবে; ভূমি নিবন্ধন সেবা সহজীকরণ, জনবান্ধব এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে এই সেবা সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাইজেশন করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে ই-নিবন্ধন ব্যবস্থা দ্রুত চালু করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সকল প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, হালনাগাদ রেকর্ড অব রাইটস বা খতিয়ানের একটি কেন্দ্রিয় তথ্যভা-ার গড়ে তুলতে হবে যা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভা-ারের সাথে সমন্বিত থাকবে এবং প্রতিটি নাগরিকের ভূমির বিদ্যমান খতিয়ানের তথ্য প্রদর্শন করবে। এই তথ্যভান্ডারে সাব-রেজিস্ট্রারদের তাৎক্ষণিক অভিগম্যতা থাকবে; প্রতি বছর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হালনাগাদ আয় ও সম্পত্তির বিবরণ বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশ করতে হবে; কর্মকর্তা-কর্মচারী, নকলনবীশ, দলিল লেখক এবং ভূমি দলিল নিবন্ধনের সাথে সংশ্লিষ্টদের যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে দ্রুততার সাথে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ ২০১৭ সালের খনা জরিপের ফলাফল অনুযায়ী ৪২.৫ শতাংশ খনা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সেবা গ্রহণের সময় দুর্নীতির শিকার হয়েছে এবং এদের মধ্যে ২৮.৩ শতাংশ খনাকে গড়ে ১১ হাজার ৮৫২ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিবন্ধন অধিদপ্তর এর অধীনে ৩৬ লাখ ৭২ হাজার ৬২৮টি দলিল নিবন্ধন হয়েছে। এর থেকে মোট ১২ হাজার ৪৩২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের আগস্ট সময়ের মধ্যে এ গবেষণার তথ্য সংগ্রহ বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪২(১) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তরের অধিকার প্রদান করা হয়েছে। সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। দলিল নিবন্ধনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দলিলের বিশুদ্ধতার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা প্রদান করা; সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পর্কে সর্বসাধারণকে জ্ঞাতকরণ; জালিয়াতি রোধ; কোনো সম্পত্তি পূর্বে হস্তান্তরিত হয়েছিল কি না তা অনুসন্ধানে তথ্য ভান্ডার থেকে সহায়তা প্রদান; এবং স্বত্ত্বের দলিলের নিরাপত্তা প্রদান এবং মূল দলিল খোয়া গেলে বা ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে মূল দলিলের অস্তিত্ব প্রমাণার্থে সহায়তা প্রদান করা।
উপমহাদেশে ১৮৬৪ সালে দলিল নিবন্ধন পদ্ধতির প্রবর্তন হয় এবং পরবর্তীতে ‘নিবন্ধন আইন-১৯০৮’ অনুযায়ী মূল্য নির্বিশেষে সব ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়। নিবন্ধন আইন ১৯০৮ এর ১৭ ধারা অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনযোগ্য দলিলগুলো হচ্ছে মূল্য নির্বিশেষে সব ধরনের স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সাফ কবলা দলিল; হেবা/দানপত্র দলিল; বন্ধকী দলিল; সম্পত্তির বাটোয়ারা দলিল; বায়না চুক্তির দলিল; এওয়াজ বদল দলিল; আমমোক্তারনামা; উইল ইত্যাদি। বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনযোগ্য দলিলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন না হলে ঐ দলিল নিয়ে কোনো আদান-প্রদান প্রমাণিত হয় না।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা পরিচালনা ও প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রোগ্রাম ডেপুটি ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) শাম্মী লায়লা ইসলাম ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) নিহার রঞ্জন রায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ