মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মহররম ও আশুরা প্রসঙ্গ

এস. এম রুহুল আমীন : মহররম শব্দটি আরবী, যার অর্থ পবিত্র ও সন্মানিত, পবিত্র কুরআনে আশহুরুল হুরুম বলতে যে চারটি মাসকে বুঝানো হয়েছে তা হলো জিলক্বদ, জিলহজ্ব, মহররম ও রজব, কাজেই মহররম মাসটি পৃথিবীর শুরু থেকেই পবিত্র ও সন্মানিত সকল ধর্ম-বর্ণ ও গোত্রের কাছে। মহানবী সা. এর হিযরতের মাধ্যমে হিজরী সনের প্রচলন হয় এবং এটি হিজরী সনের প্রথম মাস এবং হিজরী নববর্ষ হিসাবে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম বিশ্বে।
আশুরা ও মহররম মাসটি  কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ : আশুরা অর্থ দশম। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে এ মাসের দশম তারিখ অর্থাৎ আশুরার দিন অনেক ঐতিহাসিক  ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। যেমন : ১. হযরত আদম আ. এর সৃষ্টি, জান্নাতে প্রবেশ করানো এবং জান্নাত থেকে বের হওয়ার পর তাওবা কবুলের দিনটি ছিলো আশুরার দিন।
২. হযরত ইদ্রিস আ. কে আশুরার দিনে চতুর্থ আসমানে তুলে নেন মহান আল্লাহ তা’য়ালা।
৩. হযরত নূহ আ. এর সময় বন্যা শেষ হয় এবং তিনি তাঁর অনুসারীসহ জমীনে অবতরণ করেন।
৪. হযরত ইবরাহীম আ. কে আল্লাহ তা’য়ালা এ দিনেই নমরুদের আগুন থেকে রক্ষা করেন।
৫. হযরত মূসা আ. এ দিনেই আল্লাহর সাথে কথা বলেন এবং এদিনেই তাঁর ওপর তাওরাত নাযিল হয়, তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে নীল নদ পার হন এবং ফিরাউন তার বাহিনীসহ ডুবে মারা যান।
৬. হযরত আইউব আ. ১৮ বৎসর রোগে ভোগার পর আল্লাহর রহমতে আশুরার দিনে সুস্থ হন।
৭. দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর হযরত ইয়াকুব ও তাঁর পুত্র ইউসুফ আ. এর সাক্ষাত হয় এবং ইয়াকুব আ. তার হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন।
৮. হযরত ইউনুস আ. মাছের পেট থেকে মুক্তি পান আশুরার এ মহান দিনে।
৯. হযরত সোলায়মান আ. তাঁর হারানো রাজত্ব ফিরে পান মহররমের দশম তারিখেই।
১০. হযরত ঈসা আ. কে ইয়াহুদীদের কবল থেকে আশুরার দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা আসমানে তুলে নেন।
উপরোক্ত নবী রাসূলের সাথে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি মহান এদিনে আরো ১০টি কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং করবেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা : ১. জমিন সৃষ্টি করেছেন, ২. আসমান সৃষ্টি করেছেন, ৩. আরশ সৃষ্টি করেছেন, ৪. কুরসি সৃষ্টি করেছেন, ৫. কলম সৃষ্টি করেছেন, ৬. লাওহে মাহফুজ সৃষ্টি করেছেন, ৭. এদিনেই প্রথম বৃষ্টি বর্ষিত হয়, ৮. এদিনেই প্রথম আসমান থেকে রহমত নাযিল হয়, ৯. মহাপ্রলয়ের মাধ্যমে পৃথিবী ধ্বংস হবে এদিনে, ১০. আখিরাতে চূড়ান্ত বিচার ফয়সালা শুরু হবে এ দিনে। এসব কিছুই মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দের ও খুশির বিষয় বটে। শোকাবহ ও দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে এ দিনে শাহাদাত বরণ করেন “সাইয়্যেদা শাবাবি আহলিল জান্নাহ’’ হযরত ইমাম হুসাইন রা.।
ঐতিহাসিক কারবালা ও তার প্রেক্ষাপট : মহানবী সা. এর তিরোধানের পর তাঁরই নির্দেশনার আলোকে প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন ইসলামের ত্রাণকর্তা হযরত আবু বকর রা.। তাঁর ইন্তিকালের পর ইসলামের নির্দেশনার আলোকে খলিফা নির্বাচিত হন আমীরুল মু’মিনুন হযরত ওমর ফারুক রা.।
তারা উভয়েই ছিলেন বনু হাশেমীয় বংশের। যদিও মহানবী সা. ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে বিদায় হজ্বের ভাষণে বংশীয় আভিজাত্য ও কৌলিন্য ধ্বংস করে দিয়েছেন। ধ্বংস করেছেন আরবের হাজার বছরের জাহেলি প্রথা। তবুও তাদের মনের মাঝে গোত্রপ্রীতি ও বংশ কৌলিন্যের জাহেলি কিছু বীজ লুকায়িত ছিলো। তার বহি:প্রকাশ ঘটতে থাকে হযরত উসমানের খলিফা নির্বাচনের পর। তিনি ছিলেন উমাইয়া বংশের লোক। কুচক্রীমহলের নির্মম হত্যাকা-ে হযরত উসমান রা. এর শাহাদাতের পর খলিফা নির্বাচিত হন হযরত আলী রা.। ঘটনাচক্রে তিনিও ছিলেন বনু হাশেমীয় বংশের। আরবের জাহেলি প্রথা আবারো মাথাচারা দিয়ে ওঠে। মুসলমানদের একটা বিরাট অংশ হযরত আলী রা. কে খলিফা হিসাবে মেনে না নিয়ে উমাইয়া বংশের সিরিয়ার গবর্নর মুয়াবিয়া রা. কে খলিফা হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। হযরত ওসমান হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে তার বিচারের দাবিতে স্বাভাবিকভাবেই মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত ও বিভক্ত করতে সক্ষম হন। পরিণতিতে হযরত আলী রা. শাহাদাত বরণ করেন এবং মুসলিম উম্মাহর সংকট আরো ঘনিভূত হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে হযরত আলী রা. শাহাদাত বরণ করলে গোত্র কৌলিন্যে বিশ্বাসী হাশেমীয় বংশের কিছু লোক হযরত আলী ইবনে হাসানকে রা. খলিফা মেনে নিয়ে তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। হযরত হাসান রা. এ সংকট এড়াতে এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য অটুট, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় এবং খিলাফতের পদ্ধতি বহাল রাখার মানসে মুসলিম উম্মাহর জাতীয় দুর্যোগ ও সংকট এড়াতে মাত্র ছয়মাস পর তিনি হযরত মুয়াবিয়ার পক্ষে দায়িত্ব ছেড়ে দেন এ শর্তে যে হযরত মুয়াবিয়ার রা. মৃত্যুর পর মুসলিম উম্মাহ স্বাধীনভাবে  ইসলামী ঐতিহ্য ও শরিয়াহ পদ্ধতিতে তাদের আমীর নির্বাচন করবেন। মুসলিম উম্মাহর চরম দুর্ভাগ্য যে, হযরত মুয়াবিয়া রা. শর্ত ভংগ করে জীবিত অবস্থায়ই স্বীয় পুত্র ইয়াজিদকে ক্ষমতা অর্পণ করেন এবং  তার পক্ষে বাইয়াত নিতে থাকেন এর মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে ইসলামের সৌন্দর্য খিলাফাতের এবং উদ্ভব হয় অভিশপ্ত রাজতন্ত্রের।
খিলাফতের পরিবর্তে রাজতন্ত্রের উত্থান বিষয়টিতে অনেক সাহাবার মতো হযরত মুহম্মাদ সা. এর আদরের দৌহিত্র হযরত আলী ও হযরত ফাতিমা রা. এর নয়ণমনি বেহেশতে যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হুসাইন রা. বিষয়টিকে ইসলামের নীতি ও আদর্শের পরাজয় এবং স্বৈরাচারের উত্থান মনে করে তীব্র বিরোধিতা করেন, কারণ তার সামনে ছিলোÑমহানবী সা. এর মহান বানী ও ঘোষণা : হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, ‘আফজালুল জিহাদি মান ক্বলা কালিমাতিন হাক্কু ইনদা সুলতানিন জায়ির বা জালিম ও অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা সর্বোত্তোম জিহাদ।  ইবনে মাজাহ
শুধুমাত্র ইসলামের এ মর্মবাণী অনুসরণ করে নির্লোভ ও নির্মোহ হযরত ইমাম হুসাইন রা. হযরত মুয়াবিয়া বিন ইয়াজিদের হাতে বাইয়াত নিতে অস্বীকার ও বিরোধিতা করেন। তার সাথে যোগ দেন প্রিয় নবীর অগণিত ও অসংখ্য সাহাবী। বিশেষভাবে কুফার মুসলমানগণ হযরত ইমাম হুসাইনকে রা. কুফায় আহ্বান জানান এবং খিলাফতের দায়িত্ব নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কুফাবাসীদের বার বার আমন্ত্রণে এবং মুসলিম উম্মাহর সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি উৎসাহ বোধ করেন ও কুফায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
কুফার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করার জন্য তিনি স্বীয় চাচাতো ভাই মুসলিম বিন আকিলকে কুফায় প্রেরণ করেন। মুসলিম বিন আকিল কুফার জনগণের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করে পরিস্থিতি অনুকূল বলে হযরত ইমাম হুসাইনকে রা. সংবাদ পাঠান।
ইমাম হুসাইন রা. পরিবারের নারী শিশুসহ মাত্র ৭৪ জন সঙ্গী নিয়ে বর্তমানের ইরাক তথা কুফায় যাত্রা করেন। পথিমধ্যে তিনি সরকারি বাহিনী প্রধান উমর ইবনে সা’দ কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হন। কুফাবাসী সবসময় মুসলিম বিন আকীলের পক্ষে থাকলেও বেইমানী করে তার সঙ্গ ত্যাগ করে এবং কুফার বিশ্বাসঘাতক গবর্নর উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদ মুসলিম বিন আকীলকে হত্যা করেন। ইমাম হুসাইন রা. পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মারমুখি সরকারি বাহিনীকে জানিয়ে দেন কোনো ক্রমেই যুদ্ধ তাদের উদ্দেশ্য নয় বরং শান্তি প্রতিষ্ঠা তাদের কাম্য। সরকারি সেনাবাহিনী প্রধান উমর ইবনে সা’দের সাথে তিনি আন্তরিক পরিবেশে সংলাপে বসেন এবং যুদ্ধ নয় শান্তি এ মর্মবাণী প্রতিষ্ঠার জন্য তিনটি প্রস্তাব পেশ করেন।
১. যেখান থেকে এসেছেন সেখানে অর্থাৎ মক্কায় ফেরৎ যাওয়ার সুযোগ দেয়া হোক।
২. সরাসরি ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হোক।
৩. যোকোনো মুসলিম রাষ্ট্রে হিজরতের সুযোগ প্রদান করা হোক।
এ সংবাদ উমর ইবনে সা’দ কুফার গবর্নর ইবনে জিয়াদের কাছে পাঠালে তিনি অনেকটা নমনীয় হন। কিন্তু বাধ সাধেন কাছেই থাকা সিমার ইবনে যিল জাওশান। সে বলে ওঠলো, হুসাইনকে কমসংখ্যক জনবলসহ হাতের মুঠোয় পেয়ে ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না। আমি দেখছি সুযোগ পেলে সে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে এবং কালক্রমে আমাদের জাতীয় শত্রু হবে।
ইবনে জিয়াদ কঠোরতা অবলম্বন করে সিমারের মাধ্যমে জানিয়ে দিলো উমর ইবনে সা’দকে। হযরত হুসাইন ও তার সাথীরা চাইলে আমার সাথে সাক্ষাত করবে অথবা তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র চালাবে। এ কথা শুনে হযরত ইমাম হুসাইন রা. ইবনে আলী রা. কে বললেন - ‘এ অপমানের পূর্বে আমার মৃত্যু হবে শ্রেয়’।
অবস্থার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে হযরত জয়নব বিনতে আলী রা. ব্যাথাতুর মন ও ব্যাকুল হৃদয়ে কান্না শুরু করেন। তাকে উদ্দেশ্য করে হযরত হুসাইন রা. অসিয়ত করলেন- “আল্লাহর দোহাই দিয়ে আমি তোমাকে অসিয়ত করে যাচ্ছি, আমার শাহাদাতের পর শোকে মুহ্যমান হয়ে কাপড় ছিড়া, মাতম করা, উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করার মতো যাবতীয় শরিয়াহ নিষিদ্ধ কাজ কঠোরভাবে বর্জন করবে।’’
৬১ হিজরীর ১০ মহররম শুক্রবার মতান্তরে সোমবার ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ অক্টোবর ৫০ বছর বয়সে ৩৩টি বর্ষা ও ৩৪টি তরবারির আঘাতে কুফার গবর্নর ইবনে জিয়াদের বাহিনীর সম্মিলিত হামলায় বিশেষ করে সিনান ইবনে আনাস আশযায়ীর বর্ষার আঘাতে সালাতুল যোহরের পর শহীদ হন সত্যের সেনানী হযরত ইমাম হুসাইন রা.। ফোরাত নদীর তীরে কারবালা নামক প্রান্তরে অসম এ যুদ্ধে আহলে বাইত ও ইমাম হুসাইনের পক্ষে ৭২ জন শহীদ হন যার মধ্যে ১৮ জন তার আত্মীয়স্বজন এবং বাকীরা বনু হাশিম গোত্রের লোক আর ইয়াজিদের পক্ষে নিহতের সংখ্যা ৮৮ জন।
অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে ইমাম হুসাইন রা. পরিচয় দিয়েছিলেন আপসহীন এক বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের।
আশুরার মর্যাদা : হযরত কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. বলেছেন, কোনো ব্যক্তি আশুরার দিন রোজা রাখলে আল্লাহ তা’য়ালা তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেন। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সা. বলেছেন, রমজান মাসের রোজার পরে মহররম মাসের ১০ তারিখের রোজার স্থান। ফরজ সালাতের পরে স্থান আশুরার রাতের নফল সালাত। মুসলিম। হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. আশুরার রোজা রাখলেন এবং সাহাবাদের রাখতে আদেশ করলেন। সাহাবাগণ বললেন- হে আল্লাহর রাসূল, ঐ দিনকে ইয়াহুদি ও নাসারারা খুবই গুরুত্ব দেন। রাসূল সা. তখন বললেন, যদি আমি আগামী বছর বেঁচে থাকি তবে ১০ তারিখের রোজার সঙ্গে ৯ তারিখের রোজাও রাখবো। মুসলিম শরীফ। তাই ৯-১০ অথবা ১০-১১ই মহররম রোজা রাখার চেষ্টা করতে হবে।
মহররম ও আশুরায় বর্জনীয় : মহানবী সা. নির্দেশিত নফল সালাত ও সাওম ছাড়া মহররম ও আশুরা উপলক্ষে সাওয়াব মনে করে নিন্মোক্ত কাজ করা গুনাহের  এবং সর্বাবস্থায় বর্জন করা অবশ্যকর্তব্য: ১. শোক পালন করা ২. কালো পোশাক, কালো পতাকা, কালো ব্যাজ ধারণ বা ব্যবহার করা ৩. শোক পালনে মর্সিয়া পাঠ ও জারি গান গাওয়া ৪. ঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাজানো ৫. তাজিয়া বাজানো ও তাজিয়ার কাজে অংশ নেয়া ৬. বুক চাপড়ানো ও ছুরি মারা ৭. তাজিয়ার সামনে সিজদা ও স্পর্শ করা ৮. তাজিয়ার নামে মান্নত ও দান- সাদাকাহ করা ৯. আশুরার দিন ভিক্ষা করা ১০. আশুরার দিন খিচুড়ি পাক করা ও খাওয়ানো ১১. আশুরার দিন মিছিল ও শরবত পান করানো ১২. আশুরা উপলক্ষে মিলাদের আয়োজন করা ১৩. আশুরা উপলক্ষে চাঁদাবাজি করা ১৪. আশুরার দিন মোরগ জবাই করা ১৫. আশুরার দিন সুরমা লাগানো ১৬. আশুরার দিন খিজাব লাগানো ১৭. আশুরা উপলক্ষে বিয়ে-শাদী, খাতনা  ইত্যাদি করানো।
মহররম ও আশুরার চেতনা এবং করণীয় : রাসূল সা. এর হাদীস অনুযায়ী রোজা রাখা ও নফল সালাত আদায় করা। ইসলাম এবং মুসলিম উম্মাহ তথা কুরআন সুন্নাহর বিপরীত কথা ও কাজের বিরুদ্ধে কাজ হযরত হুসাইনের  অনুসরণে জীবন ও সম্পদ বাজি রেখে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা, প্রয়োজনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় জীবন বিলিয়ে দিয়ে শাহাদাতের নজরানা পেশ করা। কবি বলেছেন :  “ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যাঁয়
হ্যার কারবালা কি বাদ।’’
এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় চেতা হওয়া এবং দৃঢ় কন্ঠে বলা
শির দেগা, নেহি দেগা আমামা।
যেমনটি করতে বলেছেন আমাদের প্রিয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার মহররম কবিতায়
কত মহররম এলো, গেলো চ’লে বহুকাল-
ভুলিনি গো আজো সেই শহীদের লহু লাল!
মুসলিম! তোরা আজ ‘জয়নাল আবেদীন,’
‘ওয়া হোসেনা-ওয়া হোসেনা’ কেঁদে তাই যাবে দিন!
ফিরে এলো আজ সেই মহররম মাহিনা, -
ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহিনা।
উষ্ণীষ কোরআনের, হাতে তেগ আরবির,
দুনিয়াতে নত নয় মুসলিম কারো শির-
তবে শোন ঐ শোন বাজে কোথা দামামা,
শমশের হাতে নাও, বাঁধো শিরে আমামা!
বেজেছে নাকাড়া, হাঁকে নকীবের তুর্য,
হুঁশিয়ার ইসলাম, ডুবে তব সূর্য!
জাগো, ওঠো মুসলিম, হাঁকো হায় দরি হাঁক,
শহীদের দিনে সব লালে- লাল হ’য়ে যাক!
নওশার সাঁজ নাও খুন-খচা আস্তিন,
ময়দানে লুটাতে রে লাশ এই খাস দিন!
-লেখক : প্রবন্ধকার ও শিশু সাহিত্যিক

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ