রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জ্ঞান আহরণে সিঙ্গাপুরে মেয়র খোকন

স্টাফ রিপোর্টার : মশাবাহিত বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা জানতে সিঙ্গাপুরে গেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, রোববার রাতে মেয়র সিঙ্গাপুরে পৌঁছান, ফিরবেন এ সপ্তাহের ‘শেষ দিকে’। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই এক দফা সিঙ্গাপুর ঘুরে এসেছেন মেয়র খোকন; তবে তার সেই সফর ছিল চিকিৎসার জন্য। এবারের সফরে দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদও মেয়রের সঙ্গী হয়েছেন। তারা দু‘জনই প্রেষণে এ সংস্থায় কর্মরত। তাদের মধ্যে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ আছে আর হাতে গোনা কয়েকমাস। এরপরই তিনি পিআরএল এ যাবেন। যার কারণে তার এ সংস্থায় থাকা হবে না। আর দ্বিতীয়জন সেনা বাহিনী থেকে প্রেষণে এ সংস্থায় এসেছেন। প্রেষণ শেষ হলে তিনিও তার বাহিনীতে ফিরে যাবেন। তারা দু‘জনই যে অভিজ্ঞতা অর্জন শেষে সংস্থায় ফিরে আসবেন,তা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারবেন-আর কতটুকুই ঢাকাবাসীর কাজে আসবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের অভিমত, সংস্থার স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেলে নাগরিকদের উপকারে আসতো বেশি।
মেয়রের সফরের বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে 'কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট' নামে নতুন একটি বিভাগ খুলবে ডিএসসিসি।“এ বিভাগ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে উপযুক্ত জনবল নির্ধারণ, কর্মপদ্ধতি জানা, কারিগরিসহ পরিবেশগত নানা বিষয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্যক অবগত হওয়ার অংশ হিসেবে তিনি সিঙ্গাপুর গমন করেছেন।”
এই সফরে মেয়র খোকন সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন; কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেবেন; পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত সামগ্রিক বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন এবং কারিগরি ও আইনগত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এবার বর্ষার শুরুতে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ক্রমশ তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। এ বছর এ পর্যন্ত পৌনে এক লাখ মানুষ মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমে শিথিলতার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন মশা মারতে যে ওষুধ দিচ্ছে তা কার্যকর নয় বলে আইসিডিডিআর,বির গবেষণায় উঠে আসে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে মেয়র খোকন অভিযোগ তুলেছিলেন, ডেঙ্গু নিয়ে ‘ছেলেধরার মত’ গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তবে তিন দিন পর তিনি নিজেও স্বীকার করেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক'।
এ নিয়ে সমালোচনা আর উদ্বেগের মধ্যে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়। পরে কোরবানির ঈদের আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন চীন থেকে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভারত থেকে নতুন ওষুধ নিয়ে আসে।
অগাস্টের মাঝামাঝি সময় কোরবানির ঈদের পর থেকে হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। গত ১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সিটির বাজেট ঘোষণার অনুষ্ঠানে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহকে লক্ষ্য ধরে তারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন, এজন্য ডেঙ্গুর প্রকোপও কমেছে।
২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মশা মারতে বরাদ্দ ধরেছে ৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের দ্বিগুণের বেশি।
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, “বছরজুড়ে মশক নিধন বিষয়ে গবেষণা ও মশার প্রকৃতি সম্পর্কে জেনে সে অনুযায়ী ওষুধ নির্বাচনসহ নানাবিধ কাজ সম্পাদনের জন্য একটি পৃথক বিভাগ খুলে উপযুক্ত জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়ছে। এজন্য মশক নিয়ন্ত্রণ খাতে বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।”
মশা নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সিঙ্গাপুর সফরের পরিকল্পনার কথা এ মাসের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালের কথায় জানা যায়। ৪ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “তারা সিঙ্গাপুরে যাবেন। সিঙ্গাপুরের একটি প্রকল্প আছেৃ তারা গর্ত করে সব মশা আকৃষ্ট করে সেখানে আনে, তখন সব মশা একসঙ্গে মারা হয়। আমাদের আগে মশা তাড়ানো হতে, তাতে লাভ বেশি হয়নি।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ