রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

হিমায়িত গরুর গোশত আমদানি বন্ধের দাবি উৎপাদনকারীদের

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আহকাবসহ কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বিদেশ থেকে হিমায়িত গরুর গোশত আমদানি প্রসঙ্গে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আহকাবের সভাপতি ডা. এস নজরুল ইসলাম -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিদেশ থেকে গরুর গোশত আমদানি হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উদ্যোক্তা-খামারিরা। বিদেশ থেকে গরুর গোশত আমদানি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, উৎপাদনকারী, খামারি ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা। তাই সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে হিমায়িত গরুর গোশত আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন দেশিয় গোশত উৎপাদনকারীরা। বাংলাদেশের স্বার্থে বিদেশ থেকে হিমায়িত গরুর গোশত আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ১০টি অ্যাসোসিয়েশন।
গতকাল সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- এনিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আহকাব) সভাপতি ডা. এম নজরুল ইসলাম, প্রাক্তন সভাপতি মোমিন উদ দৌলা, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের (বিভিএ) মহাসচিব ড. মো হাবিবুর রহমান মোল্লা, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মাসের (বিডিএফএ) মহাসচিব শাহ ইমরান, বেঙ্গল মিটের হেড অব কমার্শিয়াল অ্যান্ড এক্সপোর্ট সাইদুল হক ভূইয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফ আহমেদ চৌধুরী।
এক পরিসখ্যান তুলে ধরে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, জনপ্রতি দৈনিক ১২০ গ্রাম  গোস্তের চাহিদা হিসেবে বার্ষিক মোট চাহিদা ৭২ দশমিক ৯৭ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি থেকে গোশত উৎপাদিত হয়েছে ৭৫ দশমিক ১৪ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ২ দশমিক ১৭ লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত হয়েছে। এর মধ্যে গরু-ছাগলের গোশত উৎপাদনের ৫৫ শতাংশ। তারা বলেন, দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিদেশ থেকে হিমায়িত গরুর গোশত আমদানি-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা বর্তমান সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দেশিয় খামারি, উৎপাদনকারি ও সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু তাই নয় পরিবেশ ও কৃষিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিদেশ থেকে অবাধে হিমায়িত গরুর গোশত আমদানি করলে দেশীয় উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক খামারিরা চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এর ফলে বিশাল যুব সমাজ তথা উদ্যোক্তা বেকার হয়ে পড়বে। যার প্রভাব পড়বে গ্রামীণ অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিখাতে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডেইরি ও ক্যাটল শিল্প একটি বিকাশমান শিল্প। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে অদ্যাবধি যতটা প্রবৃদ্ধি অর্জন করার কথা ছিল তা সম্ভব হয়নি শুধুমাত্র বিদেশি গরুর অবাধ বাণিজ্যের ফলে। ডেইরি ও ক্যাটল শিল্প বাংলাদেশের মৌলিক শিল্প। মৌলিক শিল্পে বিদেশি আমদানি নির্ভরতা গ্রহণযোগ্য নয়। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে গ্রাম বাংলার কোটি কোটি পরিবার ও খামারির জীবন-জীবিকা।
নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ভোক্তার প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে স্বাবলম্বিতা অর্জনের ক্ষেত্রে এদেশের আপামর খামারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জনপ্রতি দৈনিক ১২০ গ্রাম মাংসের চাহিদা হিসেবে বার্ষিক মাংসের চাহিদা ৭২ দশমিক ৯৭ লাখ মেট্রিক টন। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি থেকে মোট গোশত উৎপাদিত হয়েছে ৭৫ দশমিক ১৪ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ২ দশমিক ১৭ লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত। এর মধ্যে গরু-ছাগলের গোশত মোট উৎপাদনের ৫৫ শতাংশ। সরকারি তথ্যমতে আমরা ইতোমধ্যে প্রাণিজ আমিষে স্বাবলম্বিতা অর্জনে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বিদেশ থেকে হিমায়িত গরুর গোশত আমদানি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। দেশের বৃহত্তর জনগণের স্বার্থে আমরা হিমায়িত গরুর গোশত আমদানির প্রক্রিয়াটি বন্ধ করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জান
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ডেইরি ও ক্যাটল শিল্প বাংলাদেশের একটি মৌলিক শিল্প। মৌলিক শিল্পে বিদেশি আমদানি নির্ভরতা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে গ্রামবাংলার কোটি পরিবার ও খামারিদের জীবন-জীবিকা। বর্তমানে ডেইরি ও ক্যাটল শিল্প বিকশিত হতে শুরু করেছে। অনেক শিক্ষিত যুবক ও নারী এ শিল্পে আত্মনিয়োগ করেছেন। যার ফলে গেল কোরবানির সময় দেশীয় গবাদিপশুর মাধ্যমে সম্পূর্ণ সম্ভব হয়েছে। বর্তমান অবস্থা বহাল থাকলে আগামীতে গরুর গোশত বিদেশেও রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, যেখানে বেঙ্গল মিট গোশত রফতানি করে সেখানে আমদানি কেন? এটি হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, খামারি ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। একই সঙ্গে গোখাদ্যের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ