শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

টেস্টের হতাশাজনক হার ভুলে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নজর দিতে চাই -সাকিব

স্পোর্টস রিপোর্টার : চট্টগ্রামে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের জেতার সম্ভাবনা ছিল না কোনোভাবেই। তবে ড্র’ই হতে পারতো জয়ের সমান। বৃষ্টির আশীর্বাদে সাকিবদের পক্ষেই যাচ্ছিল চট্টগ্রাম টেস্ট। কিন্তু পঞ্চম দিনের শেষ বিকেলে বৃষ্টি থেমে খেলা শুরু হলে ইতিহাস গড়ায় সুযোগ হয় আফগানিস্তানের। সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় টেস্টে দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। বাংলাদেশকে তারা হারিয়েছে ২২৪ রানে। তবে ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটের নবীন সদস্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরে স্বভাবতই হতাশ বাংলাদেশ। যদিও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এই হার ভুলে সামনের ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে নজর দিতে চান। ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক পিচ বানিয়ে নিজেদের সুবিধা করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু উল্টো আফগানিস্তানকে সহয়তা দিয়েছে এই পিস। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া রশিদ খানের ম্যাচে  মোট উইকে ১১। বিপরীতে দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান হলো ৫২। প্রায় ২০ বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে হার মেনে নেওয়াটা সত্যিই কঠিন। সাকিব কতটা হতাশ তা পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে সাকিবের কথা বলার সময়ই তার চোখেমুখে ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশ অধিনায়কের বলেন, ‘আমার মতে, আমাদের ব্যাটসম্যান ও আফগানিস্তানের  বোলিংয়ের একটা সংমিশ্রণ ঘটেছে এই টেস্টে। ভালো ও ধারাবাহিক দল হতে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করা জরুরি। ২০ বছর ধরে খেলার পর তো আর বলতে পারি না যে, আমরা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি।’ প্রায় ৬ মাস পর প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। এ বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফরের পর লম্বা ফরম্যাটের ক্রিকেটে নামা হয়নি টাইগারদের। হারের একটা কারণ হিসেবে এই ‘বিরতি’কে সামনে আনলেও আফগানিস্তানের পারফরম্যান্সকে খাটো করেননি সাকিব। তিনি বলেন,‘অনেকদিন পর আমরা টেস্ট খেলতে নেমেছিলাম, তবে আফগানিস্তানকে ক্রেডিট দিতেই হবে।’ টেস্টে হারলেও জিম্বাবুয়ে ও আফগানদের নিয়ে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে নজর দিতে চান এই অলরাউন্ডার। সাকিব বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব এই ম্যাচ ভুলতে হবে এবং নজর দিতে হবে টি- টোয়েন্টি সিরিজে। এই ফরম্যাটে (টি-টোয়েন্টি) আফগানিস্তান খুবই ভালো দল। সামনের বছরই টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, তাই টি-টোয়েন্টিতে নজর দেয়াটা জরুরি।’ সংবাদ সম্মেলনে এসেও একই কথা বললেন সাকিব। নিজ দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের বিপরীতে কোনো যুক্তি না দেখিয়ে, সরাসরি মেনে নিয়েছেন নিজেদের ব্যর্থতার কথা।  এমন এক ম্যাচে নিজ দলকে ১০০’তে কত দেবেন অধিনায়ক সাকিব? প্রশ্ন শুনে খানিক  ভেবে সাকিবের এক শব্দের উত্তর, ‘জিরো’। কিন্তু প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে কত দেবেন সাকিব? যারা রীতিমতো পুরো ম্যাচে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদশকে, ডমিনেট করেছে প্রায় সব সেশনে। টেস্ট ক্রিকেটে মাত্র তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে এমন পারফরম্যান্সের পর আফগানদের লেটার মার্ক দিতে কোনো দ্বিধা নেই সাকিবের। তিনি বলেন, ‘ওরা যেভাবে  খেলেছে, আমরা যেহেতু ওদের কোনো চাপেই ফেলতে পারিনি। তাতে অবশ্যই আফগানিস্তান লেটার মার্কই প্রাপ্য।’ একই সঙ্গে সাকিব জানিয়ে  দেন এ ম্যাচের পরাজয়টি  দেশের ক্রিকেটের জন্য খারাপেরও নিচেই থাকবে। তার ভাষ্যে, ‘(এমন পরাজয়) খুবই খারাপ, অনেক বেশি খারাপ। খারাপের চেয়ে নিচে যদি কিছু থাকে তাহলে সেটাই। এটা অনেক বেশিই হতাশাজনক। যত নেতিবাচক বলা যায় আসলে বলতে পারেন।’ মিরাজের বাজে রিভিউয়ের ব্যাপারে আক্ষেপ শোনা গেলো টাইগার অধিনায়কের কণ্ঠে। রশিদ খানের করা ইনিংসের ৫৬তম ওভারের তৃতীয় বলে নিশ্চিত এক লেগ বিফোরের সিদ্ধান্তের বিপরীতে রিভিউ নিয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। যা ছিলো বাংলাদেশের শেষ রিভিউ। সঙ্গত কারণেই সে রিভিউটি হারায় বাংলাদেশ।

রশিদের পরের ওভারেই তাইজুলের বিপক্ষে ভুল সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার পল উইলসন। ব্যাটে লেগে প্যাডে লাগার পরও তাইজুলকে লেগ বিফোর আউট দেন তিনি; কিন্তু রিভিউ শেষ হওয়ায় তা নিতে পারেননি তাইজুল। এ বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘আবার তাইজুলের আউটটা দেখেন, ব্যাটে লেগে প্যাডে লাগলো। কিন্তু মিরাজেরটা দেখেন! এটা  যে একদিন ক্রিকেট খেলেছে তারও বুঝতে পারার কথা যে নিশ্চিত আউট ছিল। তো ও যদি রিভিউটা না নিতো এবং সেটা পরে তাইজুল নিতে পারতো। এটা আমাদের অনেক সাহায্য করতো। কারণ প্রথম ইনিংসে অনেকক্ষণ ব্যাটিং করেছিল, বেশ কিছু ভালো ডিফেন্সও করেছিল।’ তবে এমন ভুলভ্রান্তিগুলো ক্রিকেটে হয় বলেই জানিয়ে দেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ভুলভ্রান্তিগুলো আসলে হয়। কিংবা ধরেন, সৌম্য রানটা নিয়ে মাথায় হাত দিলো, তার মানে কোথাও ভুল ছিল, ও বুঝতে পারছে না যে ওর কাজটা কি। এখন এই জিনিসগুলো অনেক কিছু বোঝার আছে, অনেককিছু শেখার আছে। এখন কতদিন যে লাগবে শিখতে, এটাও একটা বড় ব্যাপার।’ শেষ দিন জয়ের জন্য আফগানিস্তানের লাগত মাত্র চার উইকেট। বৃষ্টিতে প্রায় পুরোদিনই  ভেস্তে গিয়েছিল। হার এড়াতে সাকিবদের মাঠে থাকতে হতো ৭০ মিনিট।  কিন্তু সাকিব,  সৌম্য, মিরাজ, তাইজুলরা পারেননি দলের হার এড়াতে। এ হারের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে দশ দলের বিপক্ষে হারের লজ্জার রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এমন অভিজ্ঞতা হয়নি অন্য কারো। তবে এমন হারকে লজ্জাজনক বলতে নারাজ। তবে কষ্টটা সাকিব  গোপন রাখলেন না। সাকিব বলেন, ‘একটুও লজ্জাজনক বলে আমার কাছে মনে হয় না।  কষ্টদায়ক অবশ্যই।  এভাবে আমরা হারব আমরা চিন্তা করিনি। আসলে এমন পারফরম্যান্স হয়েছে যে হারাটা স্বাভাবিক। ওদের ক্রেডিট দিতে হবে অবশ্যই। ওরা ভালো খেলেছে। আমরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ