মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কুয়েটে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

খুলনা অফিস : বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অভিন্ন নীতিমালা ও বেতন-ভাতার সুবিধা সংকোচনের প্রতিবাদে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধেও ভাস্কর্য দুর্বার বাংলার পাদ দেশে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. পিন্টু চন্দ্র শীল এর সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মো. মোস্তফা সারোয়ার, প্রফেসর ড. শিবেন্দ্র শেখর শিকদার, প্রফেসর ড. মো. শাহজাহান আলী, প্রফেসর ড. সোবহান মিয়া, সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হেলাল-আন-নাহিয়ান, সহকারী অধ্যাপক মাসরুরা মোস্তফা প্রমুখ। 

এ সময় বক্তারা বলেন, মান সম্মত শিক্ষার জন্য মেধাবী শিক্ষক প্রয়োজন। শিক্ষকতার জন্য মোধাবীদেরকে আকৃষ্ট করাও প্রয়োজন। পত্রিকান্তওে প্রকাশিত সমন্বিত শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা/বিধিমালা নামে যেটি এ বিশ্ববিদ্যালয় তথা সমজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপিয়ে দেবার যে প্রচেষ্টা হচ্ছে তা মেধাবীদেরকে এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশায় আকৃষ্ট না করে বরং দূরে ঠেলে দেবে। ইতোপূর্বে কুয়েট শিক্ষক সমিতি এ সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা/বিধিমালা প্রত্যাখান করেছিল তারপরও একই রকমভাবে সেটি বিধিমালা/নীতিমালা আকারে একটা স্বায়ত্ব শাসিত বিশ^বিদ্যালয়ের উপর চাপিয়ে দেবার যে প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে কুয়েট শিক্ষক সমিতি তার ঘোর বিরোধিুা করে এধরণের পদক্ষেপনা নেবার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে। বক্তারা আরো বলেন, মানসম্পন্ন প্রকৌশলী তৈরির ক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষকের প্রয়োজনীয় তা অনস্বীকার্য। মেধাবী ছাত্রদেরকে শিক্ষকতা পেশায় আনতে গেলে কিছু অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে অর্থ মন্ত্রনালয়ের আদেশ ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অগ্রীম/অনুপার্জিত বেতন বৃদ্ধি পেয়ে আসছিলেন। পরবর্তিতে কয়েকটি পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলেও ঐ আদেশের কোনো পরিবর্তন ঘটানো হয়নি। এতে করে মেধাবী শিক্ষকরা উচ্চশিক্ষা শেষে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিজ প্রতিষ্ঠানে ফেরত এসেছেন। হঠাৎ করেই ২০১৫ এর পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর ঐ সুবিধা বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে ।

এবং অনাকাঙ্খিতভাবে ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রনালয় কর্তৃক এক চিঠির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউ. জি. সি.)-কে এ তথ্য জানানো হয়। এতে করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ মোধাবী ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। কুয়েট শিক্ষক সমিতি শিক্ষকদের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করছে। অন্যথায় শিক্ষক সমিতি ক্লাস বর্জনের মতো কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ