বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

টেস্টে তাইজুলের দ্রুততম ১০০ উইকেটের রেকর্ড

স্পোর্টস রিপোর্টার : টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ১০০ নেওয়ার রেকর্ড গড়লেন তাইজুল ইসলাম। গতকাল চট্টগ্রামে ইহসানউল্লাহ জানাতকে সরাসরি বোল্ড করে দারুণ কীর্তি গড়েন এই বাঁহাতি। এই কীর্তি গড়তে তিনি পিছনে ফেলেছেন সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ রফিককে। মাত্র ২৫ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করে দ্রুততম বাংলাদেশি হিসেবে উইকেটের ‘সেঞ্চুরি’ পূরণ করলেন তিনি। এই কীর্তি গড়া অন্য দুইজন হলেন সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ রফিক। তিনজনই বাঁহাতি স্পিনার। সাকিব ২৮ ম্যাচ খেলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। ২০১২ সালে খুলনা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ড্যারেন সামিকে ফিরিয়ে শততম উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সাবেক বাঁহাতি স্পিনার রফিক শততম উইকেট নিতে খেলেছেন ৩৩ ম্যাচ। ২০০৮ সালে এই চট্টগ্রামেই দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার রবিন পিটারসনকে ফিরিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি। পরে ইব্রাহিম জাদরানকে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানিয়ে রফিককে (১০০) টপকে শীর্ষ বাংলাদেশি টেস্ট বোলারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে যান তাইজুল। সবার ওপরে থাকা সাকিব ২০৫ উইকেট পেয়েছেন। এ ম্যাচের আগে তাইজুল ২৪ টেস্টে ৯৯ উইকেট পেয়েছিলেন। যেখানে তার ইকোনোমি ছিল ৩.২০ ও বোলিং গড় ৩১.০৪। 

এক ম্যাচে সেরা বোলিং ফিগার ১৭০ রানে ১১ উইকেট। আর এক ইনিংস ৩৯ রানে ৮ উইকেট। পাঁচ উইকেট পেয়েছেন ৭বার ও ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন একবার। গতকাল মিডিয়া প্রান্ত থেকে বল হাতে ইনিংসের সূচনা করেছিলেন তাইজুল ইসলাম। এরপর থেকে অপর প্রান্তে দুই স্পেলে বোলিং করলেন সাকিব আল হাসান, তার মাঝে এসে করে গেলেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান; কিন্তু একপাশে টানা বল করে গেছেন তাইজুল। যার সুফলও পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথম ঘণ্টায় ইহসানউল্লাহ জানাতকে আউট করে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেয়ার পর, দ্বিতীয় ঘণ্টায় অপর ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানকেও সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন তাইজুল। সকালের সেশনে পাওয়া দুই উইকেটে দু’টি রেকর্ড হয়েছে তাইজুলের। টেস্টের প্রথম দিন শেষে তাইজুল বলেন, ‘আমরা এখনো ঠিক জায়গায় আছি। উইকেটের অবস্থা যেকরম, খারাপ হয়েছে বলব না।’ উইকেট বিবেচনায় তাইজুল বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখলেও আফগানিস্তান বিশাল লক্ষ্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, আপাতদৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে। ৫ উইকেটে ২৭১ রান তুলে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। সেঞ্চুরি পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন আসগর আফগান। আরেক ব্যাটসম্যান আফসার জাজাইও উইকেটে থিতু হয়েছে। তাদেরকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ লক্ষ্য নাগালে রাখতে পারবে? তাইজুল বলেন, ‘আমরা যদি ১০ রানে ৫ উইকেট তুলে নিতে পারি তাহলে তো আলহামুদিল্লাহ।’ ক্রিকেটে এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটতেই পারে। তাইজুলও এমনটার প্রত্যাশায়, ‘ক্রিকেটে মিরাকেল যে নেই তা কিন্তা না। কখনো হয়নি এমনটাও না। হতেই পারে। এটাও অস্বাভাবিক না। ’ নাঈম চা-বিরতির পর এক ওভারে ফিরিয়েছেন সেঞ্চুরিয়ান রহমত শাহ ও মোহাম্মদ নবীকে। তাইজুল দিনের প্রথম সেশনে দুই উইকেট পেয়েছেন দ্রুত সময়ে। বাঁহাতি স্পিনার এমন কিছুর প্রত্যাশায় রয়েছেন। তবে নিজেদের প্রথম দিনের প্রাপ্তিতে সন্তুষ্ট নন এ স্পিনার।

 তিনি বলেন, ‘উইকেট যেমন বোলাররা তেমন বলই করেছে। হয়তোবা এর থেকে একটু ভাল হতে পারত। উইকেটের ব্যবহার হিসেবে পাঁচ উইকেট ঠিক আছে। এরচেয়ে আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। তবে আমি আমার দলকে এখনো এগিয়ে রাখব।’

বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট

১. সাকিব আল হাসান- ৫৬ ম্যাচে ২০৫* উইকেট

২. তাইজুল ইসলাম- ২৫ ম্যাচে ১০১* উইকেট

৩. মোহাম্মদ রফিক- ৩৩ ম্যাচে ১০০ উইকেট

৪. মেহেদি হাসান মিরাজ- ২০ ম্যাচে ৮৬* উইকেট

৫. মাশরাফি বিন মর্তুজা- ৩৬ ম্যাচে ৭৮ উইকেট। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ