মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আজ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আটকে যাচ্ছে ‘চুক্তিহীন ব্রেক্সিট’ 

৫ সেপ্টেম্বর, বিবিসি, রয়টার্স : ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আটকে দিতে একটি বিল পাস হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার ব্রিটিশ লর্ডসের অনুমতির মাধ্যমে এটি পাস হবে। এর আগে বুধবার এই প্রস্তাবে সমর্থন দেন দেশটির এমপিরা। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বুধবার রাতে হাউজ অব কমন্সে দুই দফা পরাজিত হয়েছেন।

ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে গত মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি সরে দাঁড়ানোর পর  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন। নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নেরও ইঙ্গিত দেন তিনি। মঙ্গলবার জনসন সরকারের ব্রেক্সিটনীতির বিরোধীরা পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব তোলেন। এই প্রস্তাবে যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় চুক্তি চূড়ান্ত করতে ব্রেক্সিট আরও পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। ওই প্রস্তাব পাশ হলে হেরে যান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর বরিস জনসন আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনার কথা জানান।

সংসদ সদস্যরা ‘নো-ডিল ব্রেক্সিট’ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে চুক্তি ছাড়া বেরিয়ে যাবার বিষয়টি আটকে দিয়ে একটি বিল পাশ করেছেন সংসদে। এই বিলটি এনেছে বিরোধী দলগুলো, তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির একদল বিদ্রোহী এমপি।

ধারণা করা হচ্ছিলো ব্রেক্সিট সমর্থক এমপিরা এই বলটি আটকে দেবেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এই মুহূর্তে হাউস অফ কমন্স নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিদ্রোহী এমপিদের কাছে। ফলে তারা ব্রেক্সিট ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত বিলম্বিত করার প্রস্তাব দিতে প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করতে বিল আনার সুযোগ পাবেন।  

বিলের মাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি সমঝোতা করে পার্লামেন্টে নিয়ে আসতে না পারেন, তাহলে তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ফিরে যেতে হবে এবং অনুরোধ জানাতে হবে যে ব্রেক্সিটের সময়সীমা ২০১৯ সালের ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয়।

‘নো-ডিল ব্রেক্সিট’ আটকে দিয়ে পার্লামেন্টে যে বিল পাস করা হয়েছে সেটি এক অর্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আতœসমর্পন বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবও আটকে দিলেন ব্রিটিশ এমপিরা

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে টানা দ্বিতীয় দফা হারতে হল প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে; তার আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবও আটকে দিলেন এমপিরা।

জনসন চাইছেন, বাণিজ্য ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলেও ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত তারিখে কোনো চুক্তি ছাড়াই ২৮ জাতির এই জোট থেকে বেরিয়ে যাক ব্রিটেন। এটাকে বলা হচ্ছে ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’।

এর বিরোধিতায় মঙ্গলবার পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব তোলে বিরোধী দল, যাতে ব্রেক্সিট আরও পিছিয়ে দিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করে একটি বিচ্ছেদ চুক্তি চূড়ান্ত করার সময় পাওয়া যায়।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির ২১ জন এমপি তাতে সমর্থন দিলে হাউজ অব কমন্সের ভোটাভুটিতে প্রথম দফা হারতে হয় জনসনকে। 

বিরোধী এমপিদের ওই বিল ব্রেক্সিট আলোচনার নিয়ন্ত্রণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতে তুলে দেবে- এমন যুক্তি দেখিয়ে প্রয়োজনে আগাম নির্বাচন ডাকার হুমকি দিয়ে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী জনসন। 

কিন্তু বুধবার হাউজ অব কমন্সে তিনি ১৫ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তাব তুললে সেটাও নাকচ হয়ে যায়।

২০১১ সালের একটি আইনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন দিতে গেলে ৬৫০ সদস্যের পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন বরিস জনসনের। সেজন্য তার বিরোধী দলে লেবার পার্টির সমর্থন দরকার ছিল। 

কিন্তু লেবার নেতা জেরেমি করবিন সাফ জানিয়ে দেন, ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ ঠেকানোর বিল পাস হলেই তার দল আগাম নির্বাচনে সমর্থন দেবে, তার আগে না। 

প্রধানমন্ত্রী জনসন ব্রিটেনকে ‘নো ডিল’ ব্রেক্সিটে বাধ্য করতে খামখেয়ালির খেলায় মেতেছেন বলেও অভিযোগ করেন করবিন। স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি এবং লিবারেল ডেমোক্রেটরাও জনসনের আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবকে ‘নো ডিল ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র’ আখ্যায়িত করে।  

প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির অধিকাংশ এমপির পাশাপাশি স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির এমপিরা জনসনের প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকে। 

শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৯৮টি। আর বিপক্ষে পড়েছে ৫৬টি। দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন পাওয়ার জন্য আরও ১৩৬টি ভোট দরকার ছিল জনসনের।   

এই হারের পর লেবার নেতার সমালোচনায় জনসন বলেন, যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রের ইতিহাসে করবিনই হলেন প্রথম বিরোধী দলীয় নেতা যিনি একটি নির্বাচনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ