মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে আরও নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিলো ইরান 

৫ সেপ্টেম্বর, ইন্টারনেট : ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির প্রতিশ্রুতি তৃতীয়বারের মতো কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এবারে দেশটির পারমাণবিক গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার ওপর আরোপিত সব ধরণের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুক্রবারের মধ্যে ইউরোপ কোনও সমাধান না দিতে পারলে ইরান ব্যবস্থা নেবে বলে হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই নির্দেশ দেন রুহানি। বুধবার এক টেলিভিশন ভাষনে তিনি বলেন, পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থাকে গবেষণা ও উন্নয়নের প্রয়োজনে যা প্রয়োজন তার সবকিছু এখনই শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সংশ্লিষ্ট তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন (পি-ফাইভ) ও জার্মানি (ওয়ান) ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর নভেম্বরে থেকে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন। এতে মারাত্মক সংকটে পড়েছে ইরানের অর্থনীতি।

এখন ইরান চায় চুক্তিতে বহাল থাকা ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের অর্থনীতি রক্ষায় ভূমিকা রাখুক। পারমাণবিক চুক্তি রক্ষার আলোচনা শুরু করতে ইউরোপের হাতে আরও দুই মাস সময় আছে ইঙ্গিত করে  বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার মনে হয় গতকাল বৃহস্পতিবার অথবা আজ মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে কোনও সমাধানে পৌঁছানো যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘তারা জানে আমরা কী চাই, আর আমরা জানি তারা কী চায়।’

রুহানির ঘোষণার পরেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড পরিচালিত একটি তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের অভিযোগ নেটওয়ার্কটি তেল পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। একই সঙ্গে ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তথ্যের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরানের ওপর চাপ কমানো হবে না।

এর আগে আলাদা দুই ধাপে ২০১৫ সালের চুক্তির প্রতিশ্রুতি কমায় ইরান। তেহরানের দাবি চুক্তিতে এখনও বহাল থাকা ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের অর্থনীতি রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা না নিলে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ