শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না

 

মিয়া হোসেন : প্রতিদিন সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের ধারাবাহিক নিয়মে দিনরাত্রির পরিবর্তনের মাধ্যমে আজ এসে হাজির হলো হিজরী নববর্ষের ৬ তারিখ। আর মাত্র কয়েকদিন পর আসবে আশুরার দিন। যেদিন পৃথিবীতে ঘটেছে অসংখ্য স্মরণীয় ঘটনা। হযরত নূহ (আঃ) সাড়ে নয় শত বছর যাবৎ তাওহীদের বাণী প্রচারের পর যখন সে যুগের মানুষ আল্লাহর বিধিনিষেধ পালনে অস্বীকৃতি জানায়, তখন নেমে আসে আল্লাহর গযব। ফলে হযরত নূহ (আঃ) এর সম্প্রদায় ধ্বংস হয়েছে আর রক্ষা পেয়েছে শুধু তাওহীদে বিশ্বাসী অনুসারীবৃন্দ। পবিত্র আশুরার দিনেই মহাপ্লাবনকালে হযরত নূহ (আঃ) এর অনুসারীদের নিয়ে জুদী পাহাড়ের পাদদেশে এসে থেমেছিল। এ ঘটনাটি পবিত্র কুরআনে আল্লাহ এভাবে বর্ননা করেছেন, “আমি নূহ কে তার সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তোমরা কি ভয় কর না। তখন তার সম্প্রদায়ের কাফের প্রধানরা বলেছিল এতো তোমাদের মতই একজন মানুষ ছাড়া কিছুই নয়। সে তোমাদের ওপর নেতৃত্ব করতে চায়। আল্লাহ ইচ্ছা করলে ফেরেশতাই নাযিল করতেন। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ কথা বলিনি। সুতরাং সে তো এক উন্মাদ ব্যক্তি ছাড়া কিছু নয়। সুতরাং কিছুকাল অপেক্ষা কর। নূহ (আঃ) বলেছিলেন, হে আমার পালনকর্তা আমাকে সাহায্য কর কেননা তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে। অত:পর আমি তার কাছে আদেশ প্রেরণ করলাম যে, তুমি আমার দৃষ্টির সামনে এবং আমার নির্দেশে নৌকা তৈরি কর। এরপর যখন আমার আদেশ আসে এবং চুল্লী প্লাবিত হয়, তখন নৌকায় তুলে নাও প্রত্যেক জীবের এক জোড়া এবং তোমার পরিবারবর্গকে, তাদের মধ্যে যাদের বিপক্ষে পূর্বে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাদের ছাড়া এবং তুমি জালেমদের সম্পর্কে আমাকে কিছু বলো না, নিশ্চয় তারা নিমজ্জিত হবে। যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌকায় আরোহন করবে, তখন বলো, আল্লাহর শোকর, যিনি আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে উদ্ধার করেছেন। আরো বলো, পালনকর্তা আমাকে কল্যাণকরভাবে নামিয়ে দাও, তুমি শ্রেষ্ঠ অবতরণকারী।” (সূরা মুমিনূন ২৩-২৯) তখন আল্লাহ নূহ (আঃ) এর নৌকা জুদি পাহাড়ে থামিয়ে দেন এবং তারা সেখানে নৌকা থেকে অবতরণ করেন। আর এদিনটি ছিল আশুরার দিন। 

নূহ (আ.) এর সময় যখন মহা প্লাবন শুরু হয় তখন নবী নুহ (আ.) আল্লাহ পাকের আদেশে বিশাল কাঠের নৌকা তৈরি করে তাতে প্রত্যেক জীব-জন্তু ও প্রজাতি হতে এক জোড়া করে তার নৌকায় তুলে নেন। সেই সাথে তার ইসলামিক দাওয়াতে যেসব বিশ্বাসী নর/ নারী সাড়া দিয়েছিল তাদেরকেও তিনি নৌকায় তুলেছিলেন। আল্লাহর গজবে টানা ৪১ দিনের ভারী বৃষ্টিতে যখন সমগ্র দুনিয়া প্লাবিত হয়ে গেলো তখন আল্লাহ্ পাকের ইচ্ছায় নৌকা তুরস্কের জুদি পাহাড়ে গিয়ে থামে। পরবর্তীতে সেই নৌকা জুদি পাহাড়ে কালের বিবর্তনে ধ্বংস হয়ে পাহাড়ের উঁচু টিবিতে পরিণত হয়। নুহ নবীর নৌকা যে আল্লাহপাকের নিদর্শন রূপে পৃথিবীতে আজো টিকে আছে তার প্রমান পবিত্র কুরআন নিজেই। আল্লাহ বলেন, “আমি নূহকে বহন করলাম তাতে যা ছিলো তক্তা ও পেরেক সম্বলিত, তা ভেসে চলেছিলো চোখের সামনে, এটা তার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ ছিল, যাকে প্রত্যাখান করা হয়েছিলো। আর অবশ্য এটিকে রেখে দিয়েছি এক নিদর্শন রৃপে। অতএব কেউ কি আছে যে, এ নিদর্শন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে?” [সূরা কামার ১৩-১৫]

চীনা ও তুর্কী গবেষেকদের সমন্বয়ে গঠিত নোয়া’স আর্ক মিনিস্ট্রিজ ইন্টারন্যাশনাল নামক হংকং ভিত্তিক একটি সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, তুরস্কের, মাউন্ট আরারাত (জুদি পর্বত) এর ১৪,৭০০ ফুট উঁচুতে স্তরীভূত কাঠের জাহাজের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তারা দেখিয়েছেন, জাহাজটির গঠন কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ অন্যান্য নিদর্শন থেকে তারা ৯৯.৯ ভাগ নিশ্চিত যে এটিই কোরান ও বাইবেলে উল্লেখিত নূহের কিস্তি। সংস্থাটি জাহাজের কার্বন পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে স্তরীভূত কাঠের বয়স ৪,৮০০ বছর। অনুসন্ধানী দলের সদস্য ইয়ং উইং-চুং, যিনি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা, বলেছেন : আমরা ১০০ ভাগ নিশ্চিত নই যে এটা নূহের কিস্তি, তবে আমরা ৯৯.৯ ভাগ নিশ্চিত যে এটাই সেই নুহ নবীর নৌকা।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ