বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ছড়া

শরতের চিঠি

সাজজাদ হোসাইন খান

 

ধলবগাদের পাখায় গুঁজে কে পাঠালো চিঠি

সেই চিঠিতে শরত ফুলের পুলক ভরা দিঠি।

পাখির ঠোঁটে অলস সময় পাতার গালে নীল

গগন ফেটে হাসে প্রভাত সোনালী স্বপ্নীল।

 

শ্রাবণ ভেজা মেঘের ঘাড়ে ঝোলে রাতের তারা

আকাশ জুড়ে কাশফুলেরা দিচ্ছে শুধু নাড়া।

চাঁদের চোখে শিশির ফোটা নিশির দেহে হিম

বৈঁচি পাতায় চৈতি সুরে হাওয়ারা রিমঝিম।

 

স্বর্ণলতার কর্ণে ফোটে বর্ণ শত শত

রক্তচূড়ার তক্তপোষে বর্ষা যখন গত।

সূর্য তখন দাঁড়িয়ে থাকে ¯িœগ্ধ ছায়ার তলে

ঘিয়ের মতো রোদের পানি নামছে গলে গলে।

 

বাতাস কেটে খুশির চমক ভূষির মতো উড়ে

হঠাৎ লালের আঁচল দোলে অনেক দূরে দূরে

শান্ত ঝিলের প্রান্তে কারা রঙের চিঠি রাখে

আটকে থাকে ধলবগারা মনের ফাঁকে ফাঁকে।

 

এই যে শরত বন্ধু শরত মহাকালের ঘাম

সময় গুনে হাঁটছে দেখো দিবস এবং যাম।

 

বাদলা দিনে

শেখ এনামুল হক

 

বাদল দিনে ঘরে বসে

থাকতে মহা সুখ

ঘরে বসে থাকতে কারো

পোহাতে নেই দুখ।

 

নুন আনতে পান্তা ফুরায়

এমন মানুষ যারা

তাদের ছাড়া বাকী সকল

আনন্দেতে সারা।

 

বাদলা দিনে কদম গাছে

ফোটে কদম ফুল

কদম ফুলের বাহার দেখে

হলাম এনামুল।

 

শরৎ এলে

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান

 

শরৎ এলে মন হারিয়ে 

যায় যে সুদূর পানে 

রূপের রাণী শরৎ ঋতু 

যায় বলে যায় গানে। 

 

শরৎ এলে ভেসে বেড়ায় 

সাদা মেঘের ভেলা

গ্রাম গঞ্জের হাট বাজারে

বসে তালের মেলা। 

 

শরৎ এলে ডোবার জলে 

বকের সারির লাইন 

ডোবার জলে পদ্ম শাপলা 

দেখতে লাগে ফাইন। 

 

শরৎ এলে কৃষক মনে 

নানান রকম স্বপ্ন 

মাঠভরা সব আমন ধানের

কাজে থাকে মগ্ন।

 

অংক শেখা

আকিব শিকদার

 

তিনটি চড়–ই ফিরে আসে, দুইটি চড়–ই যায়

চারটি চড়–ই তাদের দেখে আড়ে আড়ে চায়

“তারের উপর কয়টি চড়–ই?”

মা আমাকে শুধায়...

 

“তিন ও চারে সাত, দুইটি পাখি উড়ে গেলে

থাকলো বসে পাঁচ।”

“শাবাস শাবাস” - বলে আম্মু দিলেন ঈষৎ নাচ।

 

যদি ছয়টি চড়–ই উড়ে আসে আরও

সব মিলিয়ে কয়টি হবে? বলতে তুমি পারো?

 

মাগো

যাকিউল হক জাকী

 

মাগো তুমি কোথায় আছো

কেমন আছো বলো?

আমি তোমার প্রিয় খোকা

সংগে নিয়ে চলো। 

 

হাত ছাড়িলেই হোচট খাবো

বলবে তুমি ইশ!

তোমায় ছাড়া চলতে থাকা

সবই লাগে বিষ। 

 

নেই যে আমি আগের মতো

ছোট্ট সেই যে খোকা

তোমার কাছে আজো আমি

আদর মাখা বোকা। 

 

গভীর রাতে নিরব ক্ষণে

যখন আমি একা

চমকে উঠে পাইনি তখন

তোমার মায়া মাখা। 

 

শিশু বেলায় গান শুনিয়ে

ঘুমিয়ে তুমি দিতে

পরম সুখে মমতা দিয়ে

জড়িয়ে কোলে নিতে। 

 

আসবেনা তো? জানি আমি

অনেক তোমার রাগ

সত্যি বলছি তোমার অংশে

দেইনি কোন ভাগ।

 

দূর আকাশে তারার পানে

শুধ্ইু চেয়ে থাকি

মাগো তুমি দুচোখ মেলে

দেখছো আমায় নাকি?

 

বলবে নাকো কথা ? 

থাকো অনেক দূরে?

খুঁজে ফিরি তোমায় মাগো

স্মৃতির মধুর সুরে। 

 

আর থেকোনা দূরে  ওমা

খোকার কাছে আসো

কোলের পরশ ভরিয়ে দিয়ে

চুপটি করে হাসো । 

 

বুকের ভিতর আগলে রেখে

যেমন তুমি ছিলে

আমিও মা রাখবো তোমায়

হৃদয় অন্তমিলে ।

 

কাজী নজরুল

শওকত আলী

 

ডানপিটে এক ছেলে ছিল

চুরুলিয়া গ্রামে,

পাড়ার লোকে চিনতো তাকে 

দুখু মিয়া নামে।

 

কে জানতো সে ছেলেটি

হবে একদিন কবি!

সত্যি কথা বলতে গিয়ে

হারিয়ে ছিল সবি।

 

দেশের পক্ষে কথা বলে

গিয়েছিল জেলে,

অবশেষে সে ছেলেটির

মুক্তিটাও মেলে।

 

কুলি, মজুর, সবার পক্ষে

লিখল গল্প গান,

সাহিত্যের এই মহাপুরুষ

অল্প পেলো প্রাণ।

 

সে আমাদের জাতীয় কবি

ঝাঁকড়া মাথার চুল।

তিনি সবার বিদ্রোহী কবি 

কাজী নজরুল।

 

 

পাখির মেলা

হিদায়েতুল ইসলাম 

                      

আয় তোরা কে কে যাবি 

পাখিদের মেলাতে

পাখিদের গানে গানে

মুখে সুর খেলাতে।

কান পেতে শোনো ওই

পাখিদের কান্না

পাখিদের মেলা আর

যায় দেখা আর না।

মাঠ নেই গাছ নেই

নেই বাসস্থান

তাই পাখি রাগ করে

ধরে নাতো আর গান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ