সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

রাজধানীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর র‌্যালি জনসমুদ্রে পরিণত

বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সোমবার রাজধানীতে বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয় -সৈয়দ নয়ন

স্টাফ রিপোর্টার : কারাবন্দী দলের চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতায় রাজপথের আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রেখেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার বিকেলে দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা যদি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাই, তারেক রহমান সাহেবকে যদি দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই ত্যাগ স্বীকার করে রাজপথে এসে এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আন্দোলন করতে হবে। আমরা কী রাজি আছি? আমরা অবশ্যই সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো, গণতন্ত্রকে মুক্ত করব। আসুন শান্তিপূর্ণভাবে এই র‌্যালি অনুষ্ঠান করে আমরা প্রমাণ করি বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল দল, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করবে।
গতকাল বিকেল তিনটায় নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে এই র‌্যালি নাইটেঙ্গল মোড় দিয়ে শান্তিনগরে এসে শেষ হয়। দলীয় ও জাতীয় পতাকা, রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন, দলের প্রতিষ্ঠাদা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতিসহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা এই শোভাযাত্রা অংশ নেয়। র‌্যালিতে মশারী টানিয়ে মহানগর দক্ষিণের নেতা-কর্মীরা এসিড মশা প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিষয়টি তুলে ধরে। বিএনপির এই র‌্যালি দেখতে র্স্তাার দুই ধারে দাঁড়ানো পথচারীদের করতালি দিতে দেখা গেছে।
মহানগর বিএনপি উত্তর-দক্ষিণ, মুক্তিযোদ্ধা দল, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে ফকিরাপুল থেকে নাইটেঙ্গল রেস্তারাঁ পর্যন্ত গোটা সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতা-কর্মীরা দলীয় পতাকা ও লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।
জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বড় বড় প্রতিকৃতি হাতে ‘শুভ শুভ শুভদিন, বিএনপির জন্মদিন’, ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও সালাম’, ‘এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে’, ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, স্লোগান দেয় কর্মী-সমর্থকরা।
শোভাযাত্রার সম্মুখভাগ যখন নাইটেঙ্গল মোড়ে তখন মিছিলের শেষ ভাগ ছিলো ফকিরাপুল বাজার পর্যন্ত। র‌্যালি শুরুর আগে পুরো নয়া পল্ট্ন সড়ক ব্যাপক মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। র‌্যালিটি বিকেল ৩টার দিকে শুরু হলেও দুপুর ১২টার পর থেকেই নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর ১টার মধ্যেই পুরো নয়াপল্টন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
র‌্যালি শুরুর আগে ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, এই সরকার আজকে মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করছে, জনগন থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দেশনেত্রীকে আটকিয়ে রেখে জনগনকে মিথ্যা মামলায় দিয়ে নির্যাতন করে, হত্যা করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। পৃথিবীর কোনো স্বৈরশাসক এভাবে টিকে থাকতে পারেনি। তাই আজকে বাংলাদেশের সমস্ত মানুষকে জাগ্রত করতে হবে। বিএনপির দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। কারণ বিএনপি হচ্ছে সেই দল, যে দল তৈরি করেছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিনি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশের সমস্ত দেশপ্রেমিক মানুষকে এক করে এই দল তিনি তৈরি করেছিলেন।
তিনি বলেন, ৪০ বছরে বিএনপি পাঁচ বার জনগনের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেছে। বিএনপি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৯ বছর আপোষহীন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আবার গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা ভ্রারাক্রান্ত মন নিয়ে এই র‌্যালিতে আমরা উপস্থিত হয়েছি। আমাদের চেয়ারপার্সন তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের সাথে নেই, তিনি কারাগারে বন্দী রয়েছেন। আজকে আমাদের মনে রক্তক্ষরণ, অন্যায়ভাবে তারা নেত্রীকে কারাগারে রেখেছে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের নেত্রীকে কারাগারে রেখে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সব খেলা শেষ। তারা আমাদেরকে দূর্বল করতে চেয়েছিলো, আমরা দূর্বল নই, আগের থেকে আরো শক্তিশালী দল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেল থেকে এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আগের চেয়ে আমরা শক্তিশালী, জনগন আমাদের পেছনে আছে। আজকে র‌্যালি প্রমাণ করেছে, দেশের জনগন দেশনেত্রীর সাথে আছে, বিএনপির সাথে আছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এই সরকার আর আমাদের স্তব্ধ করে রাখতে পারবে না। অনেকে প্রশ্ন করেন দেশনেত্রীর মুক্তি আন্দোলন কখন শুরু হবে? আমি বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। এই আন্দোলন আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজকের এই সরকার ২৯ ডিসেম্বর ভোট চুরি করেছে। অনেকে বলে ওরা ভোট ডাকাতি করেছে। আমি বলব, ওরা ভোট ডাকাত নয়, সেই সাহস তাদের নেই। ওরা রাতের অন্ধকারে ভোট চুরি করেছে। তাই চুরি করা ভোটে যারা সরকার গঠন করেছে সেই সরকারকে আমাদের মানার কোনো প্রয়োজন নেই। এই সরকারের পতন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। আসুন আমরা সরকার পতন আন্দোলনের দিকে যাই। এই সরকার জনগনের নয়, এদের কোনো অধিকার নেই বাংলাদেশের সরকার পরিচালনা করার।
প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও বক্তব্য রাখেন। র‌্যালিতে অ্ন্যদের মধ্যে বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুল হাই, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শামা ওবায়েদ, মাহ্বুবে রহমান শামীম, মীর সরফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান, আবদুল আউয়াল খান, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, নাজিমউদ্দিন আলম, সেলিম রেজা হাবিব, ইশরাক হোসেন, খন্দকার মারুফ হোসেন, মশিউর রহমান বিপ্লব, শামসুল আলম তোহা, নবী উ্ল্লা নবী, আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, সাদেক খান, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, আনোয়ার হোসেইন, হাসান উদ্দিন সরকার, আফরোজা আব্বাস, জেবা খান, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, হাসান জাফির তুহিন, সালাউদ্দিন ভুঁইয়া শিশির, আবুল কালাম আজাদ, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা র‌্যালিতে অংশ নেন।
র‌্যালি উপলক্ষে নয়াপল্টনসহ শান্তিনগর পর্যন্ত ব্যাপক পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনকে মোতায়েন করা হয়। র‌্যালির অগ্রভাবে পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা ছিলো। শোভাযাত্রাটি শান্তিনগরের কাছে এসে মোড় ঘুরে নয়া পল্টনের কার্যালয়ে দিকে চলে যায়। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ