সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

দুই লাখ কোটি টাকা জমা দিতে হবে সরকারি কোষাগারে

স্টাফ রিপোর্টার : ৬৮টি সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের পরিমাণ ২ লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এ জন্য ‘স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন, ২০১৯’ এর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আমাদের স্বশাসিত সংস্থারগুলোর লেটেস্ট ব্যালেন্স দেখা গেল ২ লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা স্থিতি বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে আছে। এ টাকাগুলো কোনো ভালো কাজে ইনভেস্ট হচ্ছে না। এ জন্য সরকারের এ আইনের মাধ্যমে পলিসি হলো-কিছু প্রভিশন রেখে সরকারের কোষাগারে নিয়ে আসা এবং জনকল্যাণমূলক কাজ করা। আমাদের অনেক প্রজেক্ট রয়েছে যেগুলো আর্থিক সংকটের কারণে সেখানে অর্থায়ন করা যায় না।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো তাদের পরিচালন ব্যয়, নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বার্ষিক ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জমা রাখবে। আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিচালক ব্যয়ের ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ সংরক্ষণ করতে পারবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিধি মোতাবেক যদি পেনশন, প্রভিডেন্ড ফান্ড থাকে সেটাও রেখে দেবে। এরপরও যা থাকবে (উদ্বৃত্ত) সেটা সরকারের কোষাগারে জমা দেবে। ওনাদের বিপদে ফেলা হবে না। প্রয়োজনীয় অর্থ রাখার পর বাকি অর্থটা সরকারি কোষাগারে দেবেন।
স্বায়ত্তশাসনের স্পিরিটের সঙ্গে এ বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বায়ত্তশাসনে কোনো সমস্যা হবে না। আর্থিক ডিসিপ্লিনেও কোনো সমস্যা নেই। এটা হচ্ছে, ওনাদের যে অলস অর্থ আছে তা সরকারি বিনিয়োগে কাজে লাগানো। তাদের যদি টাকা প্রয়োজন হয় সরকার তো টাকা দিচ্ছে, বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। উদ্বৃত্ত অর্থ আছে এমন স্বায়ত্তশাসিত ৬৮টি সংস্থার তালিকা করা হয়েছে বলেও জানান শফিউল আলম।
তিনি বলেন, এরমধ্যে ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকা রয়েছে। যেমন- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ২১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, পেট্রোবাংলার ১৮ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, ডিপিডিসির ১৩ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম বন্দরের ৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৪ হাজার ৩০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে।
এ তালিকায় শিক্ষাবোর্ডগুলো রয়েছে। তাদের অনেক অলস টাকা রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উদ্বৃত্ত ৪২৫ কোটি টাকা রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ২৩২ কোটি টাকা যোগ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি আরও বলেন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আইনের বিধান সুপারসিড করে এ আইনের বিধান কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ বাৎসরিক ব্যয় রেখে বাকি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে আইনে। সরকার তা উন্নয়ন কাজে ব্যয় করবে।
এছাড়া, মানব, বিশেষত নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ, দমন ও তথ্যসংক্রান্ত দ-বিধান বিষয়ক জাতিসংঘের ১৭৩ টি দেশের যে জোট রয়েছে সেখানে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এ ছাড়া আজকের বৈঠকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন আইন, ২০১৯’ -এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে সড়ক পরিবহনসেবা দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরতাল, পরিবহন ধর্মঘট, জরুরি অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন, বিশ্ব ইজতেমা, মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও অনুরূপ পরিস্থিতি হলে বিশেষ সড়ক পরিবহন সেবা। অর্থাৎ, এই সময়ে বিআরটিসির বাস চলবে। এমন বিধান রেখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন আইন ২০১৯’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
আইনে নতুন একটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিশেষ পরিস্থিতি যেমন হরতাল, পরিবহন ধর্মঘট, জরুরি অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশ্ব ইজতেমা, মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ এবং অনুরূপ কোনো পরিস্থিতিতে বিশেষ সড়ক পরিবহনসেবা প্রদান করার বিষয়টি বিআরটিসির কাজের মধ্যে নতুন যুক্ত করা হয়েছে। আর্জেন্ট কাজ হিসেবে বিআরটিসির কাজের অংশ হিসেবে নতুন সংযোজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিআরটিসির অনুমোদিত মূলধন ছিল ৬ কোটি টাকা; সেটিকে এক হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন আইনে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ১১ থেকে ২৪ জন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ