সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

ফটিকছড়িতে হালদার ভাঙ্গনে বসত ভিটা হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলোর করুই আর্তনাদ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের ফড়িকছড়িতে হালদার ভাঙ্গনে বসত ভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন  নিঃস্ব পরিবারগুলো। ভাঙ্গনের কবলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা আরো অসংখ্য পরিবার শংকার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। গত ১৮ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রোসাংগিরী গ্রামের হাজি পাড়ার হালদা পাড়ের এসব পরিবারের বসতঘরগুলো হালদার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায়। নিঃস্ব হয়ে পড়েন তাঁরা। হুমকীর মুখে পড়েন আরো অন্তত শতাধিক পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,একপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বসত ঘরের দেওয়াল ভাঙ্গা কংক্রিট। ঘরের পাশে কদিন আগেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটিও নুয়ে পড়েছে নদীগর্ভে। যে কেউ দেখলেই সহজে বুঝতে পারবে এটি বসতভিটের নিশানা। লোকজনের উপস্থিতি দেখে মুহূর্তেই ছুটে আসেন পঞ্চাশোর্ধ ছালে আহাম্মদ, শাহজাহান, নুরুল আলম, খুলছুমা আকতার ও ছখিনা বেগম নামের কয়েকজন। তাঁরা বলেন, এখানেই বসত ভিটা ছিল। কয়েকমাস আগেও এখানে ঘুমাতাম। হঠাৎ ঘরগুলো নদীতে বিলীন হয়ে যায়। মালামাল বের না করতেই নদী গর্ভে তলিয়ে যায় সবকিছু। নিঃস্ব হয়ে রাত যাপন করি অন্যের ঘরে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, এভাবে ভয়াবহ ভাঙ্গনের মূল কারণ ভেঙ্গে যাওয়া অংশ হতে পাঁচশ ফুট দূরের একটি বাঁকের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিবিধি ভিগ্ন ঘটে। তাদের দাবী এ বাঁককে কেটে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে পানি চলাচলের গতিবিধি স্বাভাবিক করে দিলে ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। অন্যথায় পাড়াটি ধীরে ধীরে হালদার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক এম বেলাল উদ্দিন আকাশ বলেন,হালদার ভাঙ্গনে বসত ভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। যারা অন্যের বসত ভিটায় আশ্রিতা হয়ে মানবেতার জীবন যাপন করছেন। ভাঙ্গা বাঁধটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে আরো অনেক পরিবার হালদায় বসত ভিটা হারানোর শংকা রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,হালদার ভাঙ্গনে বসত ভিটা হারানো নিঃস্ব পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করার চেষ্টা চলছে। কোথাও সরকারি খাস জায়গার জন্য আবেদন করলে তাদের অগ্রধিকার ভিত্তিতে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’ ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে জানা যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরুরি ভিত্তিক বরাদ্দের কোন প্রকল্প দিয়ে এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। বেড়িবাঁধ কিংবা নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য সরকারের বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদনের পর বর্তমানে টেন্ডার হয়েছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে।’  স্থানীয় রোসাংগিরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এস এম শোয়েব আল ছালেহীন বলেন, ‘ভাঙ্গন কবলিত জায়গাটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লোকজন পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন নিঃস্ব পরিবারগুলোকে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করবেন।’ 
ফটিকছড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ষ্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মুহাম্মদ খোরশেদুল আলম বলেন, ‘ফটিকছড়ি অংশের বেড়িবাঁধ নির্মাণ, গতিপথ পরিবর্তন ও ব্লক স্থাপনসহ ভাঙ্গনরোধের নানা প্রদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে ইতিমধ্যে ১শ ৫৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কার্যাদেশ পেলে আশা করি শীঘ্রই কাজ শুরু বে।’ ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ এম আবু তৈয়ব বলেন, ‘আপাতত এসব দুর্গত লোকজনের পূনর্বাসন ও তাদের সহায়তায় উপজেলা পরিষদ থেকে সম্ভব সব সহায়তা দেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ