মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কাল খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

খুলনা অফিস : আগামীকাল রোববার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। প্রতিবছরের ন্যায় ১ সেপ্টেম্বর ১৭তম বর্ষে পদার্পন করছে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ বছরও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পালিত হবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ভৈরব-রূপসা বিধৌত এ পাদপীঠে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রীতি সমাবেশ, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রজেক্ট ও পোস্টার প্রদর্শনী, কুয়েটের অর্জন শীর্ষক প্রেজেন্টেশন, আলোচনা সভা, বৃক্ষ রোপণ, দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবসমূহ উম্মুক্তকরণ, ছাত্র-শিক্ষক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, দোয়া মাহ্ফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন  করেছে।

১৯৬৭ সালে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৪ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে,  অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও খুলনাবাসীর ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব টেকনোলজী (বিআইটি), খুলনা। এটি একটি স্বায়ত্বশাসিত ডিগ্রী প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হলেও বিভিন্ন সমস্যা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা থাকার কারনে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের আরো তিনটি ইনষ্টিটিউট অব টেকনোলজীসহ এই প্রতিষ্ঠান ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। যাত্রা শুরু হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের। খুলনা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশেই ফুলবাড়ীগেট এলাকায় ১০১ একর এলাকা নিয়ে মনোরম পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের জন্য ভৌত অবকাঠামো, লাইব্রেরী ভবন, আধুনিক ল্যাবরেটরী ও কম্পিউটার সেন্টার, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক হল, স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টার, ক্যাফেটেরিয়া, খেলার মাঠ, পুকুর, মেডিকেল সেন্টার, মসজিদ ইত্যাদি বিদ্যমান। বর্তমানে তিনটি অনুষদের অধীনে ২০ টি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এই বিশ্ববিদ্যায়ে পাঁচ সহস্রাধীক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এছাড়া সাড়ে তিন শতাধীক শিক্ষক, দেড়শতাধীক কর্মকর্তা এবং তিনশতাধীক কর্মচারী দিয়ে চলছে কুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্র্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, আরবান এন্ড রিজিওনাল প্লানিং, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, ম্যাটেরিয়ালস্ সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এনার্জি সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত ও মানবিক বিভাগের কার্যক্রম রয়েছে। রয়েছে তিনটি ইনস্টিটিউট। অদুর ভবিষ্যতে বাড়বে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন, বিভাগ ও লোকবল। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ