মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিধান

স্টাফ রিপোর্টার : উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় কোনও যাত্রী মারা গেলে তার পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা পাবে। আকাশপথে পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন, ১৯৯৯) আইন ২০১৯ খসড়ায় এমনটাই বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন আইনের খসড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালার খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে। এসব আইনের খসড়া গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
তিনি বলেন, সভায় মোট ছয়টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে আকাশপথে পরিবহন আইন-২০১৯ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। উড়োজাহাজের যাত্রীদের অধিকার সুরক্ষার জন্য এই আইনটি করা হচ্ছে। আগে এ নিয়ে দেশে কোনও আইন ছিল না। ফলে নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবার কম ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। যদি মন্ট্রিল কনভেনশন অনুযায়ী আমাদের আইন থাকতো, তাহলে যাত্রীর পরিবার ক্ষতিপূরণ পেতো কয়েক গুণ বেশি। একেকজন কমপক্ষে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা করে পেতো। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই যাত্রীদের সুরক্ষা দিতে আইনটি করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এ আইনে মন্ট্রিল কনভেনশন ১৯৯৯ অনুযায়ী কোনও ফ্লাইটে যাত্রী নিহত হলে ক্ষতিপূরণ আদায়ের পাশাপাশি যাত্রী আঘাতপ্রাপ্ত হলে এবং লাগেজ হারিয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইনটি কোনও উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষ ভঙ্গ করলে অর্থাৎ যাত্রীর মৃত্যু, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া কিংবা লাগেজ হারিয়ে যাওয়ার পরেও উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করলে সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে এই আইনের পৃথক ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে সরকার। সেক্ষেত্রে মন্ট্রিল কনভেনশন ১৯৯৯ অনুযায়ী যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় যাত্রীপ্রতি এক লাখ ৪০ হাজার ডলার করে জরিমানা করা হবে ওই উড়োজাহাজ কোম্পানিকে। এই টাকা আদায় করবে সরকার। পরে তা যাত্রীকে দেওয়ার ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া ব্যাগ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করলে সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ কোম্পানির কাছ থেকে প্রতিকেজির জন্য ৭০ ডলার করে জরিমানা আদায় করবে সরকার।
আইন বাস্তবায়নের ফলে উড়োজাহাজে ভাড়া বাড়বে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, বিমান ভাড়া বাড়বে না। কারণ ক্ষতিপূরণের এই টাকা বিমান কর্তৃপক্ষ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে নেবে।
মন্ত্রিসভায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৯ এর খসড়ার অনুমোদন হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে চামড়া বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী দ্বিতীয় খাত। ২০২৪ সাল নাগাদ আশা করছি ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করতে সক্ষম হবো। এই টার্গেট নিয়ে কাজ করছি। এই নীতিমালার আওতায় শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উন্নয়ন নীতিমালা পরিষদ নামে ৪১ সদস্যের একটি পরিষদ গঠন হবে। আর শিল্প সচিবের নেতৃত্বে চামড়া এ চামড়াজাত পণ্যের নীতিমালা বাস্তবায়ন পরিষদ থাকবে। এর সদস্য সংখ্যা ২০ জন।
এই নীতিমালার আলোকে ট্যানারি শিল্প মালিকদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। চামড়া শিল্পের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। পণ্য উৎপাদনে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সহজ হবে। দক্ষ ও কার্যকর সেক্টর গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০১৯ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন (এপ্রিল থেকে জুন) উপস্থাপন করার পর অনুমোদন হয়েছে। এসময় মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে সাতটি। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৭২টি। বাস্তবায়িত হয়েছে ৫৯টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৮১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে ১৩টি। বাস্তবায়নাধীন সিদ্ধান্তের হার ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। এই তিন মাসে অনুমোদিত নীতি/কর্ম কৌশল নেওয়া হয়েছে একটি। এই সময়ে চুক্তি/সমঝোতা স্মারক অনুমোদন হয়েছে একটি। সংসদে আইন পাস হয়েছে ৬টি।
এছাড়া সোমবারের বৈঠকে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন আইন ২০১৯-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। এতদিন এটি ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে চলছিল। এখন এটা আইনে পরিণত হলো। আগের হাউস লেখার পরিবর্তে এখন হাউজ লেখা হবে। এ আইনে নতুন করে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান ও পরিচালক যুক্ত করা হয়েছে। আগের আইনে এগুলো ছিল না। এর প্রধান অফিস হবে ঢাকায়। পরিচালকরা এক মেয়াদে তিন বছরের জন্য মনোনীত হবেন।
আইনের কোনও শর্ত ভঙ্গ করলে বা মিথ্যা বিবরণ দিয়ে ঋণ গ্রহণ করলে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে ৫ বছরের দন্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-। করপোরেশনের অনুমতি ছাড়া কেউ তাদের নিজস্ব প্রসপেকটাসে নাম ব্যবহার করলে ছয় মাসের দন্ড আর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। করপোরেশনের অনুমোদিত মূলধন হবে এক হাজার কোটি টাকা, যা আগে ছিল ১১০ কোটি টাকা। করপোরেশন পেইড আপ (পরিশোধিত) মূলধন ৫০০ কোটি টাকা হবে, যা আগে এটা ছিল ১১০ কোটি টাকা।
এছাড়া বাংলাদেশ ও চেক রিপাবলিকের মধ্যে স্বাক্ষরের জন্য দ্বৈত করারোপ পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ সংক্রান্ত চুক্তির খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্বৈত কর দিতে হবে না।
প্যাটেন্ট কো-অপারেশন ট্রিটি (পিসিটি) তে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে। 
এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে ন্যাপ নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। তাকে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, তিনি মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ