শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মান্নান নগর রাস্তা খানাখন্দে ভরা জনদুর্ভোগ চরমে

তাড়াশ : হাটিকুমরুল বনপাড়া মহাসড়কের মান্নান নগর হইতে খালকুলা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের অভাবে যান-চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত বছরের ভয়াবহ বন্যা আর অনিয়মিত একটানা বৃষ্টিপাতে রাস্তার বিভিন্ন অংশে ভেঙ্গে গেছে। অনেক জায়গায় পাথর বালি উঠে বড় বড় গর্তেও সৃষ্টি হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও সড়কের ভাঙ্গাচুরা অংশের কারণে মহাসড়ক এবং বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে পেয়েছে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা গেছে, সড়কে হাজার হাজার যানবাহন আটকে আছে। এ সময় যাত্রীরা বলেন, সিরাজগঞ্জ রোড থেকে মান্নাননগর ৩০ যেখানে মিনিটের রাস্তা সেখানে সময় লাগছে যেতে প্রায় ১ ঘন্টার উপরে। পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের অভিযোগ, বেহাল রাস্তার কারণে মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ রোড হইতে নাটোরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাবাসিরা জানান, এই রাস্তা নির্মাণে নি¤œমানের রসদ-মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে। এই কাজের কিছু অসাধু কর্তব্যরত ব্যক্তিরা নিজের পকেট ভারী করে কাজ করেছে নাম মাত্র। শুধু তাই নয়, ওই সকল অসাধু ব্যক্তিরাই ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোনমতে দায়সারা ভাবে রাস্তা নির্মাণ করায় রাস্তার এই ভাঙ্গন ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলার ৪ নং মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, হামকুড়িয়া গ্রামের কৃতি সন্তান নজরুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, মহাসড়কের ভাঙ্গন অংশে পাথর বালির পরিবর্তে ইট ফালানো হচ্ছে এতে রাস্তা আরো বেশী নষ্ট হবে। তিনি আরও বলেন, সংস্কারের কাজ সঠিক না হলে সমাধান হবেনা। তাই মহাসড়কের খানা খন্দের ভয়াবহতায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সঠিক সংস্কার জরুরী। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ রোডস্ এন্ড হাইওয়ের (এক্সচেন) মো: আহাদুল্লাহ বলেন, আমরা রাস্তাটি সংস্কার করিতেছি কিন্তু মাছের গাড়ী যাওয়ার সময় পানি পরে রাস্তাটি নরম হয়ে যাচ্ছে আর এ কারণে রাস্তাটি বেশি ভাংছে। শুকনো মৌসুমে রাস্তা এত খারাপ হওয়ার কথা না। তিনি আরও বলেন, রাস্তায় কার্পেটিংয়ের পরিবর্তে আমান আমান ইট পেরে দেওয়া হচ্ছে। কার্পেটিং ও ইট দুটোই মাটির নিচে চলে যাচ্ছে। কার্পেটিংয়ের চেয়ে ইটের দাম কম থাকায় রাস্তায় ইট ব্যবহার করছি। কারণ আমাদের এই মুহূর্তে তেমন কোন বাজেট বা বারাদ্দ নেই। এ ব্যাপারে হাটিকুমরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, রোডস্ এন্ড হাইওয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ জরুরীভাবে করা দরকার। কারণ এই রাস্তায় গাড়ীর প্রচুর চাপ থাকে। আমাদের পুলিশ আটকে পড়া গাড়ীগুলো প্রতিনিয়তই সরানোর চেষ্টা করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ