শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মহিষলুটির শুঁটকি পল্লী গ্রামীন অর্থনীতিতে যোগান দিচ্ছে

তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি শুটকি পল্লীতে পড়েছে মাছ শুকানোর ধুম

তাড়াশ : চলনবিল অধ্যুশিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি শুটকি পল্লীতে পড়েছে মাছ শুকানোর ধুম। সেই সাথে জেলেদের মনে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। এ বছর এলাকার জেলেরা আশাতীত মাছ ধরছেন এবং এসব মাছ এখন শুটকির জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার শুটকি পল্লী খ্যাত মহিষলুটিতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও লাখ লাখ টাকার শুটকি মাছ উৎপাদিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি বাজারের শুটকি পল্লীর মালিকরা বলেন, এ বছরে কাঁচা মাছের মূল্য কম থাকায় এবং মাছ প্রচুর আমদানি হওয়ায় আমরা মহিষলুটি আড়ৎ থেকে মাছ কিনে শুটকি করছি। স্থানীয়দের মতে, ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি শুটকি পল্লীর সুস্বাদু শুটকি মাছের দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখানে ছোট-বড় বেশকিছু শুটকি পল্লী গড়ে উঠেছে। প্রতি বছর শুটকি মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার নারী ও পুরুষ কর্মী এসব শুটকি পল্লীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এখানকার শুটকি পল্লীতে উৎপাদিত শুটকি নীলফামারী, সৈয়দপুর, রংপুর, তিসতাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণসহ বিদেশে রপ্তানি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন শুটকি পল্লী ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, বিগত বছরগুলোর চেয়ে চলনবিলে এ বছরে ব্যাপক মাছ ধরা পড়ছে। শুটকি উৎপাদনকারীরা আরও জানান, এ বছর কাঁচা মাছ কম দামে কিনে শুটকি করে বেশি দামে বিক্রয় করতে পারছি। বিগত বছরগুলোর দু:খ-কষ্ট ভুলে শুটকি পল্লীতে ফিরে এসেছে উৎসবের আমেজ। এ বছরেও শুটকি উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করে শুটকি চাহিদা পুরণ করা হচ্ছে বলে জানান এসব শুটকি পল্লীর মালিকরা। তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটির শুটকি ব্যবসায়ী- দেলবার উদ্দিন প্রামানিক, গফুর, সিদ্দিক এবং নান্নু মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, আমরা বিগত ১৯ বছর যাবৎ এ ব্যবসায় নিয়োজিত আছি। প্রতি বছর ভাদ্র হতে মাঘ মাস পর্যন্ত ৬ মাস আমরা এ ব্যবসা করে থাকি। এখানে মহিলা শ্রমিককে জনপ্রতি ২০০ টাকা এবং পুরুষ শ্রমিকদের ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়। প্রতি বছর শুটকি শুকানোর জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে আমরা শুটকি উৎপাদন করে থাকি। আশা করছি এ বছরেও শুটকি উৎপাদন করে আমরা লাভবান হবো। তবে আমাদের পুঁজি কম থাকায় আমরা চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসা করতে পারছি না। তবে সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে ব্যাপকভাবে এ ব্যবসা করে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও বিদেশে রপ্তানী করে বৈদাশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ