শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চলনবিল সমৃদ্ধ জনপদ তাড়াশ উপজেলা

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা প্রাচীনকাল থেকেই সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী এক জনপদ। শিক্ষা, সংস্কৃতি রাজনীতি, ইতিহাস ঐতিহ্য আন্দোলন, ব্যবসা বাণিজ্য কৃষি, মাছ সম্পদ, মানব সম্পদ, শিল্প-সাহিত্য, ধর্মীয় কালচার, প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাড়াশের আছে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বর্ণাঢ্য ইতিহাস। চলনবিলের পল্লি বিধৌত উর্বর তীরে বর্ধিষ্ণু ও কীর্তিমালা একটি জনপথ তাড়াশ উপজেলা। তাড়াশের উর্বর পল্লির জন পদে জন্ম নিয়েছেন অনেক কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবীদ, আলেম, ওলামা বুজুর্গ পীর আউলিয়াসহ বরেণ্য ব্যক্তিরা। এখানে হয়রত শাহ শরীফ জিন্দানী (র:)-এর মাজার রয়েছে। পাশেই পাকপাড়া বুড়– পীর হয়রতশাহ মোকলেছুর রহমান এর মাজার ও মসজিদ, সমাজ শাহ আশরাফ জিন্দানী (র:) এর মাজার ও মসজিদ রয়েছে। খেলাধুলাতে তাড়াশ উপজেলার সুনাম ছিল গর্ব করার মত। স্কাউটিং ফুটবল,হকি ওক্রিকেট খেলার জন্য তাড়াশ উপজেলার আলাদা পরিচিতি ছিল দেশ জুড়ে নজর করার মত । শিক্ষা ক্ষেএে এ তাড়াশ উপজেলার অর্জন অন্যান্য উপজেলার তুলনায় অনেক ভাল। এখানে শিক্ষার হার ৮০%। নামকরণ : তাড়াশ উপজেলার পশ্চিমে ছিল চলনবিল, আগের যুগে এখানে জনবসতি ফাঁকা ছিল। চোর ডাকাতের উপদ্রব বেশী ছিল এবং যেখানে সেখানে মরা মানুষের লাশ পড়ে থাকত। মানুষ রাস্তায় বের হতে ভয় পেত। যেন সব সময় ত্রাস লেগেই থাকত বলে এর নাম রাখা হয়ে ছিল ত্রাস, সেই ত্রাস থেকে একটু ভাল করে ত্ড়াাশ রাখা হয়। ১৯২০সালে তাড়াশ উপজেলার আশ পাশের উপজেলার মত ভাল ছিল। অধিকাংশ যায়গা নিয়ে গঠিত ছিল তাড়াশ থানা, লালবাজার থানার প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল পাশাপাশি চলনবিল ও যমুনা নদী নিয়ে এই সিরাজগঞ্জ জেলা অবস্থিত। তাড়াশ উপজেলার নওগা গ্রামের করতোয়া নদীর তীরে শতাব্দির প্রাচীন আলেম বীর মুজাহিদ কামেল পীর হয়রত শাহ শরীফ জীন্দানী (র:) এর মাজার অবস্থিত। চলনবিলের এই মহা পূণ্য ভূমিতে ঘুমিয়ে আছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত ধর্ম প্রচারক হয়রত শাহ সুফি আব্দুল বাকি বিল্লাহ (র:), হয়রত শাহ শরীফ জিন্দানী (র:) হয়রত মোকলেছুর রাহমান (র:), হয়রত শাহ আশরাফ জিনাদানী (র:)। এই তাড়াশ উপজেলায় রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নাটমন্দির। এক সময় কলকাতা সহ পশ্চিম রয়ের জমিদার গন এখানে আসত ইহা ছাড়া উপজেলার বিনসাড়া গ্রামে রয়েছে কিংবদন্তির নায়িকা বেহুলার বাড়ী। তাড়াশ উপজেলা চলনবিলের মাঝে অবস্থিত হওয়ায় এখানে হরেক রকম সুস্বাদু আমন ধানের আবাদ হত। তিল, কাউন, পাট প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হত। ১৯৬৩ /৬৪ সন থেকে নিমাইচড়া, খালকাটার পর উক্ত খালের দুপাশে বোরো, ধানের আবাদ শুরু হয়। এখন অগণিত অগভীর নলকূপ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হচ্ছে। এখানে প্রচুর পরিমানে ধান উৎপাদন হয়। এ মওসুমে দেশের সিংহভাগ অভাব পূরণ করে থাকে চলনবিলের এই ধান। যে বছর কার্তিক মাসে চলনবিলের পানি নেমে যায সে বচরে প্রচুর পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়। মধু আহরণ কারীরা এসময় মৌয়ে করে খাটি সরিষার মধূ আহরণ করে সারা বছরে মধুর অভাব পূরণ করে থাকেন। বর্ষায় এই এলাকায় সাগরের মত দেখায় ভয়ংকর অবর্তে মুর্ত হয়। এ সময় এ চলনবিল বষায় হাটের পথে সারি সারি পাল তোলা নৌকা দূরে দাড়টানা ভাটিয়ালী,মাঝিদের গানের সুরে মুর্ছা। ভটভট শব্দে যন্ত্রে চালিত অসংখ্য নৌকার বহর জেলেদের ছোট, ছোট নৌকা নিয়ে মাছ ধরার অপূর্ব দৃশ্য।দূরে মাঝে, মাঝে ছোট, ছোট গ্রাম নিয়ে তাড়াশ উপজেলা বর্ষায় মাঝিদের ভাটিয়ালী গানের মুর্ছনা, শীতে ছোট, ছোট জলাভূমিতে ঝাঁক ঝাঁক হরেক রকম অতিথি পাখির কলরব, পৌষ পার্বণে পিঠা খাওয়ার ধুম, দূরের হাট থেকে ফেরা গাড়ীয়ালের গানের সুর হামকুড়িয়ার সন্তানদের স্মৃতি আমৃত অম্লান হয়ে থাকবে চিরদিন। তাই তাড়াশে মাটিতে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা সন্তান আজ যে প্রান্তেই থাকনা কেন চলনবিল বিধৌত এ এলাকাকে কখোনও ভুলতে পারবেনা। হাটিকুমরুল বনপাড়া মহা সড়কটি (বিশ্বরোর্ড) চলনবিলের মধ্যে দিয়ে যাওয়ায় এর কিছুটা ভাটা পরেছে। তবে বর্ষার সময় ৮ও ৯ নং ব্রিজের সামনে হওয়া খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। পাবনা আইডিয়ায় স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুঞ্জিল হক জানান মহাসড়কের ৮ ও ৯ নং ব্রিজের চলনবিলের দৃশ্য পট হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও নজরদারির অভাবে অবহেলিত হয়ে পরে আছে। ইচ্ছে করলে আপনিও এখানে এসে মিনি কক্সবাজার খ্যাত চলনবিলে ভ্রমণ করতে পারেন। ঢাকা পূর্র্ববঙ্গ বা পশ্চিমবঙ্গ হতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের হামকুড়িয়া মান্নান নগর নামলেই সরাসরি চলনবিল ঘুরে ঘুরে দেখতে পারবেন এর চিরায়িত অপরূপ দৃশ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ