মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

এক সুখকর চিত্র

বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে তারা বিদেশে যায়, কাজ করে। তাদের ভালো কাজের সংবাদে আমরা খুশি হই, আবার মন্দ কাজের উদাহরণে হই ব্যথিত। কারণ ওরা যে আমার দেশের মানুষ, না চিনলেও ওরা আমার স্বজন। হজ্বের এই মওসুমে হাজারও বাংলাদেশী গেছেন সৌদি আরবে, গেছেন সাংবাদিকরাও। তারা অনেক প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন এবারের হজ্ব¦ মওসুমে।
একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘মিসফালাহ, সৌদি আরবের বুকে এর খ- বাংলাদেশ’। মিসফালাহ পবিত্র মক্কা নগরীর একটি এলাকার নাম। এটি সৌদি আরবে আগত বাংলাদেশীদের জন্য অতি পরিচিত ও প্রিয় নাম। অনেকে মনে করেন, সৌদি আরবের বুকে একখ- বাংলাদেশ হলো এই মিসফালাহ। খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকা। কাবা ঘরের অতি কাছে হওয়ায় বছরের ৩৬৫ দিন তথা দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকে হজ্ব ও ওমরা পালনকারীদের জন্য। মিসফালাহ এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে আবাসিক হোটেল রয়েছে ১০২টি। এসব হোটেলে থাকার সুব্যবস্থা আছে প্রায় ২৫ হাজার লোকের। এর মধ্যে ৮৮টি হোটেল পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশীদের মাধ্যমে। এছাড়া এই এলাকায় দোকানসহ রেস্টুরেন্ট আছে ৪৬২টি। এর মধ্যে ৩৫৫টি বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশীদের মাধ্যমে। বছরের বেশিরভাগ সময় হজ্ব ও ওমরাকে কেন্দ্র করে এই এলাকা পরিণত হয় বাংলাদেশীদের মিলনমেলায়। এমন চিত্র আমাদের আনন্দিত করে, করে গর্বিত।
সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশীদের অনেকেই মিসফালাহ এলাকায় বসবাস করে থাকেন। এই এলাকায় রয়েছে কসমেটিক্স, জুয়েলারি, মোবাইল ফোন, ইলেক্ট্রিক্স পণ্য, রেডিমেড কাপড়সহ নানান দ্রব্যের দোকান। প্রতিটি দোকানের কর্মচারীদের মধ্যে অন্তত একজন হলেও বাংলাদেশী খুঁজে পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ হজ্ব¦ মিশনের অফিসও এই এলাকায় অবস্থিত। আরও রয়েছে বাংলাদেশ হজ্ব¦ মিশন মেডিকেল সেন্টার ও ক্লিনিক। এই এলাকায় ছোট-বড় মসজিদ রয়েছে ২২টি। এর মধ্যে ২০টিতে রয়েছে বাংলাদেশী ইমাম বা মুয়াজ্জিন। বছরের বিশেষ দিনগুলোতে অনেক বাংলাদেশী পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন এই এলাকায়। মিসফালায় রয়েছে বাংলাদেশী খাবারের আয়োজন। এলাকার হোটেলগুলোতে পাওয়া যায় বিরানি, কাচ্চি, খিচুড়ি, বাসমতি চালের ভাত, গরুর ভুনা, খাসির রেজালা ও মুরগির রোস্ট। এসবের পাশাপাশি বিকালে এসব হোটেলে পাওয়া যায় ছোলা-মুড়ি, আলুপুড়ি, সিঙ্গারা, সমুচা, মিষ্টি ও বোরহানি। বৃহস্পতি ও শুক্রবারে হোটেলে বেচা-বিক্রি বেড়ে যায়। এর কারণ হাজার হাজার বাংলাদেশী এ সময় জুমার নামাজ ও ওমরা করার জন্য ওই এলাকায় এসে থাকেন। এমন বাতাবরনে বাংলাদেশীদের মনে হয় তারা যেন বাংলাদেশেই আছেন। মিসফালাহ সড়কে হেঁটে চলার সময় শোনা যায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক ভাষার শব্দমালাও। এ এক অপূর্ব অনুভূতি। মিসফালায় বাংলাদেশীরা ধর্মে-কর্মে, ব্যবসা-বাণিজ্যে মিলে-মিশে যেভাবে মাথা উঁচু করে বেঁচে আছেন তা সত্যি সুখকর চিত্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ