শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয় আসমাকে

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার কমলাপুরে ট্রেনের বগিতে যে তরুণীর লাশ পাওয়া গেছে, তাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। সোমবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে একটি পরিত্যক্ত বগির টয়লেটে আসমা বেগম (১৮) নামে ওই তরুণীর লাশ পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠায় পুলিশ।
ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক প্রদীপ বিশ্বাস গতকাল মঙ্গলবার বলেন, “হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, এমন আলামত মিলেছে। তবে আরও নিশ্চিত হতে পরীক্ষাগারে পাঠানো নমুনার প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”তিনি জানান, আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে আলামত মিলেছে।
পঞ্চগড়ের কৃষিজীবী আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে আসমা রোববার সকালে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে জন্মসনদ দেখে পুলিশ পঞ্চগড়ে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর আসমার লাশ পঞ্চগড়ে নিয়ে যায় তার পরিবার। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা তদন্ত করছে কমলাপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ। মামলার তদন্তে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো অগ্রগতির খবর মেলেনি।
রেলওয়ে (ঢাকা) পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ বলেন, “বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।”
আসমা কখন কিভাবে কার সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন, সেই তথ্য এখনও উদ্ঘাটিত হয়নি। তবে তার পরিবারের সন্দেহ বাদল নামে এলাকার এক যুবককে।
রাজ্জাক বলেন, তার মেয়ের সঙ্গে বাদলের ‘সম্পর্ক’ ছিল, সেই এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। লাশ উদ্ধারের পর থেকে বাদলের সন্ধান পাচ্ছে না আসমার পরিবার। তার ফোন বন্ধ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্জাক।
কমলাপুর রেলস্টেশনে পরিত্যক্ত বগি থেকে আসমা খাতুনের (১৭) মরদেহ উদ্ধারের খবরে তার পঞ্চগড়ের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। গতকাল মঙ্গলবার তার মা শেফালি খাতুন বলেন, ‘পাশের গ্রামের মারুফ হাসান বাঁধন নামে এক ছেলের সঙ্গে আসমার সম্পর্ক ছিল বলে জানতে পেরেছি। রোববার সকালে তার সঙ্গেই সে চলে যায় এবং সোমবার কমলাপুরে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। এরপর থেকে বাঁধনের মোবাইল ফোনও বন্ধ। তাকে আটক করলেই আসমা হত্যার বিস্তারিত জানা যাবে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাঁধনের মা বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য এমনটা বলা হচ্ছে। রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে সে। এরপর আর ফেরেনি।’ বর্তমানে বাঁধন কোথায় আছে তা তারা জানেন না বলেও জানিয়েছেন।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পাশের গ্রামের ভুট্টো তায়ারের ছেলে বাঁধনের সঙ্গে আসমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রোববার সকালে আসমার মা-বাবা কাজের জন্য বাইরে গেলে বাবার ভোটার আইডি কার্ড ও জন্মনিবন্ধন নিয়ে নিখোঁজ হয় আসমা। একই সময়ে বাঁধনও নিখোঁজ হয়। স্থানীয়দের সন্দেহ, বাঁধনই আসমাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। কমলাপুরে দুজনই কোনও চক্রের হাতে পড়ে এবং আসমা খুন হয়। অথবা বাঁধনের সঙ্গীরা আসমাকে খুন করতে পারে বলে সন্দেহ এলাকাবাসীর।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, ‘ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘটনাটি ঘটেছে। নিয়ম অনুযায়ী সেখানকার রেল পুলিশ মামলা গ্রহণ এবং তদন্ত করছে। যেহেতু নিহতের বাড়ি পঞ্চগড়ে, এজন্য তদন্তের সময় আমাদের সহায়তার প্রয়োজন হবে। আমরা ছায়াতদন্ত করছি এবং তদন্ত কর্মকর্তাকে সহায়তা করছি। কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’
এদিকে আসমার বাড়িতে শোক ও সমবেদনা জানাতে গিয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল হক প্রধান, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।
আসমার বাড়ি পঞ্চগড় জেলা সদরের শিংপাড়া এলাকার কনপাড়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের ভ্যানচালক আবদুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় মেয়ে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ