বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র জমা ৭৬টি

স্টাফ রিপোর্টার: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে স্থান পেতে সভাপতি পদে ২৭ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৪৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেবার শেষ দিনে দুই পদে মোট ৭৬টি ফরম জমা পড়ে। প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে ফরমসহ কাগজপত্র জমা দেয়। এসময় শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে দলীয় কার্যালয়। মনোনয়নপত্র জমা দেবার সময়ে প্রার্থীর সাথে আসা কর্মী-সমর্থক শিক্ষার্ধীদের মুখে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই’ শ্লোগানে মুখর ছিলো।
গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট সভাপতি পদে ৪২ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৭০ জন মনোনয়ন ইচ্ছুক প্রার্থী ফরম কিনেন। ১‘শ টাকা মূল্যমানে এই ফরম ক্রয় করেন তারা। সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন নারী প্রার্থী ফরম কিনে ছিলেন। তাদের মধ্যে দু‘জন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের নাদিয়া পাঠান পাপন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ডালিয়া রহমান সংগৃহিত মনোনয়নপত্র জমা দেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর এই দুই পদের নেতা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে যাতে সারাদেশের ছাত্র দলের ১১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৫৮০ জন কাউন্সিলর ভোট দেবেন।
মনোনয়নপত্র জমার বিষয়টি জানিয়ে ছাত্র দলের সাবেক দফরত সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি বলেন, সর্বমোট ৭৬টি ফরম জমা পড়েছে। বিক্রি হয়েছিলো ১১০টি। আজ বুধবার থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ দিন জমাকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবেন সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলনের নেতৃত্বে বাছাই কমিটি। তিনি জানান, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৩১ আগস্ট। প্রার্থীর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হবে ২ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীদের প্রচারনা ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর মধ্য রাত পর্যন্ত। আগামী ৪ জুলাই প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ, তালিকার ওপর আপত্তি ও নিষ্পত্তি ৫ ও ৬ জুলাই এবং চূড়ান্ত তালিকা ৭ জুলাই প্রকাশ করা হবে। তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীরা আগামী ১৩ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত ভোটের প্রচারনা চালাতে পারবেন। এই নির্বাচন সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য সা্বকে ছাত্র দল নেতা খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, ফজলুল হক মিলনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি ও শামসুজ্জামান দুদু‘র নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আপীল কমিটি গঠন করা হয়।
জমা হওয়া তালিকায় সভাপতি পদে : আজিম উদ্দিন মেরাজ, মো. ইলিয়াস, হাফিজুর রহমান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সাজিদ হাসান বাবু, আল মেহেদি তালুকদার, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, তানভীর রেজা রুবেল, মো. এরশাদ খান, এবিএম মাহমুদ আলম, মো. আসাদুল আলম টিটু, এম আরজ আলী শান্ত, মো. সুরুজ মন্ডল, মো. আবদুল মাজেদ, মাইনুল ইসলাম, মো. ফজলুর রহমান, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, মুহাম্মদ ফজলুল হক নিরব, আরাফাত বিল্লাহ খান, এসএম আল আমিন, মো. জুয়েল মৃধা, আবদুল হান্নান, মো. শামীম হোসেন, মো. মামুন খান, এসএএম আমিরুল ইসলাম, সুলায়মান হোসাইন ও আল আমিন কাউছার।
সাধারণ সম্পাদক পদে : রিয়াজ মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, মো. ওমর ফারুক শাকিল চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, সাইফ মাহমুদ জুয়েল হাওলাদার, আবদুল মান্নান, নাদিয়া পাঠান পাপন, এবিএম বাকির জুয়েল, মিজানুর রহমান শরীফ, মো. ওমর ফারুক, মো. হাসান(তানজিল হাসান), মো. আলাউদ্দিন খান, রাশেদ ইকবাল খান, আমিনুর রহমান, ইকবাল হাসান শ্যামল, ইমদাদুল হক মজুমদার, মো. নাইম হাসান, কেএম সাখাওয়াত হোসেন, শাহনেওয়াজ, এএএম ইয়াহইয়া, ডালিয়া রহমান, সোহেল রানা, মোহাম্মদ কারীমুল হাই নাঈম, মো. মহিনউদ্দীন রাজু, আরিফুল হক, মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আসাদুজ্জামান রিংকু, মো. আবুল বাশার, মো. মিজানুর রহমান সজীব, মো. জুলহাস উদ্দিন, মো. মিজানুর রহমান, মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির, সাদিকুর রহমান সাদিক, আবদুল মোমেন মিয়া, কাজী মাজাহারুল ইসলাম, েেমা. আজিজুল হক সোহেল, শেখ মো. মশিউর, মো. জামিল হোসেন, শেখ আবু তাহের, মো. তবিবুর রহমান সাগর, মাজেদুল ইসলাম, মাহমুদুল আলম শাহিন, মো. জোবায়ের আল মাহমুদ রিজভী, নাজমুল হক হাবীব, মেভ. জহিরুল ইসলাম (দিপু পাটোয়ারি), আনিসুর রহমান সুমন, এমএম বাবুল আক্তার শান্ত ও মুন্সি আনিসুর রহমান।
প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা: ছাত্র দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের অবশ্যই ২০০০ সালে এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। প্রার্থীদের অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রত্ব আছে এমন প্রমাণপত্র অবশ্যই প্রার্থীদেরকে দাখিল করতে হবে। প্রার্থীকে ন্যুনতম স্নাতক পাশ হতে হবে এবং পাশের সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। প্রমাণের জন্য সকল সার্টিফিকেটের মূল কপি প্রার্থীদেরকে নিয়ে আনতে হবে।
বয়সসীমা উঠিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে গত ১০ জুলাই থেকে ছাত্র দলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের আন্দোলন এবং পরবর্তিতে তাদের ১২ নেতাকে সংগঠনের শৃঙ্খলা বিরোধী কার্য্ক্রমের অভিযোগ বহিষ্কারের পর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এই পুন:তফসিল ঘোষণা করলো। গত ৩ জুন বিএনপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্র দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয়। এরপর আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্প্দাক নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ ছাত্রদলের কমিটি গঠন হয়েছিলো ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আকরামুল হাসানকে নির্বাচিত করা হয়। রাজীব-আকরামের নেতৃত্বে ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা পর দীর্ঘদিন পরে এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়, যাতে ৭৩৬ জনকে পদ দেওয়া হয়েছিলো। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্র দলের অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে, এক.প্রার্থীদের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হতে হবে, দুই. অবশ্যই বাংলাদেশে অবস্থিত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতেহবে এবং তিন. কেবলমাত্র ২০০০ সাল থেকে পরবর্তীতে যেকোন বছরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণহতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ