বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চট্টগ্রামে পেয়ারা বিক্রেতাকে পুলিশের লাথির পর ‘মৃত্যুর গুজবে’ তুলকালাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে পেয়ারা বিক্রেতাকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন সদস্যের মারধরের জেরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে নগরীর প্রবেশপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার কয়েকদফা সংঘর্ষও ঘটেছে। এর ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শাহ আমানত সেতুর দুই পাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ পাশে কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকায় এ ঘটনা শুরু হয়। এতে ৪ পুলিশ সদস্যসহ ১৫জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় মহানগর গোয়েন্দা এএসআই জায়িদ আজিজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা হয়েছে। এতে ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) জাহিদুল ইসলাম বলেন, কথা কাটাকাটির জের ধরে ডিবি’র একজন সদস্যের সঙ্গে একজন পেয়ারা বিক্রেতার হাতাহাতি-মারামারি হয়েছে। পেয়ারা বিক্রেতা সম্ভবত আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় ওই পেয়ারা বিক্রেতা মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) এস এম মোস্তাইন হোসেন জানিয়েছেন, ডিবি’র বন্দর জোনের একটি টিম কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকায় অভিযানে গিয়েছিল। টিমের সদস্য এএসআই জায়িদ আজিজ একজন পেয়ারা বিক্রেতার কাছ থেকে পেয়ারা কেনেন। পেয়ারার দাম নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি শুরু হয়। পেয়ারা বিক্রেতা অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
উপকমিশনার বলেন, খবর পেয়ে আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পেয়ারা বিক্রেতাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তার বয়স পঞ্চাশের বেশি। তিনি আগে থেকেই পেশারের রোগী। এখন সুস্থ আছেন। কিন্তু স্থানীয় লোকজন খুবই উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রথমে এএসআই জায়িদকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তারা শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণপ্রান্ত মইজ্জ্যারটেক গোল চত্বরের দুই পাশ অবরুদ্ধ করে। এতে উভয়পাশ থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও ছুঁড়ছেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এএসআই জায়িদকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) জাহিদুল ইসলাম।
এ ঘটনায় এএসআই জায়িদ আজিজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নগরীর কর্ণফুলী থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এতে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার চারজনকে মঙ্গলবার আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ