বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনায় উপজেলা পর্যায়ে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ নেই!

খুলনা অফিস : খুলনায় ডায়াবেটিসের হার ক্রমেই বাড়ছে। শহরে ডায়াবেটিস হাসপাতাল থাকলেও উপজেলাগুলোতে নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এর ফলে তৃণমূলে ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা সেবা নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
খুলনা কপিলমুনি থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আজাহার (৪০) বলেন, আমি সব সময় কায়িক পরিশ্রম করতাম। হঠাৎ দেখি আমার ঘন ঘন প্র¯্রাব ও প্রচুর ক্ষুধা লাগতো। শরীরে ক্লান্ত ভাব সৃষ্টি হয়। পরে পরীক্ষা করে দেখি ডায়াবেটিস পয়েন্ট ২৬। এখন খুলনা ডায়াবেটিস হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। ৫ টাকা খরচে চিকিৎসা নেয়া যায়। তবে বাড়ি দূরে হওয়ার কারণে নিয়মিত সেবা নিতে খুলনা শহরে আসতে কষ্ট হয়। সকাল ৭টায় বাসা থেকে বের হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। এখানে ৫ টাকার একটি বইতে চিকিৎসা নেয়া যায়। ডুমুরিয়া উপজেলায় সরকারি খরচে সেবা পাওয়া যায়না বা বড় কোনো ডায়াবেটিস চিকিৎসক নেই। তাই যাতায়াতে অনেক ক্লান্ত হতে হয়।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা. এ,এস,এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খুলনায় উপজেলা কেন্দ্রিক আলাদাভাবে কোনো ডায়াবেটিস স্পেসালাইজড চিকিৎসক নেই। তবে মেডিসিন চিকিৎসক দিয়ে ডায়াবেটিস সেবা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ চিকিৎসক সঙ্কট আছে। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।
খুলনা ডায়াবেটিস হাসপাতাল’র কর্তব্যরত চিকিৎসক এম,বি জামান বলেন, ডায়াবেটিস হলো জীবনধারাজনিত রোগ। বর্তমান সময়ে প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত আছে। তাছাড়া যখন কোনো মানুষের মধ্যে কায়িক শ্রম কমে যায়, কম হাঁটা অধিক তৈলযুক্ত খাবার খাওয়া, ফাস্টফুড খাওয়া, খেলাধুলা না করা, স্থূল হওয়া, মানুষিক চাপ ও বংশগত সমস্যার কারণে সাধারণত ডায়াবেটিস হতে পারে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ২০১৮ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ১৯৮০ সালে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষ ও নারী ৩ দশমিক ৮ শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ২০০০ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে পুরুষ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও নারী ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হয়। ২০১৪ সালে এ হার বেড়ে দাঁড়ায় পুরুষ ১০ দশমিক ৩ শতাংশ ও নারী ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ পুরুষের চেয়ে নারী আক্রান্তের হার ১ শতাংশ কম। ২০১৯ সালে এ হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া এই রোগ শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নয়, বর্তমান শিশুদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে খুলনা ডায়াবেটিস হাসপাতালে প্রায় ৯৫,০০০ রোগী রেজিস্ট্রিভুক্ত আছে। যারা সকলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং সব মিলিয়ে খুলনায় এক লাখ ত্রিশ হাজার মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। খুলনা ডায়াবেটিস হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৬ বছরের শিশু রাজু। ছোট শিশুটিও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তার অভিভাবক বলেন, ছেলেটিকে স্কুল থেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। প্রথমে আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারিনি আমার ছেলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। সে স্কুলে যেয়ে হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ত, ঘন ঘন প্র¯্রাব করতে থাকে। হাঁটতে চাইতো না। শুধু কোলে থাকতে চাইতো। সারাক্ষণ ক্লান্ত থাকে। এ রকম পরিস্থিতিতে তার বাবা চিকিৎসকের কাছে গেলে তার রক্ত ও প্র¯্রাব পরীক্ষা দেন। তখনই ধরা পড়ে বাচ্চাটি টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
খুলনা ডায়াবেটিস হাসপাতালের সহকারী নিউট্রিসন ফারহানা আক্তার বলেন, খুলনা ডায়াবেটিস হাসপাতালে প্রায় ৩০ জনের মতো শিশু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। হঠাৎ শিশুদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এর কয়েকটি কারণ আছে। অন্যতম কারণ হচ্ছে মায়েদের সচেতনতার অভাব। অপ্রাপ্ত বয়সে মা হওয়া, মায়ের হরমোনের সমস্যা এবং বিবাহের পর দেরিতে বাচ্চা নেওয়া, বাচ্চার ওজন হঠাৎ কমে যাওয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ