সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দূষণে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে ঢাকা শহর

সংগ্রাম রিপোর্ট : নানামুখী দূষণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঢাকা শহর বসবাসের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। শুধু ঢাকা নয়, জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোয় এখন যে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে, তা হল শব্দদূষণ। নানা ধরনের শব্দে অতিষ্ঠ নগরবাসী। বাসার বাইরে পা দিলেই বিকট শব্দে মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যানবাহনের হর্ন ও হাইড্রোলিক হর্ন নগরবাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ। শব্দদূষণের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী কোমলমতি শিশুরা। তাই স্কুল-কলেজের আশপাশে হর্ন না বাজানোর বিধান থাকা জরুরি। ইদানীং শহরে যে শ্রবণ প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বাড়ছে, এজন্য ভয়াবহ শব্দদূষণকে অনায়াসে দায়ী করা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবল।
পরিবেশ অধিদফতরের গত বছরের জরিপে দেখা যায়, দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় শব্দের মানমাত্রা ১৩০ ডেসিবল ছাড়িয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে আড়াই থেকে তিনগুণ বেশি। এ ছাড়া বিভিন্ন জরিপে আমরা লক্ষ্য করেছি, ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় চলে গেছে। ঢাকার এ অধঃপতনের জন্য শব্দদূষণও দায়ী। বিভিন্ন ধরনের শব্দে মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে বলে পরিবেশ অধিদফতরের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে। সেইসঙ্গে যোগ হয়েছে উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগসহ, ফুসফুসজনিত জটিলতা, মস্তিষ্ক বিকৃতি, স্মরণশক্তি হ্রাস ও মানসিক চাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা। এটা খুবই দুঃখজনক যে, হাইকোর্টের নির্দেশনা সত্ত্বেও যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধ হয়নি। এখনও উচ্চশব্দের এ হর্ন বাজিয়ে রাজধানীতে ছুটছে যানবাহন। এর বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান ও মামলা হলেও রোধ করা সম্ভব হয়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ট্রাফিক পুলিশ ১৮ হাজার ৫২২টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করেছে আর এ সময়ে মামলা হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৩৩৮। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। যানবাহনের উচ্চমাত্রার হর্ন মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অতিরিক্ত হর্ন বাজানো নিয়ে আইন তৈরি হলেও এর প্রয়োগ বাস্তবে দেখা যায় না বললেই চলে। শত নিষেধ সত্ত্বেও প্রয়োজন ছাড়াই হর্ন বাজানো হচ্ছে, যা মানুষের মনে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আইনের প্রয়োগ ও ব্যক্তির সচেতনতাবোধই পারে এ সমস্যা থেকে জাতিকে রক্ষা করতে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারকে আরো কঠোর এবং শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থাও নেয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, হাইড্রোলিক হর্ন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের মধ্যেও রাজধানীসহ সারা দেশে এই হর্ন বিক্রি হচ্ছে। এটা অনতিবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এ ব্যাপারে গাড়ির মালিক ও চালকদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র হর্ন বাজানোর বদ অভ্যাস বাদ দিতে হবে। শহর বাসযোগ্য করতে চাইলে অবশ্যই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, যা আমাদের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের জন্য একান্ত কাম্য।
আমেরিকান স্পিচ অ্যান্ড হেয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন (আশা) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানুষের শ্রবণযোগ্য শব্দের সহনীয় মাত্রা সর্বোচ্চ ৪০ ডেসিবেল। কিন্তু হাইড্রোলিক হর্ন শব্দ ছড়ায় ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত। এর স্থিতি ৯ সেকেন্ডের বেশি হলে ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুসারে রাজধানীর মিশ্র আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা ৬০ ডেসিবেল। এর থেকে উচ্চমাত্রার শব্দে শ্রবণশক্তি হ্রাস, বধিরতা, হৃদরোগ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, বিরক্তি সৃষ্টি ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘœ ঘটতে পারে। সহজেই অনুমান করা যায়, ভয়াবহ এক পরিস্থিতির মধ্যে আমরা বসবাস করছি এবং এটি এখন জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান শব্দদূষণ চলতে থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ বধির হয়ে যাবে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা জিপজেটের জরিপ মতে, বিশ্বের সবচেয়ে শারীরিক ও মানসিক চাপের শহরগুলোর মধ্যে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বার্ষিক বৈশ্বিক জরিপে বসবাসের অযোগ্যতায় দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা। ম্যারচার কনসাল্টিং গ্রুপ নামক গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, এশিয়ার দ্বিতীয় নিকৃষ্টতম শহর ঢাকা। এত অযোগ্যতা সত্ত্বেও প্রায় দুই কোটি মানুষের ভার বুক চিতিয়ে গ্রহণ করছে এ নিকৃষ্ট শহর।
সূত্র মতে, পরিবেশ দূষণ, বায়ুদূষণ, সড়ক দুর্ঘটনা, ট্রাফিক জ্যাম, পানিবদ্ধতা প্রতিটি শব্দের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক খুবই নিবিড়। ঢাকার যেন এগুলোকে ছাড়া চলা বড় দায়। ২০১৮ সালের বিশ্ব বায়ুর মান শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,‘বিশ্বের রাজধানী হিসেবে দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা। রাস্তার পাশের ফুটপাতটাও দূষণ থেকে মুক্ত নয়। স্কুলের কচি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে হাসপাতালের বয়োবৃদ্ধ লোকটি পর্যন্ত রাস্তায় মাস্ক ছাড়া চলতে পারে না। যে নিঃশ্বাসে মানুষ প্রাণবন্ত হয়, উদ্দীপ্ত হয়, সে নিঃশ্বাস যখন হাসপাতালে টিকিট কেনার কারণ হয়, তখন তাকে তো দূষিত বায়ুই বলা হবে।
যে শহরের দূষিত বায়ু বিশ্বের দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে, সে শহরের মানুষের জীবনযাত্রার মান কতটা বিপর্যয়ের সম্মুখীন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ দূষিত বায়ু কর্তাব্যক্তিদের ললাটে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে পারেনি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিশ্বে বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারত ও বাংলাদেশে এবং জনসংখ্যায় ভারাক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে দূষিত দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
যানজট ঢাকা শহরের নিত্যসঙ্গী। যানজট এমন একটি সমস্যা, যার কুফল লিখতে কলমের কালি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু দুই ঘণ্টা চিন্তা করে এক লাইনও সুফল লেখা যাবে না। বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নামবিও’র প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইন্ডেক্স ২০১৯-এর জরিপ মতে, ঢাকা হচ্ছে সময় অপচয়, ট্রাফিক অদক্ষতা ও যানজটের শহর। এ পরিসংখ্যান জাতি হিসেবে খুবই লজ্জার। যানজটের সঙ্গে শুধু ব্যক্তি সমস্যাই জড়িত নয় বরং রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক সমস্যাও সম্পৃক্ত।
প্রতিদিন ঝাড়ু দেয়ার কথা থাকলেও পরিষ্কার করা হয় না রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক। নিয়মিত সরানো হয় না সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানের ময়লাও। তাই রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমছে ময়লার স্তূপ। সিটি কর্পোরেশনের মাঠকর্মীরা বলছেন, জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে এই দশা। আর পরিবেশবিদরা বলছেন, সংকট সমাধানে তৎপরতা নেই নগর প্রশাসনের। রোজই পরিষ্কার করা হলেও ভাগাড় সদৃশ রাজধানীর জুরাইন-গেন্ডারিয়া সড়ক। জুরাইন ফ্লাইওভারের নিচের সড়ক আর বংশালের মাঠ যেন মশার আঁতুড়ঘর। একজন এলাকাবাসী বলেন, পুরো মাসেও আমি এই রাস্তা পরিষ্কার করতে দেখি না। আরেকজন বলেন, বললে নানা রকম অজুহাত দেখায়। এই অসুস্থ, এই এটা নাই, ওটা নাই।
এমন বেহাল দশা দেখা গেছে যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, লালবাগ, কাঁঠাল বাগান, বনশ্রী ও ধানম-িসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন এলাকায়। উত্তর সিটি কিছুটা পরিচ্ছন্ন হলেও মোহাম্মদপুর, মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার করতে দেখা যায়নি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মীদের। একজন স্থানীয় বলেন, সরকার টাকা তো ঠিকই নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সপ্তাহে আসে না তিনদিনও। নগর প্রশাসনের তৎপরতার অভাবে দূষণজনিত নানা রোগ ছড়াচ্ছে বলে দাবি পরিবেশবিদদের। বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, সারা ঢাকা শহরে এখন মহামারী অবস্থা। নগর প্রশাসন একটু নজর দিলেই দূষণজনিত নানা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় খুব বেশি অগ্রগতি ঘটাতে পারেনি। ফলে বিশ্বে প্রতি বছর প্রাণ হারাচ্ছে হাজারও মানুষ। বাস্তুচ্যুত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান সম্পদ। এ দুর্যোগ প্রকৃতিগত হলেও মানুষ কখনও এর দায়ভার এড়িয়ে যেতে পারে না। বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের বিরূপ আচরণ। মানুষ প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মূল্যবান গাছ কাটছে পরিণাম না ভেবেই। বন উজাড় করে তৈরি করছে ফসলি জমির মাঠ বা গড়ে তুলছে বসতি। পাহাড় কেটে তৈরি করছে বসতবাড়ি। শিল্প-কারখানার কারণে বাড়ছে কার্বন ডাই অক্সাইড। এখানে সেখানে তৈরি করা হচ্ছে ইটভাটা, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আর এসব কারণে দিন দিন প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, বজ্রপাত ইত্যাদি। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা।
বর্তমানে বন্যার কবলে বাংলাদেশ। উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বন্যাদুর্গত এলাকা এখন। কুড়িগ্রামে সাত লাখ ও গাইবান্ধায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি। টাঙ্গাইল, জামালপুর, বগুড়া, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ জেলাও বন্যায় আক্রান্ত। রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী বন্যায় ১ লাখ ৯০০ হেক্টর ফসলি জমি এবং ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৩ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে কৃষক ও দরিদ্র পরিবারগুলো। ফসল ও বসতভিটা হারিয়ে আজ তারা নিঃস্ব এবং খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অভিযোগ আছে, বন্যা মোকাবেলায় সরকারের ত্রাণ ও সার্বিক সহযোগিতা পর্যাপ্ত নয়। এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হয়। বন্যা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, বজ্রপাত ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার ভালো উপায় হতে পারে গাছ লাগানো। উপকূলীয় অঞ্চলে বেশি বেশি গাছ লাগানো হলে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। এভাবে ক্ষতির ব্যাপকতা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা অনেক সময় কল্পনার বাইরে চলে যায়, যা মুহূর্তে কেড়ে নেয় হাজারও মানুষের প্রাণ। নিঃস্ব হয়ে লাখ লাখ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। এ ধরনের দুর্যোগ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েই চলেছে, যা আগামী দিনের জন্য একটি অশনিসংকেত। তাই প্রকৃতির সঙ্গে বিরূপ আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে আমাদের। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত যেমন বন্যাকবলিত এলাকার মানুষকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তাদের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ