শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কাশ্মীরের শ্রীনগরে ব্যাপক বিক্ষোভ-সংঘর্ষ হতাহত ৫ ॥ আবারও কারফিউ জারি

# কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ
# কাশ্মীর নিয়ে পরমাণু যুদ্ধের আশংকা পাক সেনাবাহিনীর
অধিকৃত জম্ম-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সারারাত পুলিশের সংঘর্ষের পর গতকাল রোববার সকালে শ্রীনগরের অনেক এলাকায় আবারও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ভারত সরকার। সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত ও ২৪ আহত হয়েছে বলে দুজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা আর একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। রয়টার্স, ডন।
শনিবারই শ্রীনগরে কারফিউ শিথিল করে যোগাযোগ ব্যবস্থা শুরুর ঘোষণা দেয় ভারত সরকার। পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়। রোববার সকালেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আবারো রোড ব্লক স্থাপন করে নিরাপত্তা বাহিনী ও অধিবাসীদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে নির্দেশ দেয়। এসব স্থানে নিরাপত্তা রক্ষীরা জনতাকে জানায়, তারা যেনো ঘরে ফিরে যান, কারণ কারফিউ বলবত করা হয়েছে। একজন জেষ্ঠ্য সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কমপক্ষে ২৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের সবাই প্যালেট বুলেটের আঘাতে আহত। তবে সংঘর্ষ হয়েছে কি পর্যায়ে সে বিষয়ে কাশ্মীর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কোন কর্মকর্তা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। আর একজন জেষ্ঠ্য সরকারি কর্মকর্তা জানান, শ্রীনগরের ২ ডজনের বেশি স্থানে উত্তেজিত জনতা নিরাপত্তারক্ষীদের পাথর ছুড়েছে।
সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ হয়েছে শ্রীনগরের পুরাতন শহরের রাইনাওয়ারি, নওহেত্তা এবং গোজওয়ারা এলাকায়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর প্যালেট, টিয়ারগ্যাস এবং মরিচের গুড়ার গ্রেনেড ছুড়ে। মরিচের গুড়ার গ্রেডে সম্প্রতি কাশ্মীরে ব্যবহার শুরু হয়েছে। এই গ্রেনেড চোখ ও চামড়ায় তীব্র অস্বস্তি তৈরি করে।
শ্রীনগরের প্রধান হামপাতালের চিকিৎসকরা জানান, যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের ১৭ জন প্যালেট দ্বারা আহত হয়েছেন। এদের ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের কর্মককর্তা ও পুলিশের ২ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, একজন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধও হাসপাতালে ভর্তি হয়ছিলেন। উপর্যপুরি মরিচ গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাস শেল বিস্ফোরণে মোহাম্মদ আইয়ুব নামের এই ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি শ্বাস নিতে পারছিলেন না। শনিবার রাতেই হাসপাতালে মোহাম্মদ আইয়ুব মারা যান।

সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ
ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে দেশটির সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জন। আবেদনে বলা হয়েছে, কাশ্মীরীদের মতামত না নিয়ে এই সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ছাড়াও আবেদনকারীদের মধ্যে সরকারের বেশ কয়েকজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

কাশ্মীর অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় -পাকিস্তান
কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে টানা দেড় ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কাশ্মীর সংকট নিয়ে চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। রাশিয়াও একই রকমের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তবে ভারত ও পাকিস্তানকে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছে।
কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা বিষয়ক জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার ফার্ন্দান্দেজ-তারাঙ্কো এবং শান্তিরক্ষা অপারেশনে সামরিক উপদেষ্টা কার্লোস হামবার্তো লোইটে’র বিবৃতি শোনে ১৫ সদস্যের পরিষদ। সেখানে কাশ্মীর সংকটকে গুরুতর উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন পরিষদের সদস্যরা। এরইমধ্যে উত্তেজনায় ভরা ও অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে উসকানি বা প্ররোচণা না দিতে ভারত ও পাকিস্তান -কারো উচিত হবে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে। ওদিকে নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে বাকযুদ্ধ হয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মালিহা লোদি ও ভারতের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আকবর উদ্দিনের মধ্যে।
রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে মালিহা লোদি বলেন, ৫০ বছরেরও বেশি সময় পরে কাশ্মীর ইস্যুতে প্রথম বৈঠক করলো পরিষদ। এটা কেবল প্রথম পদক্ষেপ। এর মধ্যদিয়ে কাশ্মীরের জনগণকে সমর্থন দিয়ে যাবে ইসলামাবাদ। তিনি বলেন, ভারত দাবি করেছে কাশ্মীর বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠক তাদের সেই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে। এখন সারা বিশ্ব দখলীকৃত রাজ্য ও তাদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে।
গত ১৩ আগস্ট পাকিস্তান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক আহ্বানের জন্য চিঠি লেখে। এরপরই পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীনও একই আহ্বান জানায়।
ওদিকে, জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন সাংবাদিকদের বলেছেন, কাশ্মীর সংকটে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ভারত বা পাকিস্তান কারো প্ররোচনা দেয়া উচিত হবে না। তাদেরকে বিরত থাকতে হবে। জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দমিত্রি পোলিয়ানস্কি বলেছেন, সংকটের বিষয়ে মস্কো উদ্বিগ্ন। তবে এটি একটি দ্বিপক্ষীয় ইস্যু। ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লিই সরাসরি উত্তমভাবে এর মোকাবিলা করতে পারে। পার্সটুডে
জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান তুরস্কের
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর নিয়ে চলমান জটিলতা নিরসনে জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। শনিবার এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাতিসংঘের নীতিগত কাঠামোর মধ্যে থেকে কাশ্মীর বিবাদ সমাধান করা উচিত।
গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।
১৯৭১ সালের পর কাশ্মীর ইস্যুতে এই প্রথমবারের মতো বৈঠক করলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ভারত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর চীনের আহবানে শুক্রবার ৯০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে চীন কাশ্মীর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বললেও নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দিতে সম্মত হয়নি সদস্য রাষ্ট্রগুলো।
এক বিবৃতিতে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবারের আলেঅচনাকে স্বাগত জানিয়ে বলে, সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধ সমাধা করতে হবে। উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এমন পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানায় তারা।

জাতিসংঘের আলোচনাকে স্বাগত জানালেন ইমরান খান
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গত শনিবার তিনি এমন সময় এ ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করলেন যখন একদিন আগে ভারত নজিরবিহীন এ বৈঠকের ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।
ইমরান খান গত শনিবার নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে দেয়া এক পোস্টে লিখেছেন, “আমি অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠককে স্বাগত জানাচ্ছি।”
এর আগে গত শুক্রবার রাতে নিউ ইয়র্কে চীনের অনুরোধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম জাতিসংঘে কাশ্মীর নিয়ে কোনো আলোচনা হলো; যদিও সে আলোচনা থেকে পাকিস্তানের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী ফল বের হয়ে আসেনি।
ইমরান খান তার পোস্টে আরো লিখেছেন, “কাশ্মীরি জনগণের দুর্দশা মোচন এবং কাশ্মীর বিতর্কের অবসান ঘটানো এই বিশ্ব সংস্থার দায়িত্ব।”

কাশ্মীর সংকট পরমাণু যুদ্ধের কারণ হতে পারে -পাক সেনাবাহিনী
কাশ্মীর সংকট থেকে দিল্লি-ইসলামাবাদ পারমাণবিক যুদ্ধের সূত্রপাত হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনামুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গাফুর বলেন, কাশ্মীর থেকে দৃষ্টি সরাতে ভারত পাকিস্তানে হামলা করতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশির সঙ্গে যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ গফুর বলেন, ভারতের যে কোনও হুমকি মোকাবিলা করতে পাকিস্তান ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত-পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কাশ্মীর ইস্যুতে।
মেজর জেনারেল আসিফ বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে ভারত কাশ্মীর থেকে দৃষ্টি সরাতে হামলা চালাতে পারে। আর আমরাও যেকোনও হামলা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুতে দুই দেশ এখন পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিলের প্রেক্ষাপটে এরইমধ্যে চীনের আহ্বানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক অনানুষ্ঠানিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠক কাশ্মীর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বললেও নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দিতে সম্মত হয়নি সদস্য রাষ্ট্রগুলো। পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের মধ্যে বেশিরভাগ সদস্যই কাশ্মীর সংকটকে ভারত ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরে।
গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। এরপর ৮ আগস্ট কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন দেশটির অধিকারকর্মী তেহসিন পুনাওয়ালা। কাশ্মীর উপত্যকায় চলমান অচলাবস্থাকেও চ্যালেঞ্জ করেন তিনি।
এবারের আবেদনটি করেছেন সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল কপিল কাক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজার জেনারেল অশোক মেহরা।অ তাদের দাবি, এই ধারা বাতিল করে ভারতের সঙ্গে কাশ্মীরের সম্পর্কের হৃদয়ে আঘাত করা হয়েছে। কাশ্মীরিদের মতামত না নিয়ে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
আবেদনকারী অন্যান্যরা হলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জম্মু ও কাশ্মীর বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য রাধা কুমার, সাবেক আইএএস কর্মকর্তা হিন্দাল হায়দার তিয়াবজি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব গোপাল পিলাই এবং আন্তপ্রদেশীয় পরিষদের সাবেক সচিব অমিতাভ পান্ডে।
শুক্রবার আইনজীবী এমএল শর্মার পিটিশনের একটি শুনানি মূলতবি করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালাদের দাবি, ‘এই আবেদনের কোনও অর্থ নেই।’ প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগই বলেন, ‘এটা কি ধরনের আবেদন? আপনি কি চ্যালেঞ্জ করছেন? আবেদনকারী জানান, তিনি আবারও আবেদন জমা দেবেন।

কাশ্মীরীদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে : ইরানি মুফতি
ইরানের জ্যেষ্ঠ মুফতি আয়াতুল্লাহ লোতফোল্লাহ সাফি গোলপেগেনি বলেছেন, ভারতের সামরিক বাহিনী কাশ্মীরের জনগনের ওপর নির্দয়ভাবে অত্যাচার চালাচ্ছে। কোন পাপের কারণে কাশ্মীরের নিরীহ লোকদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে? এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ইরানের জ্যেষ্ঠ এ মুফতি।
বিবৃতিতে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক কাশ্মীরিদের ওপর অমানবিক নিপীড়নের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ভারতের কাশ্মীরে বিপর্যয়কর ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়টি প্রতিটি স্বাধীনতা প্রত্যাশী ব্যক্তির হৃদয়কে ভেঙে দেয়।
তিনি বলেন, কাশ্মীরের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকারের তথাকথিত লোকেরা, জাতিসংঘ এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা কেন নিরব রয়েছে? তারা কেন নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে এই অত্যাচারের নিন্দা করে না?
গত ৫ আগস্ট ভারত কাশ্মীরের উপর থেকে বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কিত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে। জারি করা হয় কারফিউ এবং বন্ধ করে দেওয়া হয় টেলিফোন সংযোগ। এক কথায় বলতে গেলে কাশ্মীরকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে ভারত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ