বুধবার ০১ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

রংপুরে বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু

রংপুর অফিস : বায়ু দূষণ সৃষ্ট জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে অধিকতর কার্যকর ও সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে রংপুরে বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্র (ক্যামস) এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাতাসের বিদ্যমান সার্বক্ষণিক মান নির্ণয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ক্যামস-এর এই যাত্রা শুরু হয়েছে। রংপুরে সাম্প্রতিক সময়ে স্থাপিত এই বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রে ১ জুলাই থেকে বায়ুতে বিদ্যমান বস্তু কণা বায়ু দূষক (পারটিকুলেট ম্যাটার) পিএম ২ দশমিক ৫ ও পিএম ১০ , সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড  পর্যবেক্ষণ করা সহ আবহাওয় সম্পর্কিত বিভিন্ন উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রের ভবনের ছাদে স্থাপিত পরিমাপক যন্ত্রের মধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ইন্টারনেটে সংযুক্ত কম্পিউটারে সংরক্ষনের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঢাকা অফিসে প্রেরণ করা হচ্ছে।
বায়ু দূষণ সৃষ্ট জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রনে আরও কার্যকর ও সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে পবিবেশ, বন  ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধিন পরিবেশ অধিদপ্তর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে “ক্লিন এয়ার এন্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট (কেস)” প্রকল্পের আওতায়  রংপুর মহানগরীর সাতগাড়া ইসলামবাগ এলাকায় বাংলাদেশ টেলিভিশন, রংপুর প্রক্ষেপণ উপ কেন্দ্রের ক্যাম্পাসে প্রায় ১ হাজার বর্গ ফুট জায়গার উপর এ লক্ষ্যে একটি দ্বি-তল অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবন নির্মাণ শেষে বায়ুর মান পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন সম্পন্ন করে কেন্দ্রর নবনির্মিত ভবনটি গত ৩০ শে জুন স্থানীয় পরিবেশ অধিদপÍর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান । পরে ১ জুলাই থেকে  বায়ুমান সংক্রান্ত বিভিন্ন  তথ্য উপাত্ত ঢাকায় প্রেরণ শুরু হয়।
 জানা গেছে, স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষনাগার সহকারি মামুনুর রশিদ এবং নমুনা সংগ্রহকারী  শাহিন আলমকে ক্যামস তথ্য সংগ্রহের জন্য বর্তমানে এর অপারেটর হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা জানান, ভবনটির ছাদে স্থাপিত এন্টেনা সদৃশ পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতি ১৫ মিনিট পর পর বাতাসের মান এবং আবহাওয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন নিবির তথ্য-উপাত্ত ইন্টারনেট সংযুক্ত কম্পিউটারের মাধ্যমে সংগ্রহ করার পর তা বিশেষ সফটওয়্যাারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে ।  এব্যাপারে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডক্টর মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, রংপুরে বায়ুমান পরিবীক্ষন কেন্দ্র স্থাপনের ফলে এখানকার বর্তমান বায়ুমান এবং দূষণের মাত্রা র্নিণয় করে তা যথাযথ ভাবে অবগত হয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, তার বিভাগ  থেকে বুড়িমারী স্থল বন্দর এবং তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে পাথর ক্রাশিং মেশিনের সাথে সরাসরি কর্মরত শ্রমিকদের ক্ষতি এবং পাথর ভাঙ্গার ফলে সৃষ্ট ধুলোবালি বাতাসে মিশে পরিবেশের ক্ষতির মাত্রা নিরূপণের জন্য  গবেষণা শুরু হয়েছে। ক্যামস থেকে প্রাপ্ত তথ্য এ ক্ষেত্রে গবেষণা কাজে ব্যাপক সহায়তা করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ