বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

সচেতনতা তৈরিতে বাসাবাড়িতে স্টিকার থেরাপি ডিএনসিসির

স্টাফ রিপোর্টার : এডিস মশার উপদ্রব ঠেকাতে বাসাবাড়িতে স্টিকার লাগাতে মাঠে নামবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উত্তর সিটির আওতাধীন সব বাসা-বাড়িতে একযোগে চিরুনি অভিযান চালিয়ে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করা, সতর্কতা ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে স্টিকার থেরাপি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি কর্মকর্তারা। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে এডিসের লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, ডিএনসিসির আওতাধিন বাসা-বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা আছে কিনা সেটি যাচাই করতে এরইমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রথমবার কোনোবাড়িতে লার্ভা পাওয়া গেলে সেই বাড়ির মালিককে সতর্ক করা হয়। এরপরও সচেতন না হলে জরিমানাও করা হয়। কিন্তু আমরা মনে করি এটি যথেষ্ট নয়।
স্টিকার থেরাপির পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এবার পরিকল্পনা করছি যাতে একযোগে সকল বাসা-বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সবাইকে সচেতন করতে পারি। আর এজন্য আমরা যেটি করবো তা হল- যতগুলো বাড়িতে অভিযান চালানো হবে ততগুলো বাড়িতে স্টিকার লাগানো হবে। যে বাড়িতে লার্ভার অস্তিত্বের সন্ধান মিলবে সে বাড়িতে ‘লার্ভা আছে’ এবং যে বাড়িতে লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না ‘লার্ভা নেই’ লেখা সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে দেবো। এতে করে যে বাড়িতে ‘লার্ভা আছে’ স্টিকার থাকবে সে বাড়ির মালিক সতর্ক হবে এবং যে বাড়িতে ‘লাভা নেই’ স্টিকার থাকবে সে বাড়ির মালিক আরও সচেতন হবে। আর এভাবেই আমরা সকলের সম্মিলত প্রচেষ্টায় এডিসের উপদ্রব মোকাবিলা করতে পারবো।
ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্টিকার থেরাপির এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এরইমধ্যে সকল পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এমনকি অভিযানের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০ ভাগে ভাগ করে আবার সেই ১০টির প্রতিটিকেও ১০ ভাগে ভাগ করে জনবল কাঠামো সাজানোর কাজও প্রায় চূড়ান্ত বলে জানিয়েছেন তারা। তাই সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৮ আগষ্ট থেকেই ‘এ বাড়িতে/স্থাপনায় এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে’ লেখার স্টিকার থেরাপি নিয়ে মাঠে নামবে অভিযানের টিম। আর গঠিত এ টিমগুলোর অভিযান ডিএনসিসির আওতাধীন প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার বাসা-বাড়িতে পারিচালিত হবে। তবে কতদিন ধরে অভিযান পরিচালিত হবে সে বিষয়ে এখনও কিছু জানাতে পারেন নি কেউ।
‘স্টিকার লাগানোর অভিযান নিয়ে আমরা প্রাথমিকভাবে যে পরিকল্পনা করেছি সেটি প্রায় চূড়ান্ত। এখন আমাদের জনবলের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। সংস্থায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এরইমধ্যে অন্যান্য সংস্থা থেকে জনবলের সংকট নিরসন করা হয়েছে এ অভিযান পরিচালনার জন্য। তাই হয়তো প্রতিটি ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনার জন্য ১০০ জন করে জনবল থাকবে। তবে সেটি যদিও এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কালকের মধ্যে চূড়ান্ত হলে ১৮ তারিখ থেকেই কার্যক্রম শুরু হবে’- বলেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্টিকার লাগিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। পরিকল্পনা শেষ হলে চূড়ান্তভাবে বিস্তারিত সব তথ্য জানাবো।
তবে মশা নিধনে মূল কাজটি না করে এমন কার্যক্রমে সফলতার লক্ষণ দেখছেন না। উল্টো হাস্যকর মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা বলছেন, যেখানে ঠিক মত মশার ওষুধ ছিটানোর মত লোক নেই, সেখানে প্রতিটি বাড়িতে অভিযান চালানোটা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। একই মত নগরবাসীর।

ডেঙ্গু বিষয়ে তথ্য দেবে মোবাইল অ্যাপ ‘স্টপ  ডেঙ্গু’
ডেঙ্গু জ্বর ও এর জন্য দায়ী এডিস মশা মোকাবিলায় বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে ‘স্টপ ডেঙ্গু’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। যে কোনো স্মার্ট ফোনে এই অ্যাপ ইনস্টল করে নিলে ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা ও এডিস মশার বিস্তার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানা যাবে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় স্কাউট ভবনে ‘স্টপ ডেঙ্গু’ অ্যাপটি উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সার্বিক তত্ত¡াবধানে বিশেষায়িত অ্যাপটি তৈরি করতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ই-পোস্ট ও বিডি-ইয়ুথ।
‘স্টপ ডেঙ্গু’ অ্যাপের ব্যবহার ও কার্যকারিতা সম্পর্কে  ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার বলেন, এই অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে এডিস মশার জন্ম ও বেড়ে ওঠা, ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা, হাসপাতালের নাম, চিকিৎসা পদ্ধতি, এমনকি মশার প্রজনন ক্ষেত্রও শনাক্ত করা যাবে। এর মাধ্যমে সারাদেশের মশার প্রজনন স্থানের ম্যাপিংও করা সম্ভব হবে।
শমী কায়সার জানান, যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে এই অ্যাপ ব্যবহার করে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ সহজেই মশা নিধনের কাজ করতে পারবে। একইসঙ্গে স্থান অনুযায়ী জনবল নিয়োগ, মশা নিধনের ওষুধ প্রয়োগ এবং আগাম প্রস্তুতিও নিতে পারবে সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় সরকার।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সবাইকে এই অ্যাপ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবার প্রচেষ্টা ও এ ধরনের উদ্যোগের কারণেই দ্রুত ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর একটি কলেজের অধ্যাপক এবং মিরপুর-২ এর বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, যখন কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয় তখন সিটি করপোরেশন নাগরিকদের ঘাড়ে সে দোষ চাপায়। আর তখনি নাগরিকদের সচেতন করতে নানা কার্যক্রম হাতে নেয়। কিন্তু যে কাজ তাদের করার কথা সে কাজটি তারা ঠিকমত করছে কিনা সে দিকে খেয়াল নেই। তারা ঠিকমত মশার ওষুধ ছিটাতে পারে না, জনবল নেই বলে দায় সারে। কিন্তু যখন জনগণকে সচেতন করতে নানান অভিযান পরিচালনার কথা বলে তখন জনবলের অভাব হয় না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ ও অধিকার কর্মী ইকবাল হাবীব বলেন, এ পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। এতে মানুষ অন্তত সচেতন হবে। কিন্তু ডিএনসিসি যে উদ্যোগ নিয়েছে এটি তো এক ধরনের লোক দেখানো। কারণ তাদের তো ওই পরিমাণ জনবল নেই যে অভিযান পরিচালনা করবে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি। এতে যা হবে- অভিযান শুরুর কয়েকদিন পর দেখা যাবে অনেক বাড়িতে স্টিকার নেই। তখন যদি ডিএনসিসিকে প্রশ্ন করা হয় এ বাড়িতে স্টিকার নেই কেনো, তখন তারা কি উত্তর দিবে?
তিনি আরও বলেন, কাজেই যেখানে জনবল সংকট সেখানে এমন উদ্যোগ হাস্যকর বটে। সুতরাং উপলক্ষ্য কেন্দ্রিক কার্যক্রম না নিয়ে বরং বছরব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সেই সঙ্গে যেসব স্থান পরিত্যক্ত এবং সরকারি স্থাপনা, যেগুলোকে জনগণ নিজেদের মনে করে না আপাতত সেসব স্থানে নজর দেওয়া উচিত। কারণ সেসব স্থানে সৃষ্ট মশাগুলো নিরাপদ কিংবা সচেতন বাড়ির লোকদের আক্রান্ত করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ