বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

ক্ষমতাসীন আ’লীগ দেশকে বিরাজনীতিকীকরণ করছে

গতকাল শনিবার বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে গাজীপুর পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ আবদুল করিমসহ তার অনুসারীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগদান করেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতাসীন আয়ামী লীগ বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকীকরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার সকালে এক যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে রাজনীতি শূন্য করে তুলেছে, বিরাজনীতিকীকরণ করছে, ডি-পলিটিসাইজড করছে। যেন রাজনীতি করতে না পারে বাংলাদেশের মানুষ, যেন রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি করতে না পারে তার জন্য তারা একে একে সংবিধানে পরিবর্তন নিয়ে এসছে এবং সেই পরিবর্তনগুলো করে বাংলাদেশের রাজনীতিকে সম্পূর্ণভাবে শূন্য করে দেয়ার চক্রান্ত তারা শুরু করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের (সরকার) মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- দেশে এক দল থাকবে, আর কোনো দল থাকবে না। আগে বাকশাল করেছিলো, এখন তারা সেটা আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তাকেই তারা ক্ষমতায় রাখতে চায়। এটা তাদের বহুদিনের ইচ্ছা। সেই ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ বাকশাল্ প্রতিষ্ঠা করেছিলো, বর্তমান এই আওয়ামী লীগ আবার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে এবং এজন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা পরিকল্পনা করছে।
১৯৭২-৭৫ সালকে আওয়ামী লীগের ‘দুঃশাসনের সময়’ উল্লেখ করে ওই সময়ে ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতি, বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, হত্যার চিত্র তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আমরা অনেকেই ভুলে গেছি- সেই সময়ে বিরোধী দল করতে বলে তরুণ যুবককে তার বাবাকে দিয়ে কুরাল দিয়ে গলা কাটিয়েছে, সেই মাথা নিয়ে তারা ফুটবল খেলা করেছে। এটা ইতিহাস। আজকে একইভাবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে, রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করছে। আজকে বাংলাদেশের কোথাও ভালো অবস্থা নেই, কোথাও সুশাসন নেই। আছে দুঃশাসন। আজকে কোনো আইনশৃঙ্খলা নেই, মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, মহিলা-শিশুদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, বিনা বিচারে হত্যা করা হচ্ছে এবং বিনা বিচারে আটক করে রাখা হচ্ছে বছরের পর বছর।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু তাই নয়, অর্থনীতিকে শেষ করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো পুরোপুরিভাবে দেউলিয়া করে ফেলা হচ্ছে। সর্বশেষ যেটা হয়েছে- এই যে, কুরবানির চামড়া নিয়ে। এই কুরবানি চামড়া বিক্রি করে আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো, মাদরাসা-এতিমখানাগুলো তাদের ভরণপোষণের জন্য অর্থ উপার্জন করতো। সেই ব্যবস্থাটাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আজকে তাদের কারণেই, তাদের সমস্ত দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের কারণেই সিন্ডিকেট তৈরি করে এবং একই সঙ্গে সরকারের কোনো নীতি না থাকার কারণে চামড়া শিল্প আজকে ধবংস করে দেয়া হয়েছে। এটা আরেকটা চক্রান্ত। আমাদের চামড়া শিল্প উপরের দিকে উঠছিলো। এখন আমাদের চামড়াজাত দ্রব্যের চাহিদা বিদেশে খুব বেড়ে গিয়েছিলো। এরমধ্য দিয়ে আমাদের চামড়া শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে।
গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গাজীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আব্দুল করিমের নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। বিএনপিতে যোগদানে আব্দুল করিমকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান বিএনপি মহাসচিব। এসময় গাজীপুরের নেতা-কর্মীদের সংগঠন শক্তিশালীর আহ্বানও জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, সংগঠনের বিকল্প কিছু নেই। সংগঠন থাকলেই আপনি আন্দোলনে সফল হতে পারবেন, সংগঠন থ্কালে আপনি নির্বাচনে সফল হতে পারবেন। এই বিষয়টা আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের মনে রাখতে হবে।  আমাদের কথা খুব পরিষ্কার কথা-সবার আগে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। উনি মুক্ত না হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা যাবে না। আমরা অবিলম্বে এই যে অনৈতিক সরকার, এই যে দখলদারী সরকার, যারা নির্বাচন না করে জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে তাদেরকে পদত্যাগ করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন চাই এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বাতিল করে দিয়ে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এটা ছাড়া বাংলাদেশের কোনোদিনই রাজনৈতিক মুক্তি ও অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে না।
বিএনপিতে যোগদানকারী গাজীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আব্দুল করীম বলেন, আমরা অবশ্যই দেশকে ভাল্বোাসি। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে, দেশের আইনশৃঙ্খলা সুন্দর থাকবে, ভালো থাকবে, একজন মানুষ স্বাধীন হিসেবে দেশে বসবাস করবে-এটাই যদি আপনারা না পারেন, এটার প্রতিবাদ যদি আমরা না করতে না পারি তাহলে আমরা কিসের মানুষ হলাম?  সেই কারণেই এদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য, বিগত দিনে যে আইনশৃঙ্খলা ছিলো, বিগত দিনে যে গণতন্ত্র ছিলো সেই গণতন্ত্রকে আবার পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আজকে আমি এই দলে যোগ দিয়েছি। আপনারা এই দুঃসময়ে দলকে যে ধরে রেখেছে তা কিসের জন্য? আপনাদের ব্যক্তিত্বের জন্য, মানুষকে বাঁচানোর জন্য, দেশকে বাঁচানোর জন্য। এজন্য আমার পক্ষ থেকে আপনাদের(বিএনপি) অভিনন্দন জানাই।
গাজীপুর মহানগর সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে ও কোতয়ালী থানার সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন ভুঁইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সিরাজুল হক মোল্লা ও মাহবুব আলম শুক্কর বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে গাজীপুর মহানগরের বসির উদ্দিন বাচ্চু, রাশেদুল ইসলাম কিরন, জিয়াউল হাসান স্বপন, জাবেদ আহমেদ সুমন, আখতার হোসেন, বসির উদ্দিন, রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, আবদুর রহিম খান কালা, সাইফুল ইসলাম টুটুল, আজিজুল হক রাজু মাস্টার, মনিরুল ইসলাম বাবুল, ফারুক হোসেন খান, আবদুল হালিম, হারুন-অর রশিদ, তাইজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম বাবুল প্রমুখরা উপস্থিত ছিলেন।
আগুনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি: মিরপুরে চলন্তিকা বস্তিতে আগুনের ঘটনায় সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগুনে পোড়া বস্তি পরিদর্শন শেষে গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি একথা বলেন। 
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি গত কালকের (শুক্রবারের) এই অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। তদন্ত করে জানানো দরকার কীভাবে আগুন লেগেছে। তিনি বলেন, আমরা অতীতেও দেখেছি, এই মিরপুরেই কালশীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেখানে মানুষ মারা গেছে। গত কালকের এই অগ্নিকাণ্ডেএখানে ৩০ হাজারের কম মানুষ নয় এবং তিন হাজার ঘর ধ্বংসে পরিণত হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটাই সত্যিকার অর্থে মর্মান্তিক। যারা দায়িত্বে আছেন, তারা এবিষয়ে তদন্ত করবেন। একইসঙ্গে আমি সরকারের কাছে এই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ