শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

এমন দুঃসাহস কী করে হয়?

জানা যায়, ঢাকা মহানগরীর  পীরেরবাগের আলীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা আক্তার হৃদি ইউনিফর্মের রঙ অনুযায়ী সাদা হিজাব, নীল বোরকা ও সাদা জুতা পরে স্কুলে ঢোকার পর স্কুলের একজন শিক্ষক তাকে বেত দিয়ে মারধর করেন এবং বিভিন্ন রকমের অশোভন কথা বলে স্কুল থেকে বের করে দেন। আরও বলা হয়, হিজাব পরে নাকি স্কুলে আসা যাবে না। এরপর সানজিদা আক্তার বাসায় এসে ঘটনাটি তার মাকে জানায়। সানজিদার মা স্কুলের প্রধানশিক্ষক রমেশ কান্তি ঘোষের সঙ্গে কথা বলতে স্কুলে যান এবং কেন তাঁর মেয়েকে হিজাব পরবার কারণে বের করে দেয়া হয়েছে জানতে চান। কিন্তু প্রধানশিক্ষক রমেশ কান্তি ঘোষ কোনও কথা না শুনে তাঁর সঙ্গে উগ্র মেজাজে কথা বলেন এবং সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমনকি প্রধানশিক্ষকের নির্দেশে সানজিদার মাকে উক্ত রুমে উপস্থিত থাকা শিক্ষকের দ্বারা বের করে দেয়া হয়। এরপর হতাশ হয়ে সানজিদার মা বাইরে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে আবারও কথা বলার উদ্দেশ্যে প্রধানশিক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। কিন্তু অনেক সময় পার হওয়ার পরও তিনি প্রধানশিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

সানজিদার ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাকিবুল হাসান মায়ের কাছে সবকথা শোনেন। পরে রাকিব মা ও বোনসহ প্রধানশিক্ষকের রুমে যান কথা বলতে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবার পর ভেতরে ঢুকলে তখন প্রধানশিক্ষক দুর্ব্যবহার করেন। তখন সেখানে আরও শিক্ষক এবং স্কুলের অফিস কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। বারবার কথা বলবার চেষ্টা করলে প্রধানশিক্ষক সোজা বলে দেন, হিজাব বা বোরকা পরে স্কুলে আসা যাবে না। তাঁর কাছে এর কারণ জানতে চাওয়ায় এক পর্যায়ে বিত-া শুরু হয়। মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করলে প্রধানশিক্ষক তা দেখে ফেলেন এবং রাকিবের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেবার জন্য স্কুলকর্মচারী নাসিরকে নির্দেশ দেন। সানজিদার মা বাঁধা দিলে জামান নামের স্কুলকর্মচারী সানজিদার মায়ের প্রতি চড়াও হন। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন শিক্ষক তাকে কোনওরকমে ধরে রাখেন।

এরপর রাকিবের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওটি ডিলিট করবার জন্য চাপ দেন। প্রধানশিক্ষক রমেশ কান্তি ঘোষ তাঁর রুমের দরজা বন্ধ করবার নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি এবং এক কর্মচারী দু’জন মিলে রাকিবের ওপর হামলা চালান। এসময় সানজিদার ভাই রাকিবের চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন ছুটে আসেন। আহত অবস্থায় সানজিদাসহ তার মা ও ভাই সেখান থেকে চলে যান বলে প্রকাশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলটিতে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে এবং এনিয়ে মামলা-মোকদ্দমাও হয়েছে।

আমরা কোনও পক্ষ নিয়ে কথা বলতে চাই না। তবে ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত এদেশে পূর্ণবয়স্ক মুসলিম নারীদের জন্য অনিবার্য পোশাক তথা পর্দা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায়শ বিত-া সৃষ্টি হচ্ছে। কোনও স্কুল বা কলেজের নিজস্ব নিয়মকানুন থাকতেই পারে। তাই বলে প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিফর্মের দোহাই দিয়ে কোনও প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম  শিক্ষার্থীকে বেপর্দা হতে বাধ্য করা মোটেও সমীচীন নয়। মনে হয় বিষয়টি ক্রমান্বয়ে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। তাই এবিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মনোযোগ দেয়া জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিয়ে কোনও বিত-া কাম্য নয়। কারণ এটা শরিয়ার নির্দেশ। এর কোনও অপশন নেই। কোনও অমুসলিম পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি মুসলিম নারীদের শিক্ষার সুযোগ থাকে, তাহলে সেখানেও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম মেয়েদের পর্দার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। বিভিন্ন অজুহাতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের বেপর্দা হতে বাধ্য করা তাদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। পীরেরবাগের আলীম উদ্দিন স্কুলের প্রধানশিক্ষক নবম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদাকে যেভাব বেপর্দা হতে বাধ্য করতে চেয়েছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ তা চরম ধৃষ্টতা বলেই আমরা মনে করছি। এমন ঘটনা দেশের আরও কয়েক জায়গায় ঘটেছে। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরতে বাধা সৃষ্টি করবার তীব্র নিন্দা জানাই আমরা। সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন জাগে, এমন দুঃসাহস তাঁদের কী করে হয়?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ