সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

শেখ কামালের স্বপ্ন ছিল ফুটবলে এশিয়ায় শক্তিশালী হবে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতি হারিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।সেদিন ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী এবং তিন পুত্রসহ পরিবারের আরো ১৮ জনকে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতি গভীরভাবে স্মরণ করছে বঙ্গবন্ধুসহ সেদিন শহীদ হওয়া সবাইকে। জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু এবং শেখ কামালকে স্মরণ করে আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতার সেই স্বপ্নের কথা বললেন দেশের ফুটবলের সর্বকালের সেরা তারকা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন।দুপুরে বাফুফের মতিঝিলস্থ ভবনে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোয়া মাহফিল শেষে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন বাফুফে সভাপতি। স্মরণ সভায় তিনি বলেন,এই দিনে জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। আজকের এই দিনটা বাঙ্গালি এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে কালো দিন। আমি মনে করি, পৃথিবী যতো দিন থাকবে বাঙ্গালি এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য এরচেয়ে বড় কালো দিন আর আসবে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এই দিনটা আমাদের জীবনে এসেছে। আমাদের যে কতটা ক্ষতি হয়েছে তা বর্ণনা করে বোঝানো যাবে না।’শেখ কামালকে স্মরণ করে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘শেখ কামালের সঙ্গে আমরা শেষ কথা হয় ১৯৭৫ সালের ৮ আগস্ট, বিমানের মধ্যে। আমরা তখন মালয়েশিয়া যাচ্ছিলাম মারদেকা কাপ খেলতে। শেখ কামালেরও আমাদের ম্যানেজার হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তার একটা রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পড়ে যাওয়ায় যেতে পারেনি। যাওয়ার সময় আমাকে একটা কথাই বলেছিল, “তুই এবার যা। ক্যাপ্টেইন হয়ে যাচ্ছিস, যতদিন ভবিষ্যতে খেলবি আমি ম্যানেজার থাকবো আর তুই ক্যাপ্টেনই থাকবি। আমাদের চোখ এশিয়ায়। আমরা এশিয়াতে বাংলাদেশকে পাওয়ারফুল ফুটবল দল হিসেবে গড়ে তুলবো।’ওই কথাটি ৪০/৪৫ বছর পরও মনে পড়ে। মনে হয় কালকেই যেন আলাপ হয়েছে।’

শেখ কামালকে হারানো ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বিশাল ক্ষতি উল্লেখ করে কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘কামালকে হারিয়ে দেশের স্পোর্টস অঙ্গনের বিরাট ক্ষতি হয়েছে। এখনো প্রাইম মিনিস্টার বলেন,  আমাদের সাপোর্ট দেন,কিন্তু কামাল সবকিছু দেখতেন গভীরভাবে,সে আমাদের সব কিছু বুঝতো। সব কিছু জানতো বলে কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সমাধানও দিতে পারতো। এখন এটা তো সম্ভব না যে, রোজ রোজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়া এবং গিয়ে সবকিছু বলা। কামাল ছিল প্র্যাকটিক্যাল। ওর বয়স যখন ২৩/২৪ বছর, তখন আবাহনীর মতো একটা ক্লাব গড়ে গেছে। আবাহনী এখন বাংলাদেশের একটা ইনস্টিটিউট। সুতরাং ওখানেই বোঝা যায় কামালের ভিশনটা কোথায় ছিল।’ শেখ কামাল যে স্বপ্ন দেখেছিলেন ফুটবলে বাংলাদেশকে এশিয়ায় পাওয়ারফুল দল হিসেবে গড়ে তোলার,আমরা সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।‘আমি যখন এই ফেডারেশনের দায়িত্ব নেই ৮/১০ বছর আগে, তখন এখানে লিগ হতো না। ফুটবলটা মারাই গিয়েছিল। সেখান থেকে উত্তরন ঘটেছে। আজ দেখেন, ১০ বছর ননস্টপ লিগ হচ্ছে। আমরা যখন এসেছিলাম তখন কয় টাকা পেতো ফুটবলাররা? এখন ৫০-৬০ লাখ টাকা পায়। লিগ হচ্ছে ৬টি জেলায়। আপনারা যত কিছুই বলেন, এগুলোই ডেভেলপমেন্ট। খেলোয়াড়রা বিদেশে ক্যাম্প করে। আমরা খেলতে গেছি একদিন আগে। এখন ১০ দিন আগে যায়, পাঁচ তারকা হোটেলে থাকে। সুতরাং মানসিকতা বদলাচ্ছে। ফুটবল একটা খেলা, যা ২১১ টি দেশ খেলে। ২১১টি দেশেরই এক নম্বর খেলা। সুতরাং এখানে সময়, পরিকল্পনা ও টাকার দরকার’- বলেন কাজী মো. সালাউদ্দিন।

দেশের ফুটবলে পাইপলাইনে খেলোয়াড় নেই অনেকের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ বাফুফে সভাপতি।তিনি বলেন ‘আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন আর এখন যদি তুলনা করেন, দেখবেন অনেক পরিবর্তন। একাডেমি শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন সাউথ এশিয়া অনূর্ধ্ব-১৫ তে চ্যাম্পিয়ন। এটা বাস্তবতা। পাইপলাইনে প্লেয়ার নেই সেটা বললেই তো হবে না। এই খেলোয়াড়গুলো চার বছর পর বেরিয়ে আসবে। বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা কলকাতায় আইএফএ শিল্ড খেলতে গিয়েছিলাম। সেমিফাইনালেও খেলছিলাম। বঙ্গবন্ধু ফোন করে কামালকে বলেছিলেন, তোরা যদি জিতিস, যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারিস, আমি বিমান পাঠিয়ে তোদের নিয়ে আসবো। আমি নিজে বিমান বন্দরে অভ্যর্থণা জানাবো। এর চেয়ে বড় আর কি অনুপ্রেরণা থাকতে পারে?’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ