বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

টেনিস তারকা এবং মডেল

মোহাম্মদ সুমন বাকী : টেনিস কোর্ট মানেই আর্ট শিল্প। যেখানে খেলার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় নীরবতার পরিবেশে। বিন্দু পরিমান কোলাহল নেই। প্লেয়ারের সাফল্য পাবার প্রেক্ষাপটে বড় জোর ক্ল্যাভসের (হাততালি) শব্দ পাওয়া যায়। এর বেশি কিছু নয়। উল্লাসের সীমাবদ্ধতা এ পর্যন্তই ঘিরে থাকে। যা গ্যালারীর আসনে স্বচ্ছ পানির ন্যায় বার বার ফুটে উঠে। অবশ্য সেটা স্মার্ট দর্শকদের সো করে। তা বজায় রয়েছে যুগ যুগ ধরে। যা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? কোটি কোটি ক্রীড়া পাগল প্রেমীর অভিমত এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে? টেনিস বিশ্বের দরবারে খুবই জনপ্রিয়। সে কথা বলাবাহুল্য। খেলাটির পুরো নাম লন টেনিস। স্মার্ট এর ছায়াতলে এই ক্রীড়ার আবিস্কার। তা জানা আছে সবার। এক কথায় অভিহিত করা যায় সেটা ভদ্রতার পরিবেশ বজায় রাখার আমেজে অন্যতম উপহার। দর্শকরা কি বলেন? টেনিস ভুবনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার রেশে পুরুষ-রমনীর পদচারনা ঘটে সমান ভাবে। বিশ্ব বিখ্যাত নামের তালিকায় কারো চেয়ে কেউ কম নয়। যাদের কোর্টে দাপট দেখা গেছে এক রাশ উত্তেজনা ভর করে উদ্ভাসিত নৈপূন্যের ছোঁয়াতে।
র‌্যাকেট-বলের স্পর্শে যারা ছিলেন দুর্বার। আকাশ ছোঁয়া সাফল্যের মাফকাঠিতে তাদের আবিস্কার। তা শতভাগ সত্য কথা। যা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বের কোটি কোটি স্পোর্টস লাভারের জানা আছে সেটা। কি বলবেন আপনারা? পরিস্থিতির ধারাতে প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে! তা অন্য কারণে!! টেনিস তারকার চারদিকে ঈর্শনীয় খ্যাতি পাবার প্রেক্ষাপটে!!! যা উল্লেখ করতে হয় এখানে। কলমের অক্ষরে অক্ষরে সৌরভ ছড়িয়ে। বাস্তব ধারাকে সঙ্গী বানিয়ে। পাশাপাশি বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ী জীবনকে রঙ্গীন আকারে সাজিয়ে। তাক ধিন তাক ধিন ঢোল বাজিয়ে। টেনিস ভুবনে নেচে গেয়ে। সুপার তারকার তকমা লাগিয়ে। চারদিকে খ্যাতির সৌরভ ছড়িয়ে। অর্থ উপার্জনের তালিকায় নিজেকে মেলে ধরে। টেনিস কোর্টে এমন দৃশ্য বার বার ফুটে উঠেছে। এক বাক্যে অনায়াসে বলা যায় সেটা শতভাগ সত্য কথা। সকলের জানা আছে তা। সে জন্য টেনিস ভুবন সারা দুনিয়ায় আলোকিত। যা মিডিয়ার পাতায় দৈনন্দিন খোড়াক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সেটা মানুষের হৃদয়ে স্থান নিয়ে ভালোবাসার জোয়ারকে পুঁজি বানিয়ে। তা ফুটে উঠে টেনিস কোর্টে এ দিক - সে দিক চোখের দৃষ্টি ফেলার মাধ্যমে। এমন ধারায় তারকা প্লেয়ার জন ম্যাকেনরোর আবিস্কার ঘটে। যা দেখা যায় গত শতাব্দীর সত্তর দশকের শেষ প্রান্তে। ইউ এস এ হিরো সে। তিনি ছিলেন টেনিস ভুবনের রাজা। দুর্দান্ত নৈপূণ্য দেখিয়ে কুড়িয়ে নিয়েছেন বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি সমর্থকের ভালোবাসা। একের পর এক সাফল্য পান তিনি। ধাপে ধাপে বিখ্যাত হয়ে যান যিনি। এর পাশাপাশি মডেল, অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার। যা ছিলো স্ব ক্যারিয়ারে এক কথায় চমৎকার। সেটা উল্লেখ করা দরকার। নতুন প্রজন্মের ছায়াতলে তা থেকে আরো তারকা হবে আবিস্কার। বিশ্ব টেনিস ভুবন পাবে একের পর এক উপহার। ইউ এস এ প্লেয়ার জন ম্যাকেনরোর তুলনা নেই। যা স্বীকার করবেন যে কেউ। বলেন কি? তবে বাকী সব খেলোয়াড় ছিলেন ব্যতিক্রম। তারা কোর্ট, মাঠের স্পর্শে বিচরন করেছেন। অভিনেতা নয়, পরিচয় বহন করেছেন টেনিস তারকার। তাদের বেলায় র‌্যাকেট-বলের সমন্বয়ে পারফরম্যান্সের দাপট পরিলক্ষিত হয়েছে। যেখানে আন্দ্রে আগাসী অন্যতম। সে কথা সবার বোধগম্য।
ঊনবিংশ শতাব্দীর নব্বই দশকের সুপার হিরো তিনি। সেটা ছবির জগতে নয়, খেলার ভুবনে। অসাধারন প্লেয়ার ছিলো সে। তাইতো আন্দ্রে আগাসী মডেল বনে যান। যা ঘটে বাস্তবতার আলোকিত জীবনে। সেটা উল্লেখ করার মতো ঘটনা। তিনি মডেল হয়েছেন। একেবারে ইলিশ-পোলাও টাটকা খাবারের ন্যায়। তা বাস্তব গল্প! কিন্তু ঈর্ষনীয়!! যা কখনো ভুলা যাবে না!!! সেটা খুবই মজার বিষয়। বিশ্ব টেনিস আঙ্গিনায় আন্দ্রে আগাসী পারফর্মের আলো ছড়িয়ে মডেল বনে যান হলিউড অভিনেত্রীর ব্রকশীল্ডের। শো বীজ রাজ্যের এই রানী প্রায় সময় গ্যালারীর আসনে বসে থাকতেন তার খেলা দেখার জন্য। তা টিভি চ্যানেলের পর্দায় বার বার ভেসে উঠে। যা টেনিসকে উত্তেজনার আলোচনায় বার বার আকর্ষনীয় করে। এ অবস্থায় প্রশ্ন জাগে, আগাসী ব্রুকশীল্ডকে বিয়ে করবে নাকি? চারদিকে এমন আলোচিত বিষয়ে কানাঘুষা চলে। কে কার মডেল! এক বার ভেবে দেখেছেন কি? কেমন লাগছে বিষয়টি ? এটাকে মাঠ, কোর্টের পারফরম্যান্স বলে। এখানো তা পাপড়ি ঘেরা চোখের পাতায় স্মৃতি হয়ে ভাসে। সেটা সারা পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে। যা কি নতুন করে কলমের কালিতে তুলে ধরার অপেক্ষা রাখে? শুধু কী পুরুষরা! না, তা কিন্তু নয়। কথাটি সত্য। এই ক্ষেত্রে নেই কোনো প্রকার ভয়। টেনিস কোর্টের পাশাপাশি শোবিজ জগতে প্রমিলা খেলোয়াড়দের দাপট পরিলক্ষিত হয়েছে। উপার্জন করেছেন কোটি কোটি টাকার অর্থ। এমন ধারায় প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছেন তারা। সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকা মার্টিনা হিঙ্গিস র‌্যাকেট হাতে নৈপূণ্যের ঝলক দেখিয়েছেন। শিরোপা জিতেছেন একের পর এক। সেটা বলাবাহুল্য। আকর্ষনীয় চেহারার সুন্দরী তিনি। তাইতো বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মডেল হবার তালিকায় স্থান পেয়েছেন যিনি। এ পরিস্থিতিতে সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় তার জীবনের নয়া বিষয় সংযোজনের কাহিনী। সেটা ছিলো অর্থ উপার্জনের বোনাস পার্ট। আর্জেন্টিনার গ্যাব্রেয়ালা সাবাতিনি আরেক বিশ্বখ্যাত টেনিস তারকা। তাকে বলা হতো এই ভুবনের গ্ল্যামার ডার্লিং। র‌্যাকেট হাতে সাফল্য কুড়িয়েছেন।
খ্যাতি পাবার রাজ্যে তার নিশান (পতাকা) উড়ে পতপত করে। বাড়তি অর্থ ব্যাগে ভরেছেন আকর্ষনীয় মডেল রূপে আবির্ভূত হয়ে। রুশ তারকা আন্না কুর্নিকোভা হেঁটেছেন একই পথে। সে কারণে অন্যদের তুলনায় টেনিস ভুবন হতে তার দ্রুত বিদায় ঘটেছে। তা দেখা গেছে চলতি শতাব্দীর ছায়াতলে। রাশিয়ার সাবেক তারকা প্লেয়ার তিনি। এখনো মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে যাচ্ছেন যিনি। গ্র্যান্ড স্লাম বিজয়ী সানিয়া মির্জা পিছিয়ে নেই এমন ক্ষেত্রে। যার খ্যাতি ছড়িয়ে আছে স্ব-দেশ ভারতসহ বিশ্ব অঙ্গনে। সে একই ধারা অবলম্বন করে মডেলিং জগতে নাম লিখিয়েছে। স্টেফেনি গ্র্যাফ, সেরেনা, ভেনাস, শারাপোভারা বিন্দু পরিমান পিছিয়ে ছিলেন না এমন ক্ষেত্রে। পারফরম্যান্সের দাপট বজায় রেখে টেনিস জগতে খ্যাতির সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছেন। এর পাশাপাশি তারা অর্থ উপার্জনের প্রত্যাশায় বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মডেল বনে গেছেন। সে কথা শতভাগ সত্য। এই হলো টেনিস তারকা এবং মডেলের গল্প।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ