শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মায়াবী ঝর্ণার টানে জাফলং ছুটছেন হাজারো পর্যটক

সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় অনিন্দসুন্দর জাফলংয়ের মায়াবী ঝর্না দেখতে হাজারো পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়

কবির আহমদ ও গোলাম সারোয়ার বেলাল সিলেট (জাফলং) থেকে ফিরে : ঈদুল আযহার লম্বা ছুটিতে বিশ্বব্যাপী পরিচিত সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ের মায়াবী ঝর্ণার টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জাফলং ছুটছেন হাজারো পর্যটক। বেশ কয়েক যুগ ধরে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর প্রাণ ছিল জাফলং প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটককে বরণ করে। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, বাংলা নববর্ষ ও পহেলা বৈশাখে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে প্রকৃতিকন্যা জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুল ও মৌলভিবাজার জেলার বড়লেখায় উপজেলায় অবস্থিত মাধবকুন্ড ঝর্ণা দেখতে ভুল করেন না পর্যটকরা। এবারের ঈদুল আযহার ছুটিতে পর্যটকদের জায়গা দিতে সিলেটের হোটেল, মোটেল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছেন। আবার সিলেট মহানগরীতে অবস্থিত ওসমানী শিশু পার্ক, ডিমল্যান্ড পার্ক, শাহজালাল (রহ:) ও শাহপরাণ (রহ:) মাজার ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপচেপড়া ভিড়। পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সিলেট ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিলেট জেলা পুলিশের সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। এসএমপির ডিসি (মিডিয়া) জেদান আল মুসা দৈনিক সংগ্রামকে জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সিলেট ট্যুরিস্ট পাশাপাশি এসএমপি পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে পাড়া-মহল্লা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এসএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার নির্দেশে পুলিশী টহল আরো জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে গত কয়েক বছরে সিলেটে বিছনাকান্দি, রাতারগুল, সাদা পাথরের মতো নতুন স্পট আলোচনায় আসায় আর জাফলংয়ের যাতায়াত ব্যবস্থা নাজুক থাকায় পর্যটক বিমুখ হয়ে পরেছিল জাফলং।
কিন্তু এখন জাফলংয়ে মায়াবী ঝর্ণা নামে নতুন একটি ঝর্ণার টানে আবারো জাফলংয়ে ভিড় করছেন পর্যটকরা। এবারের ঈদের ছুটিতে তাই সবচেয়ে বেশী পর্যটকের দেখা মিলেছে জাফলংয়ে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হওয়াও জাফলংমুখি হয়েছেন পর্যটকরা।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা মায়াবী ঝর্ণা জাফলং জিরো পয়েন্টের খুব কাছেই অবস্থিত। জিরো পয়েন্ট থেকে নৌকাতে করে পিয়াইন নদী পার হয়ে মাত্র ১০ মিনিটের হাঁটলেই এই ঝর্ণা।
কয়েকশ ফুট উঁচু কালো পাথরের গা ভেসে আসা স্বচ্ছ পানির এ ঝর্ণা এবার সিলেটের সবকটি পর্যটনকেন্দ্রকে পেছনে ফেলেছে।
পাহাড়ের সাথে মেঘের মিতালি, স্বচ্ছ জলের নিচে স্তরে স্তরে সাজানো নানা রঙের পাথর। উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণাধারা; অথবা ছোট্ট খালের বাঁক ধরে নৌকায় করে ঘন বনে হারিয়ে যাওয়া-প্রকৃতির এমন রূপ-লাবণ্য উপভোগে প্রতি ঈদে সিলেটে ছুটে আসেন সৌন্দর্য্য পিপাসু পর্যটকরা। ঈদ এলেই পর্যটকদের স্বাগত জানাতে বাড়তি প্রস্তুতি নেন হোটেল-মোটেল মালিকরা। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ হোটেলের রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন হোটেল ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট হোটেল এন্ড রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ এ টি এম সুয়েব শিকদার জানান ‘এ বছর ঈদের পরও চারদিন সরকারি ছুটি। তাই আশা করা যাচ্ছে পর্যটকদের আগমন গতবারের তুলনায় বেশি হবে। ঈদের আগেই হোটেলগুলোর অনেক রুম বুকিং হয়ে গেছে।’
এছাড়া সারাদেশের ন্যায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে সিলেটেও পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদের দ্বিতীয় দিন গত মঙ্গলবার সিলেটের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে মানুষের সমাগম ছিল লক্ষণীয়। পদচারণায় মুখর সিলেটের প্রায় প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্রই। সিলেট নগরী ও শহরতলীর পার্ক ও পর্যটনকেন্দ্রে ঈদের দিন দুপুর থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
গতকাল বুধবার দুপুরের পর থেকে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর ধোপাদিঘীরপাড়স্থ সিলেট ওসমানী শিশু উদ্যান, গোলাপগঞ্জের হিলালপুরের ড্রিমল্যান্ড অ্যামিউজম্যান্ট পার্ক, সিলেট বিমানবন্দর সড়কের সিলেট পর্যটন মোটেল, অ্যাডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড, টিলাগড় ইকোপার্কসহ, সিলেট এমসি কলেজে ছিল মানুষের আনাগোনা। শিশুদের পদচারণায় মুখর বিনোদনকেন্দ্রগুলো। অনেকে প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে ছুটছেন পর্যটন কেন্দ্রের দিকে।
বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সুরমা নদীর উপর নির্মিত কাজীরবাজার সেতুটি। নির্মল বাতাস আর মুক্ত নিঃশ্বাসের সুযোগ নিতে ভিড় করছেন শত শত পর্যটক। ব্রিজের দুই পাশে সারিবদ্ধ পর্যটকদের ভিড় আর আড্ডায় মুখর হয়ে উঠেছে প্রবাসী অধ্যুষিত কাজীরবাজারের সেতুটি।
সিলেট ওসমানী শিশু পার্ক সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পার্ক খোলা রয়েছে পার্ক। ঈদের দিন দুপুর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের চাপ বেড়ে যায়।
এদিকে, ঈদের দিন ড্রিমল্যান্ড পার্কেও  দুপুরের পর থেকে ভ্রমণ পিয়াসিদের ভিড় শুরু হয়। বিশেষ করে এখানকার ওয়ার্টারপার্ক বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বিমানবন্দর এলাকার বাসিন্দা মারুফ আহমদ বলেন, আমি ঈদের ছুটিতে আমার ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। নগরীর কাজীরবাজার ব্রিজ, ক্বীনব্রিজসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছি। ড্রিমল্যান্ড পার্কে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।
অন্যদিকে নগরী ও শহরতলির বিনোদনকেন্দ্রগুলো ছাড়াও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি, জাফলং, পান্তুমাই ও জৈন্তাপুরের লালাখালেও তরুণ-তরণীদের ভিড় চোখে পড়েছে। অনেকে পরিবার পরিজন নিয়েও এসব স্থানেও ঘুরতে এসেছেন হাজারো পর্যটক। তবে বিছানাকান্দি রাস্তা খারাপ হওয়ায় পর্যটকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা অবস্থান করলেও বিছানাকান্দির রাস্তাঘাটের করুণ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কেমন নাজুক অবস্থায় বসবাস করছেন দেশের জনগণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ