বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

দেশীয় মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ জরুরি

এইচ এম আব্দুর রহিম : মৎস্য আমাদের জাতীয় সম্পদ। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মৎস্য খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। আবহমানকাল থেকেই অনুকূল পরিবেশে ও প্রাকৃতিক কারণে মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ এ দেশের জীবন জীবিকা নির্বাহে মৎস্য খাতের ওপর নিবিড়ভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু এক শ্রেণির স্বার্থান্নেষীমহল নির্বিচারে জাটকা নিধন করার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের মৎস্য সম্পদ। ময়মনসিংহে বাংলাদেশের একমাত্র মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক মোস্তফা আলী হেসেন রেজা জানিয়েছে, এই মুহুর্তে দেশের ১১৮ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। “আইইউসিএন বাংলাদেশের বিপন্ন প্রাণীর তালিকা করার জন্য দু’টি জরিপ চালিয়েছিল, ২০০০ সালে প্রথম জরিপে ৫৪ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল। এরপর ২০১৫ সালে সর্বশেষ জরিপে তাতে আরো ৬৪ প্রজাতির মাছ যুক্ত হয়। বর্তমান অবস্থা আরো নাজুক বলে ধারণা করা হচ্ছে।” এই তালিকায় সেই সব মাছকে চি‎ি‎হ্নত করা হয়েছিল যা ১০ বা ২০ বছরে দেখা যায়নি। দিন দিন  হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ। ১৯৭৬-৭৭সালের পর দেশের সমুদ্র সীমায় মৎস্য সম্পদ জরিপ না করায় এখন পর্যন্ত কত প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে বঙ্গোপসাগরে ৪শ’ প্রজাতির মাছ আছে বলে দাবি করা হলেও উপকূলীয় জেলেদের বলছে ভিন্ন কথা। তাদের জালে ঘুরে ফিরে ৩০ প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। গত মাসের ১৭ জুলাই বিবিসি জানায়, দেশে প্রায় এক শ’ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা বলেছেন, ‘মাছের প্রজাতির হারিয়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার কয়েকটা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে তিনি জলাশয় কমে যাওয়াকে দায়ী করেছেন’ শহর বা গ্রাম দুই খানেই নদী খালসহ সব ধরনের জলাশয়ের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কমার সাথে সাথে দিনে দিনে কমছে প্রাকৃতিকগতভাবে উৎপাদিত মাছের পরিমাণও। “কেবল দেশীয় জাত ও স্বাদের মাছই নয়, এর সাথে নানা ধরনের জলজ প্রাণী ও সরীসৃপের সংখ্যা কমে যাচ্ছে”। সেই সঙ্গে রয়েছে জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি,যা বৃষ্টিতে ধুয়ে খাল বিলসহ জলাশয়গুলোতে গিয়ে পড়ে। এর ফলে মৃত্যু ও প্রজনন হার মারাত্মক হ্রাস পায়। কলকারখানার বর্জ্য নিকটস্থ জলাশয় ফেলা হয়,তার ফলে মাছ মরে যায়। জাটকা নিধন, অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, প্রজনন মওসুমে প্রজনন-সক্ষম মাছ ও পোনা ধরা,কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং মাছের আবাস স্থল ধ্বংস কারণ হিসেবে চি‎ি‎হ্নত করেছে সংশ্লিষ্টরা । তবে মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক হোসেন জানিয়েছেন,বিদেশী মাছের চাষের কারণে ও দেশী প্রজাতির মাছ কমে গেছে।
 বাংলাদেশে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত দুই দশকে কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের মাধ্যমে মাছের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর সাড়ে ৪২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি মাছ উৎপন্ন হচ্ছে তারপর ও চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এর মধ্যে নদী, বিল ও হাওরসহ উম্মুক্ত জলাশয় থেকে ৩৫ শতাংশ, পুকুর বা জলাশয়ের মধ্য থেকে ৫৭ শতাংশ এবং বাকী ৮ শতাংশ  সমুদ্র থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে ৮ লাখ বদ্ধ জলাশয়ে মাছ চাষ হয়।
 বাংলাদেশে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা প্রায় ৩০০। এর মধ্যে ২০১৫সালে আইইউসিএন এর সর্ব শেষ মূল্যায়নে ২৫৩ প্রজাতির মাছের ওপর জরিপ চালানো হয়েছিল। তাতে দেখা যায়, সময়ের বিবর্তনে যেসব মাছ বিলুপ্ত প্রায়, নদীর মাছ মানে স্বাদু পানির মাছ। তবে, ৩০০ প্রজাতির মাছের মধ্যে অন্তত ৪০ প্রজাতির মাছের ব্যাপারে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো তথ্য নেই। আইইউসিএন কয়েকটি ভাগে মাছের অবস্থা বাখ্যা করেছে, এর মধ্যে কিছু মাছ ক্রিটিক্যালি এরডেঞ্জার বা প্রায় বিলুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ এগুলো সন্ধান ও সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে সেগুলো অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এর বাইরে মহা বিপন্ন, বিপন্ন এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে বহু প্রজাতি। বাংলাদেশে বিপন্ন মাছের মধ্যে রয়েছে-পাঙ্গাস, দারি, ককসা, টিলা বা হিরালু, টিলা ককসা, রানি বা বউ মাছ, বেটি বা পুতুল মাছ, কালো বাটা, ঘর পোয়া, ঘরর পইয়া, ঘোড়া মাছ, এনালগা, কচুয়া, পুটি, বোল, চিতল, গজার, টেংরা, রিটা, গাঙ্গিনাবা চাকা মাছ, বট, শিংঘাউড়া, সাল বাইম। এ ছাড়া সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে বাও বাইম, চাপিলা, গুতুম, পুঁইয়া পিয়াসি, জারুয়া, বা উট্টি, ছেপ চেলা, গোফি চেলা, বাটা মাছ, নারু মাছ, গনিয়া, কাচকি, ফলি, শিল বাইলা, বেলে, শিং, আইড়, বোয়াল, তেলিম, কুইচ্চা, বামোস ইত্যাদি। দেশের মোট রপ্তানিতে রয়েছে এই সেক্টরের  গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আমাদের খাদ্যে প্রাপ্ত প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দেয় মাছ। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ১১ শতাংশের অধিক এ সেক্টরের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়োজিত থেকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে।
জাতীসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বিশ্বে বাংলা দেশের অবস্থান তৃতীয় ও মৎস্য চাষে পঞ্চম।
কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মৎস্যখাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। জাতীয় অর্থনীতিতে এ সেক্টরের ভূমিকা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।
 জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশের গুরুত্ব, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং একটি ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য। বাঙালির অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু মাছ ইলিশ আবহমানকাল থেকে রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০০৮-০৯অর্থ বছরে দেশে ইলিশের মোট উৎপাদন ছিল ২.৯৯ লক্ষ টন, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে দেশে ইলিশের মোট উৎপাদন বেড়ে দাড়ায় ৫.১৭ লক্ষ টন, যা দেশের  মোট মৎস্য উৎপাদনের ১২ শতাংশ এবং চলতি বাজার মূল্য ২০ হাজার কোটি টাকা। জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১শতাংশ। সারাবিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৭০ শতাংশ আহরিত হয় এ দেশের নদী মোহনা সাগর হতে। আর এ বিশাল সম্পদের আহরণ ও বাজারজাত ব্যবস্থার ওপর উপকূলীয় জেলে, মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এবং উপকুলবাসীর জীবন জীবিকা নির্বাহ হয়ে থাকে। দেশের উপকূলীয় এলাকায় ৫লাখ লোক ইলিশ ধরার কাজে নিয়োজিত থেকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। এছাড়া ইলিশ পরিবহন, বিপণন, জাল নৌকা তৈরি ও বিপণন, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ নানাবিধ কাজে ২৫ লাখ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তবে ইলিশের প্রজনন মওসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে পারলে ইলিশের উৎপাদন আরো বেশি বাড়বে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।
মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউটের তথ্য মতে, ১৯৬৪ সালে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে ২ প্রজাতির চিংড়ি, ১ প্রজাতির ডলফিন ২ প্রজাতির কচ্ছপসহ ৭৬ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ ছিল। তার মধ্যে ৬৮টি দেশীয় ও ৮টি বিদেশি প্রজাতির মাছ। কিন্তু ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ২৩ প্রজাতিতে নেমে এসেছে। বিলুপ্তির তালিকায় যেসব মাছ রয়েছে তা হল শীল, দেশি সরপুঁটি, ঘাউরা, বাঘাইড়, বাঘাইড়, মোহিনী বাটা, দেশী পাঙ্গাস, দেশীয় মহাশোলমধু পাবদা, পোয়া, ফাইস্যা, তেলেগুলসা, সাদা ঘনিয়ার নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া রুই, কাতলা, মৃগেল, বাঁচা, পাতি পাবদা ও বড় চিতল রয়েছে। এ ছাড়া কয়েক প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। কার্প মাছের তালিকাভুক্ত রুই, কাতলা, মৃগেল, মাছের আহরণের পরিমাণ ও আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।
দেশের উপকূলীয় জেলা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলায় এখন বাগদা চিংড়ির চাষ হচ্ছে। এঠা খুবই লাভজনক। কারণ এই বাগদা চিংড়ি বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে সরকার কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। আর  মাছ চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ির চাহিদা রয়েছে বিদেশের বাজারে। এটা খুবই সু স্বাদু। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাগদা চিংড়ির একটি গ্লোবাল মার্কেট আছে। এটা ভিয়েতনাম, ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশসহ অল্প কয়েকটা দেশে হয়। বাংলাদেশে এই চিংড়িটা ভাল জম্মে। আর বাংলাদেশের আবহাওয়ার এটার জন্য সুইটেবল। দিন যতই যাচ্ছে খুলনা অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আধা নিবিড় পদ্ধতে বাগদা চিংড়ির চাষ। এ পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ এনে দিয়েছে আশাতীত সাফল্য। যে কারণে সনাতন পদ্ধতিতে বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে অনেকে। গত ৫ বছরে খুলনা, বাগের হাট, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার দশ হাজার হেক্টর জমিতে ছয়শতাধিক আধা নিবিড় পদ্ধতি চিংড়িঘের গড়ে উঠেছে। বর্তমানে খুলনা জেলায় ৫১ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে গলদা ও বাগদা চিংড়ির চাষ করা হচ্ছে। চিংড়ি চাষের ফলে অনেকে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। কিন্তু  ভাইরাসের কারণে কিছু কিছু ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানা যায়, ১৯৯৪ সালে বাগদা পোনা সংকট দেখা দেয়। তৎকালিন সময় থাইল্যান্ড থেকে বাগদা পোনা আমদানি করা হয়। সেই থেকে বাগদা চিংড়ির ঘেরেভাইরাস দেখা দেয়। অভিজ্ঞমহলের অভিমত, পোনা আমদানির নামে ভাইরাস আমদানি করা হয়েছে। সে থেকে অদ্যবধি এর প্রতিষেধক তৈরি করা যায়নি। প্রতি বছর ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি মাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা নেই। তবে উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৩ লাখ বাগদা পোণা ধরা জেলেরা বাগদা চিংড়ি ধরছে। বাগদা পোণা ধরার নামে অন্যান্য মাছের পোণা ধ্বংস করছে। এক শ’প্রকারের পোণার মধ্যে এক প্রকার পোণা নিয়ে ৯৯ প্রকার পোণা নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে।এভাবে প্রতি জালে আধা কেজি হিসেবে ৩ লাখ জালে প্রতি দিন হাজার হাজার মন রেনু পোণা ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। এ ব্যপারে প্রশাসন নির্বিকার। কারণ তারা প্রতি মাসে এসব জেলেদের কাছ থেকে কম বেশী মাশোয়ারা পেয়ে থাকে। আগে এ অঞ্চলের নদ নদীতে ৪শ’ প্রজাতির মাছ দেখা যেত এখন আর ওই সব মাছ আর দেখা যায় না। বাগদা পোনা ধরার নামে অন্যন্য মাছের পোনা ধ্বংস করে দেয়ার কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এ অঞ্চলের নদ নদী থেকে হারিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদে মিঠা পানির গলদা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বাগদার পাশাপাশি গলদা রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের বাজারে। এর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার পাশাপাশি দেশে কর্ম সংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্রতা দূরীকরণে গলদা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রচুর সম্ভাবনা থাকার পরে ও কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় অংশ গলদা চাষের বাইরে। সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ নিলে এসব অঞ্চল খুব সহজে গলদা চাষের আওতায় আসবে। এতে দেশের মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বাড়ার সাথে সাথে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় মাধ্যম হল গলদা। আমাদের দেশে বেসরকারী উদ্যোগে ১৯৮৬ সালে সর্ব প্রথম কক্সবাজার জেলায় গলদা চিংড়ি হ্যাচারি স্থাপন করা হয়। তারপর ১৯৯৫ সালে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ব্যাক এর উদ্যোগে যশোরে গলদা চিংড়ির হ্যাচারি স্থাপন করা হয়। এছাড়াও অনেক স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সর্ব প্রথম গলদার হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা পায়। মুলত: কক্সবাজার, খুলনা, বাগের হাট ও যশোরে এর ব্যাপ্তি লাভ করতে থাকে। কিন্তু ২০০০সালে সরকারীভাবে গলদা চিংড়ির প্রাকৃতিক উৎসের পোনা আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর হ্যাচারিগুলোর উপর পোনার চাহিদার উপর চাপ বাড়তে থাকে। এর ফলে নতুন নতুন এলাকায় যেমন নোয়াখালি, পাবনা, ময়মনসিংহ, পটুয়াখালি অঞ্চলে বেশ কিছু গলদা হ্যাচারি বিস্তার লাভ করেছে। ২০০৯ সালে গলদা চিংড়ি উৎপাদনে সারা দেশে বিপর্যয় নেমে আসলে অধিকাংশ হ্যাচারি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে ১২টি গলদা চিংড়ির হ্যাচারি আছে ৭টি চলমান ও ৫টি বন্ধ আছে। বর্তমানে সারা দেশে ৮২টি গলদা হ্যাচারি আছে। এসব হ্যাচারিগুলোতে উৎপাদন অব্যাহত আছে। তবে বিভিন্ন সমস্যার কারণে এর  কিছু হ্যাচারিতে উৎপাদন বন্ধ আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ