সোমবার ২৫ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

ভারতের রাজনীতি এখন কোন্ পথে?

ভারতে অনেক ভালো মানুষ আছেন যারা উগ্রতাকে পছন্দ করেন না। এমন অনেক হিন্দু আছেন যারা মনে করেন মানবিক স্পর্শেই সম্ভব সংকট থেকে প্রকৃত উত্তরণ। এমন ভাবনাই তো যে কোন সমাজের স্বাভাবিক ভাবনা হওয়া উচিত। কিন্তু প্রশ্ন জেগেছে, ভারতের রাজনীতি এখন কোন পথে? বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের রাজনীতি? এদিকে কাশ্মীরে সম্প্রতি আধা-সামরিক বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে ভারত সরকার। আরও ২৫ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। রাজ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ও সতর্কতা জারি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা গোলাম নবী আজাদ ৩ আগস্ট বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের আতঙ্কিত করছে। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের আগে কখনও এভাবে হঠাৎ কাশ্মীর ত্যাগ করতে বলা হয়নি। কাশ্মীর অনিরাপদ এটা বলে সরকার সেখানে ঘৃণা ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। আমি ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাই।’ এছাড়া অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করায় রাজ্যবাসীর মধ্যেও উদ্বেগের মাত্রা বেড়ে গেছে। তাদের মনে আশঙ্কা, তা হলে কি রাজ্যের নাগরিকদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া সংবিধানের ৩৫-এ ও ৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে বড়সড় কোন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার? এ বিষয়টি অবশ্য আলাদা আলোচনার দাবি রাখে যা অন্য সময় করা যাবে।
আমরা জানি, ভারত আমাদের প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র। ভারতের রাজনীতি ও ঘটনাপ্রবাহ প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশ্ন জাগে, ভারতের রাজনীতি এখন কোন পথে? ক্ষমতাসীনদের রাজনীতি জনগণের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে? আর ক্ষমতার রাজনীতি রাজনৈতিক কর্মী ও উগ্রবাদীদের কোন পথে উদ্বুদ্ধ করছে? ইতোমধ্যে গো-রক্ষা আন্দোলন ও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নিয়ে যেসব কা- ঘটে গেছে তা নিয়ে ভারতের সচেতন মহল বেশ উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, বহু ধর্ম-বর্ণ ও ভাষার দেশ ভারতে এমন খ-িত চেতনার রাজনীতি চলতে পারে না। তারা আরও বলছেন, ভারতের প্রাজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিবিদরা ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ চেতনার যে রাজনীতি করে গেছেন, আমরা কি তা ভুলতে বসেছি?
‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নিয়ে এখন ভারতে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। ৩০ জুলাই এনডিটিভি পরিবেশিত খবরে বলা হয়, ভারতের উত্তর প্রদেশে ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় ১৭ বছরের এক মুসলিম কিশোরের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। রাজ্যের চানদেউলি জেলায় রোববার রাতে ওই নৃশংস ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানায় ৬০ শতাংশ পোড়া শরীর নিয়ে ওই কিশোর সাংবাদিকদের সেই বর্বর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে যায়। সে জানায়, ঘটনার দিন রাতে দুধারি সেতু পার হওয়ার সময় চারজন লোক তাকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বলে। সে নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দিলে তারা তাকে অপহরণ করে। এদের মধ্যে দু’জন তার হাত বেঁধে ফেলে। একজন গায়ে কেরোসিন ঢালে, আরেকজন দেয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেয়। তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে বেনারসের কবির চোরা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। উল্লেখ্য যে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলমানদের প্রতি বৈরিতা বাড়ছে। এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কট্টরপন্থী হিন্দুদের হাতে একের পর এক সংখ্যালঘু মুসলমান গণপিটুনি ও হামলায় নিহত হচ্ছে। এ কারণে ভারতে এবং বিশ্বে প্রশ্ন জেগেছে, ভারতের রাজনীতি এখন কোন পথে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ