বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আবারো বেড়েছে আদা রসুন ও মুরগির দাম

স্টাফ রিপোর্টার: সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে ফের বেড়েছে আদা, রসুন, দেশি ও কক মুরগির দাম। মানভেদে প্রতিকেজি আদায় ২০ টাকা, রসুনে ৪০ টাকা ও মুরগি প্রতিপিসে বেড়েছে ৩০ টাকা। আর বৃদ্ধি পাওয়া সবজির দাম এখনো কমেনি। দু’একটি সবজির দাম কমলেও এখনো সবজির দাম অনেক চড়া। অপরদিকে এখনও চড়া মাছের বাজার। বৃদ্ধি পাওয়া গরু ও খাসির গোশতের দাম। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল, ডাল, তেল, আটা, ময়দা, চিনি, লবণসহ অন্যান্য মুদিপণ্য।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার  থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহ পর ঈদুল আযহা। ফলে আদা ও রসুনের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য দু’টির দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে দেশি ও কক মুরগির চাহিদা বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম, সেজন্য দাম বেড়েছে।
রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা গেছে, আমদানিকৃত চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৪০ টাকা। দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। যা আগে বিক্রি হয়েছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। সে হিসেবে প্রতিকেজি আদার দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আমদানিকৃত চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৬০ টাকা কেজি। আর দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৪০ টাকা কেজি। সে হিসেবে চায়না রসুনে কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা, দেশি রসুনে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এছাড়া গোল মরিচ, হলুদ, মরিচের গুড়া, জয়ত্রী, এলাচ, দারুচিনির দামও চড়া। বাজারে প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকা, জয়ত্রী দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকা, লবঙ্গ ৮৫০ টাকা, গোল মরিচ ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা, জিরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আর কিছুটা নিম্নমানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।
আদা ও রসুনের দাম নিয়ে ব্যবসায়ী বলরাম দাস বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ দাম বেড়েছে আদা ও রসুনের। প্রতি বছর ঈদের আগে এ রকম হয়ে থাকে। কারণ ঈদে চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তি। আমাদের কি করার আছে, বেশি দাম দিয়ে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। হঠাৎ দাম বাড়া-কমার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবে পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহের মতো রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা আর আমদানি করাটা বিক্রি করছি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।
মসলা বিক্রেতারা জানান, গত এক মাস ধরেই মসলার পাইকারি বাজার বাড়তি। পাইকারি বাজারে বাড়তি দাম হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তবে অন্য বছরের তুলনায় বর্তমানে মসলার বাজার বেশ ভালো অবস্থানে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে গোশতের বাজারে দেখা গেছে, ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে বেড়েছে দেশি ও কক মুরগির দাম। তবে ব্রয়লার মুরগি আগের সপ্তাহের মতো ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি। পাকিস্তানি কক মুরগি প্রতিপিস বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। সে হিসেবে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। দেশি মুরগির দামও বেড়েছে। প্রতিপিস দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩২০ থেকে ৪০০ টাকায়। সে হিসেবে প্রতিপিস দেশি মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।
মুরগির দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির গোশতের দাম। বাজার ভেদে প্রতিকেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।
বিভিন্ন সবজি বাজার ঘুরে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহের মতো এখনও সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে টমেটো। বাজারভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি এবং শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে এ তিনটি পণ্য এমন দামে বিক্রি হচ্ছে।
বন্যার প্রভাবে সবজির মধ্যে সব থেকে বেশি দাম বেড়েছে বেগুনের। ৩০ টাকা কেজি থেকে বেগুনের দাম এক লাফে ৮০ টাকায় পৌঁছে যায়। গত সপ্তাহের মতো বাজারভেদে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।
 বেগুন, শসা, টমেটো ও গাজরের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, ঝিঙা, ঢেঁড়স, শিম ও ধুন্দুলের কেজি ৫০ থেকে ৭০, কাকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।
সপ্তাহ ধরে দাম অপরিবর্তিত থাকা আরও সবজির মধ্যে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, বরবটির ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস।
এদিকে গত সপ্তাহে কিছু কিছু বাজারে ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমেছে। বাজার ও মানভেদে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। আর দেশি পেঁয়াজের কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।
এছাড়া বাজারে প্রতিআটি লালশাক, মুলাশাক, কলমিশাক ২৫ টাকা, পুঁইশাক, লাউশাক ৩০ টাকা, ধনেপাতা কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ায় সব জায়গায় এখন মাছ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে সবধরনের মাছ। খুচরা বাজারে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে পাঙাশ মাছ। রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, নলা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, টেংরা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বাইলা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, আইড় ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, বোয়াল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ও চিতল বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি।
আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল ও অন্যান্য মুদিপণ্য। বাজারে নাজির শাইল চাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫২ টাকা, স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, বিআর-২৮ নম্বর ৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এছাড়া খোলা আটা ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, লবণ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পোলাউর চাল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, খোলা ময়দা ২৮ টাকা, চিনি ৫২ টাকা, ছোলা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, খেসারির ডাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, মসুর ১০০ থেকে ১১০ টাকা, বুটের ডাল ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ