বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঠাকুরগাঁওয়ে বাস-নসিমন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৮ ॥ আহত ২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে নৈশকোচ ও নসিমনের ত্রিমুখি সংঘর্ষে ৮ জন নিহত

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা : ঠাকুরগাঁওয়ে নৈশকোচ-বাস ও নসিমনের ত্রিমুখি সংঘর্ষে ৮জন নিহত হয়েছেন। এতে আরো অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল আট টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড় খোঁচাবাড়ি বলাকা উদ্যানের সামনে ডিপজল নাইট  কোচ, নিশান বাস-নসিমন এর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত হন। আহতদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধিন অবস্থায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর অবস্থায় রংপুর নেয়ার পথে আরো একজন মারা যায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজন রংপুর মেডিকেলে ও বাকীরা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস এর উপ-পরিচালক মফিদার রহমান জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ডিপজল নাইট কোচ, বালিয়াডাঙ্গী থেকে দিনাজপুরগামী নিশাত বাস ও একটি নসিমনের মধ্যে শুক্রবার সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও  ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনা স্থলে দ্রুত পৌঁছান এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় আহত ও নিহতদের উদ্ধার করেন। ঘটনার পর ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কে ৩ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ সড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
নিহতরা হলেন, মিনিবাসের চালক চায়না (৩০) ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিপুল চন্দ্র (৩৫), আব্দুল আব্দুর রহমান((৪৫), মোস্তফা (৪৫), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম(৪০), বীরগঞ্জ উপজেলার গলিরামের মঙ্গলী রানী(৭০), একই এলাকার মনেস্বরের স্ত্রী জবা (৩৫), আব্দুল মজিদ(৩৬)। আহতদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে রংপুর মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
এ ব্যপারে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আল আসাদ মাহফুজুল ইসলাম, দুর্ঘটনায় ৮জন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী ডিপজল এন্টারপ্রাইজের একটি বাসের সঙ্গে ঠাকুরগাঁও থেকে দিনাজপুরগামী নিশাত পরিবহন নামে অপর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর দুটি বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে এবং মিনিবাসটির ডান পাশের পুরো অংশ ছুটে যায়।
সংবাদ পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হতাহতদের দেখতে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম, সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলামসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এসময় আহতদের সু-চিকিৎসার সার্বিক সহায়তার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশ দেন তারা। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষনিক ১০ হাজার টাকা করে সহায়তার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ