বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঈদের সময় গ্রামাঞ্চলে বিপুল সংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা

# প্রতিদিন হাসপাতালে আসছে ১৭০০’র বেশি রোগী # দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়েছে # অনেক হাসপাতালে ভর্তি নেয়া হচ্ছে না # ২৪ ঘন্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু
ইবরাহীম খলিল : বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মূলত রাজধানী ঢাকায় হলেও ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন পাঁচশ’র বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন জেলায় সরকারি হিসেবে ১ হাজার ৭১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ওদিকে, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে আসন্ন ঈদুল আজহার সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেলে এই ভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মেহেরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা এই আশঙ্কার কথা স্বীকার করে বলছেন, এটা কঠিন কিন্তু সরকার চেষ্টা করছে। দেশজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলছে। “ডেঙ্গু ওখানে গিয়ে ধরা পড়লে সেখানে কি করতে হবে, সেজন্য একটা গাইডলাইন দেশের সর্বত্র পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের পুনঃপ্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে”। তিনি বলেন, ডেঙ্গু বড় আকারের একটা প্রাদুর্ভাব, যা বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এডিস মশা এখনো শহরকেন্দ্রীক। সাধারণত এ মশা একশো' থেকে চারশো' মিটারের বেশি উড়তে পারে না। কিন্তু পরিবহনের মাধ্যমে এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে"। ঢাকা থেকে যারা যাবেন তাদের মধ্যে একটা অংশ কোনো না কোনো ভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। জ্বর থাকলে যেন পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে এটা ডেঙ্গু কি-না"।
এদিকে হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। শয্যার অভাবে রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে ওয়ার্ডের ফ্লোরে, ভেতরে-বাইরের বারান্দা ও করিডোরে। চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী অন্যান্য সহযোগী স্টায় সংকটের কারণে রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে রোগীর স্বজনরাই শয্যা পার্শ্বে বসে থেকে রোগীর যতœ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গত দুইতিন ধরে ডেঙ্গু রোগীদের অনেককেই ভর্তি নেয়া হচ্ছে না।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ডেঙ্গু পরীক্ষা করে ধরা পড়ার পরও রোগীকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করতে হবে বলে হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে একদিনের জ্বরে একাধিক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও মৃত্যুর সংবাদে অনেকেই বাসায় রেখে চিকিৎসা করাতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এদিকে, ডেঙ্গুজ্বর সন্দেহে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে জ্বরের রোগীর ভিড় বাড়ছে। চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয় হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ২৩৫ জন রোগী। রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গত দুইদিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৪০৫ জন রোগী। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৮৭ জন রোগী। মোট রোগীদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৬২২ জন, বেসরকারিতে ৩৭০ জন ও বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ৬৯১ জন ভর্তি হন। বর্তমানে সারাদেশের হাসপাতালে ভর্তিকৃত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৫৮২ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ভর্তি ১ হাজার ৬৮৭ রোগীর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৩, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩৫, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৩৩, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ১১৮, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৩১, বারডেম হাসপাতালে ১৭, বিএসএমএমইউতে ২৯, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ১৯, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৪, বিজিবি হাসপাতাল পিলখানায় ৫, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ৫৬ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৯২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩৭০ জন। এদিকে, রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৯১ জন। ঢাকা বিভাগে ১৯০, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৯, খুলনা বিভাগে ৯১, রংপুর বিভাগে ৩৮, রাজশাহী বিভাগে ৮৭, বরিশাল বিভাগে ৭৭, সিলেট বিভাগে ১১ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
জানা গেছে, ১৬শ শয্যার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। অর্থাৎ দেশের সর্ববৃহৎ এই হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি।ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢামেকে ভর্তি হয়েছেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আশিক হাসান। গত পরশু ঢাকা মেডিকেলে এসে রক্ত পরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর থেকেই সে হাসপাতালে ভর্তি। বেড খালি না থাকায় ফ্লোরেই চিকিৎসা চলছে তার।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন-আল-আজাদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আনুমানিক ৮শ জনের মতো ডেঙ্গু রোগী ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা কোনো রোগীকে আমরা ফিরিয়ে দিচ্ছি না। তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান দিতে না পারার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রোগীর সঠিক হিসাব দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, সারাদিনে রোগী ভর্তি হচ্ছে, আবার সুস্থ হয়ে মেডিকেল ছেড়ে চলেও যাচ্ছে। তাই সঠিক হিসাব বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। যে ফিগারটা আমরা বলেছি, তার থেকে দুয়েকজন কম-বেশি হতে পারে।’
ঢাকার আরেক হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েও (বিএসএমএমইউ) একই চিত্র। সেখানেও বেডের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি। ঢাকা মেডিকেলের চেয়ে এই বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসাসেবা কিছুটা ভাল এমনটিই ধারণা সাধারণ রোগীদের। তাই অনেকেই টাকা খরচ করে বিএসএমএমইউতে ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে জায়গা নেই। ঠাঁই পেয়েছেন শিশু ওয়ার্ডের সিঁড়ির কাছের বারান্দায়। সেই বারান্দার মেঝেতেই চলছে তার ৪ বছর সাত মাস বয়সী বড় মেয়ে সাদিয়া ইসলাম সোহানা এবং ২ বছর সাত মাস বয়সী ছোট মেয়ে সামিয়া ইসলাম সিমির চিকিৎসা।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সজীব। তিনি বলেন, “অফিস বাদ দিয়ে গত চারদিন ধরে এই হাসপাতালে আছি। মেয়েদের জ্বর এখন কিছুটা কমে এসেছে। ডাক্তার নতুন পরীক্ষা দিয়েছেন। বাচ্চারা বাসায় যাওয়ার জন্যে অস্থির হয়ে পড়েছে। তারা ডাক্তার দেখলে ভয় পাচ্ছে, তিনি আরো বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে প্রথমে বারান্দার এক কোণায় ছিলাম। সেখানে ডাক্তার পেতাম না। পরে বারান্দার মাঝ বরাবর আসি। এখন ডাক্তার পাচ্ছি।
সজীব জানান, আট দিন আগে তার বড় মেয়ের জ্বর আসে। এর একদিন পর ছোট মেয়ে জ্বরে পড়ে। তাদেরকে নিয়ে তিনি গিয়েছিলেন শিশু হাসপাতালে। সেখানে নিয়ে গেলে তাদের কয়েকটি পরীক্ষা করতে বলে। শিশু হাসপাতালে মেয়েদের জন্যে কোনো সিট পাওয়া যায়নি বলে তাদেরকে ভর্তি করা যায়নি। পরে তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। যারা ভর্তি হতে এসেছেন। কিন্তু সিট না থাকায় ভর্তি হতে পারছেন না। এর মধ্যে মুগদা হাসপাতালে সিট না পেয়ে এসেছেন আবু কাহহার ও শিউলী মজুমদার দম্পত্তি। এই দুজনের মধ্যে স্ত্রীর অবস্থা ভালো না।
আবু কাহহার জানান, প্রথমে খিলগাঁয়ের খিদমাহ হাসপাতালে গিয়ে সিট পাননি। সেখান থেকে মুগদা হাসপাতালে গিয়েও সিট পাননি তারা। পরে সেন্ট্রাল হাসপাতালে এসেছেন। তার স্ত্রীর প্লেটলেট এখন এক লাখ ২৫ হাজার। বমি হচ্ছে। তার অবস্থা খুব খারাপ। ডাক্তাররা সিট দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সেন্ট্রাল হাসপাতালের উপপরিচালক একেএম মোজাহের হোসেন বলেন, ‘আমরা ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সিট না থাকায় অধিকাংশকেই চিকিৎসাপত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেড়েছে। গত তিনদিন রোগী সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
কল্যাণপুর ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত অন্তত ৩৫ জনকে এ হাসপাতালের অর্ভ্যথনা কেন্দ্রে বসে থাকতে দেখা গেছে। ধানম-ি বাংলাদেশ মেডিকেলের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফয়সাল আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জরুরি বিভাগে ৬৪ জন রোগী এসেছেন, যাদের অধিকাংশই ডেঙ্গু আক্রান্ত।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীর পরিস্থিতি বুঝে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। সিট না থাকায় অনেক সিরিয়াস রোগীকেও ভর্তি করানো যাচ্ছে না। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় একটি পুরুষ ওয়ার্ডে ৩০টি শয্যা এবং একটি নারী ওয়ার্ডে ৩০টি শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হয়েছে।’
মিরপুরের টেকনিক্যালে বারডেম হাসপাতালের দ্বিতীয় শাখার লজিস্টিকস বিভাগের ব্যবস্থাপক আশরাফুল হক শাওন জানান, ডায়াবেটিসের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল হলেও তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় আলাদা সেল খুলেছেন। সেখানে বর্তমানে ৪১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন।
মগবাজারের রাশমনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালের সাধারণ বেড ৪৫টি, এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ ২০টি, ১২টি আইসিইউ এবং ১২টি সিসিইউ বেড আছে। এসব শয্যার বেশিরভাগেই ডেঙ্গু আক্রান্তদের রাখা হয়েছে। হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক তামান্না জামান অন্তু বলেন, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অনেক রোগীকে ফেরত পাঠাতে হচ্ছে।’
এদিকে, ৫শ শয্যা বিশিষ্ট মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন আছে প্রায় ৩শ ডেঙ্গু রোগী। এদের মধ্যে মেডিসিন ওয়ার্ডে ১৭৫ জন, শিশু ওয়ার্ডে ৭৫ জন এবং কেবিনে ২০ জনের মতো। বেড-ফ্লোর কোথাও ফাঁকা না থাকায় এই হাসপাতাল আসা ডেঙ্গু রোগী অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে।
মুগদা হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. খাইরুল আলম বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে। কিন্তু অনেক সময় পেরে উঠছি না।’
এদিকে ঈদ যাত্রায় অসংখ্য মানুষ ডেঙ্গুর জীবানু নিয়ে গ্রামে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি রশীদ-ই-মাহবুব বলেছেন, ‘ঈদের সময় অসংখ্য মানুষ বাড়িতে যাবে। তাদের সঙ্গেও কিন্তু ডেঙ্গু রোগের বাহক সারা দেশে ছড়াবে।
আরেক বিশেষজ্ঞ ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক কাজী রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদে লাখ লাখ মানুষ ডেঙ্গুর জীবাণু নিয়ে বাড়িতে যাবে। এদের মধ্যে অনেকেই আক্রান্ত হবে এবং স্থানীয় লোকজনের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে বলে আমাদের আশঙ্কা। তাই জেলা ও উপজেলায় ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে অতিগুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে ডেঙ্গু রোগ শনাক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার কিটস সংকট বাজারে দেখা দিয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনমতো এই কিটস কীভাবে হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা যায়, সে বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ভর্তুকি ও শুল্ক কমিয়ে দিয়ে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও যেন আরও স্বল্পমূল্যে কিটস দিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যায়, সে ব্যবস্থাও নিতে হবে।
এদিকে গতকাল ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মালিহা মাহফুজ অন্নি নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার ভোর রাতে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন মাহফুজ অন্নির এক নিকটাত্মীয়। তিনি বলেন, ‘১০ দিন আগে জ্বর নিয়ে অন্নি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিয়ে আসা হয় বিএসএমএমইউতে। এখানে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখা হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’
অন্যদিকে নোয়াখালীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মোশাররফ হোসেন রাজু (৩০) নামে এক রেলওয়ে কর্মকর্তা শুক্রবার সকালে নোয়াখালীর মাইজদীর বেসরকারি প্রাইম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মোশাররফ হোসেন রাজু নোয়াখালী সদর উপজেলার ২ নং দাদপুর ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত মোশাররফ হোসেন রাজু কুমিল্লা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। কয়েকদিন ধরে তিনি জ্বর জ্বর বোধ করলে শুক্রবার সকালে নোয়াখালী প্রাইম হাসপাতালে ভর্তি হন। এর কিছুক্ষণ পর চিকিৎসধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার মীর আলীপুর গ্রামের হারুনের ছেলে আবদুল মোতালেব (২০) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, মোতালেব ঢাকার চকবাজারে একটি ব্যাগের কারখানায় কাজ করতো। তিনদিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হলে তার বাবা তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে তাকে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মমিনুর রহমান জানান, সকালে মাইজদীর বেসরকারি প্রাইম হাসপাতালে মোশারফ হোসের রাজু নামে রেলওয়েতে চাকরি করা একজন মারা গেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বিকেলে ঘটনাটি জানিয়েছে।
খুলনা বিভাগে দিনে গড়ে ১৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে
খুলনা অফিস : সরকারি হিসেব অনুযায়ী বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় খুলনায় ১৪ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। বিভাগে আক্রান্ত হয়েছে ৭০ জন। খুলনায় গত এক মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১১৮ জন। আর বিভাগের ১০ জেলায় এ সংখ্যা ৪৩০ জন। খুলনায় দিনে গড়ে ৩ জন এবং বিভাগের দিনে গড়ে ১৩ জন আক্রান্ত হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী পরীক্ষা তদারকি করতে সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে ৫ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডা. ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের আক্রমণে দুই ধরনের সমস্যা হয়। একটি হচ্ছে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (ডিএইচএফ) অপরটি হচ্ছে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (সিএসএস)। ডিএসএস হলো ডিএইচএফের পরের ধাপ এবং এই ডিএসএস রোগীর জন্য খুবই বিপজ্জনক। সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। ডেঙ্গু জ্বর যদি আরও জটিল অবস্থার দিকে যায় তখন ডেঙ্গু শক হয়। ডেঙ্গু শক হলে যে উপসর্গগুলো সাধারণত হয় তা হলো- চামড়া ভেদ করে রক্ত চলে এসে চামড়ার ওপর কালো দাগ পড়ে। কালো পায়খানা হয়। অনেক সময় প্র¯্রাবের সঙ্গে রক্ত ঝরে। রক্তের প্লাজমা লিকেজ হয়। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। লিভার ও হার্টের ক্রিয়া ক্ষমতা হ্রাস পায়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৮২ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এর মধ্যে ৩৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, বতর্মানে ডেঙ্গু জ্বরে রোগীদের জন্য ২০টি বেড চালু রয়েছে। দিনকে দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আরও ২০টি বেড চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কাল-পরশুর মধ্যে নতুন করে আরও ২০টি বেড চালু হয়ে যাবে। তিনি বলেন, তার হাসপাতালে ডেঙ্গু সনাক্তকরণের কিটস শেষ হয়ে গেছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে ডেঙ্গু সনাক্ত কিটস সংগ্রহের জন্য চেষ্টা চলছে।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত মূল্য (৫০০ টাকা) অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে ৫ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। ডেপুটি সিভিল সার্জনসহ ৫ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। তার হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ সনাক্তের কিটস মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, খুলনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১১৮ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সূত্র মতে, ১ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩০ জন। বর্তমানে বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ২৪৯ জন। এ সময়ের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে খুলনায় ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (ডিএইচএফ) রোগী ছিলো ২ জন এবং নড়াইলে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (সিএসএস) আক্রান্ত রোগী ২ জন পাওয়া যায়। এছাড়া ডেঙ্গু ফিভারে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২৬ জন।
সূত্র মতে, গত এক মাসে খুলনা বিভাগের মধ্যে খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ১১৮ জন, বাগেরহাটে ৮ জন, সাতক্ষীরায় ২৬ জন, যশোরে ১১৫ জন, ঝিনাইদহে ৩৫ জন, মাগুরায় ১৩ জন, নড়াইলে ১১ জন, কুষ্টিয়ায় ৮৬ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১৩ জন ও মেহেরপুরে ৫ জন রয়েছে। এছাড়া এর আগে আরও ৩ জন আক্রান্ত হন। সে হিসেবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩৩ জন।
খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডা. ফেরদৌসী আক্তার বলেন, খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু রোগ সনাক্তের কিটস বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১ হাজার ১৯৩টি মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ৩২০টি, বাগেরহাটে ১২০টি, সাতক্ষীরায় ১০টি, যশোরে ৪০টি, ঝিনাইদহে ১২০টি, মাগুরায় ১৪৫টি, নড়াইলে ১৪৫টি, কুষ্টিয়ায় ১২০টি, চুয়াডাঙ্গায় ৫৩টি ও মেহেরপুরে ১২০টি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু মশা চার ধরনের স্ট্রেইন বহন করে এবং বারবার বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেইন হুল ফুটানোর মাধ্যমে মানুষের শরীরে আসতে পারে, তাই এ জ্বরের সঠিক চিকিৎসা অনেক সময় হয় না। আক্রান্ত ব্যক্তি হয়তো শরীরে এক ধরনের স্ট্রেইনের বিপরীতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করছে; কিন্তু দ্বিতীয়বার অন্য স্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত হলে শরীর সেই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়। ডেঙ্গু মশার এই নানা রূপের কারণে এবার মানুষের বেশি সমস্যা হচ্ছে। জ্বর হলেই তা অবহেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
বগুড়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে
বগুড়া অফিসঃ বগুড়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এতে মানুষের মাঝে আতংক বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মোহাম্মাদ আলী হাসপাতাল, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ২৫জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সবমিলিয়ে ৭৪জন ডেঙ্গু রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার গওসুল আজীম চৌধুরী জানান, বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৭ জন, বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ৫ জন, টিএমএসএসমেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন, আদমদীঘি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, সামছুন্নাহার ক্লিনিকে ২ জন, ইনডিপেন্টডেন্ট হাসপাতালে ১ জন সহ মোট ৭৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, বগুড়াতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৫ জন। আক্রান্তদের ৫জন ছাড়া অন্যরা সবাই ঢাকা থেকে জীবাণু বহণ করে এনেছেন। তারা কয়েক মাসে ঢাকায় যায়নি। তিনি আরও জানান, বগুড়ায় আক্রান্তরা হলেন- শহরের মালতি নগর এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার, সদর উপজেলার বেলাইল গ্রামের কণিকা সরকার, চান্দাই এলাকার হালিম মন্ডল, ধুনট এলাকার শাহীন মন্ডল। আক্রান্তরা ঢাকা থেকে জীবাণু বহন করে আনলেও বগুড়ায় যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা আক্রান্ত কোন ব্যক্তির শরীর থেকে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারন, বগুড়া শহরে বা জেলার অন্য কোথাও এডিশ মশার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ডেঙ্গু জ¦র চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিকেল টিম চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। শজিমেক হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তবে রোগী সংখ্যা বৃদ্ধির কারনে চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
ঝিনাইদহে ডেঙ্গু রোগী ৪৩ জন
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : ঝিনাইদহে ১৭ দিনে কয়েকশ’ রোগীর ডেঙ্গু পরিক্ষা করা হলেও ধরা পড়েছে ৪৩ জনের শরীরে। এরমধ্যে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে চারজনকে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৬ জন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে ভর্তি হয়েছেন ব্যাপারীপাড়ার আব্দুস সালাম, শামিম, হরিণাকুন্ডুর মালিপাড়ার মহসিন, শৈলকুপার সিদ্দিক, কবিরপুরের সিরাজুল, মহেশপুর থানার এএসআই মহন অর রশিদ ও শৈলকুপার দুধসর গ্রামের মিল্টন। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। এরমধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ২৩ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অপুর্ব কুমার সাহা শুক্রবার দুপুরে জানান, ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের সবার অবস্থা মোটামুটি ভাল। প্রতিদিন ডেঙ্গু সন্দেহে ৫০/৬০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সামান্য সর্দি জ্বর-কাশি হলেই আতঙ্কে ছুটে আসছেন হাসপাতালে। এ কারণে হাসপাতালে মেঝে ও বারান্দায় জায়গা নেই।
মাগুরায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি
মাগুরা সংবাদদাতা: ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১৬জন মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও মহম্মাদপু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আক্রান্তদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ১২জন মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভতি হয়। এদের মধ্যে ২ জনকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। মহম্মাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি জনের মধ্যে ২ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এদের বাড়ি মাগুরায় হলেও তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস করত। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশের দুটি কক্ষে তাদের চিকিৎসা চলছে।
 ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে, সদর উপজেলার কুশবাড়িয়া গ্রামের আমির হোসেন, লক্ষিকান্দর গ্রামের সৌখিন, সাতদোহা পাড়ার সবুজ, বরুনাতৈল গ্রামের হাসিবুল, খালিমপুর গ্রামের হাসিব, মাগুরার পন্না, মহম্মদপুরের বালিদিয়া গ্রামের রবিউল এবং শ্রীপুর উপজেলার মুক্তি। মুক্তি বাদে সবাই মাগুরার বাইরের জেলা থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আরিফুর রহমান জানান , আক্রান্তদের অবস্থা গুরুতর নয় । তারা মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে টংগিবাড়ী উপজেলার, নিসচা কর্মির মৃত্যু
টংগিবাড়ী( মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : টংগিবাড়ীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নিরাপদ সড়ক চাই এর টংগিবাড়ী শাখার ক্রিড়া ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৫)এর মৃত্যু হয়েছে।পারিবারিক সূত্রে জানাযায় গতকাল শুক্রবার জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়,কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তার চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২ আগস্ট ভোর ৫টায় তিনি ইন্তেকাল করেন।তিনি টংগিবাড়ী উপজেলার বালিগাও ইউনিয়নের নয়াগাও গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার পুত্র। মৃত আনোয়ার হোসেন মোল্লা মৃত্যু কালে ২ মেয়ে ও স্ত্রী রেখে যান। বড় মেয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। দেশের অন্যান্য জায়গায় ডেঙ্গুর আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও টংগিবাড়ীতে এই প্রথম।
রাজাপুরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ভর্তি নয় জন
রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতাঃ ঝালকাঠির রাজাপুরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাইভেট ক্লিনিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৯ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে চার জন নারী ও পাঁচ জন পুরুষ রয়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার পর্যন্ত উপজেলার দুটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করে ১৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে আট জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও প্রাইভেট ক্লিনিকে ১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা বরিশাল শেবাচিম সহ বিভিন্ন স্থানে সেবা নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই উপজেলায় ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রয়োজনীয় রি-এজেন্টের সংকট হওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু পরীক্ষার (এনএস-১) কিট, (আইজিজি ও আইজিএম) কিট এবং সিবিসির রি-এজেন্টের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ৮ জন ও প্রাইভেট ক্লিনিকে ১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর এদের মধ্যে ৪ জন ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছেন আর বাকী ৫ জনই এলাকায় বসেই আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত রোগীরা হলেন, মসিউর, ফাতেমা বেগম, এনামুল, আশিক, সোলায়মান, নাঈম, লাইলি বেগম, হোসেন খান ও মুকুল বেগম।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, “এ পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আট জনকে অভজার্ভে রেখেছি। আমাদের সাধ্যমতো রোগীদের সেবা করছি। তবে এডিস মসা নিধনের জন্য আমাদের উপজেলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এডিস মশার প্রজনন স্থানগুলো ধ্বংসে সফলতা পাওয়া না গেলে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব আরো বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মোঃ ইমরান শাহারিয়ার জানান, আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় ঝোপঝাড়, পানি নিস্কাশনসহ বিভিন্ন পড়ামর্শ দিয়েছি। তবে স্প্রে করার জন্য মেডিশিন না পাওয়ায় স্প্রে করা সম্ভব হয়নি।
সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তে কিট সরবরাহ
বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ সিরাজগঞ্জ সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের রক্তের এনএসওয়ান এন্টিজেন টেস্টের জন্য একশ’ কিট সরবরাহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাধ্যমে সিভিল সার্জন অফিস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এগুলো সরবরাহ করে। সদর হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন কিট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর রক্তের আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার সুযোগ এতদিন থাকলেও কিটের অভাবে এনএসওয়ান এন্টিজেন টেস্ট সম্ভব হয়নি। কিট পাওয়ার ফলে পরীক্ষাটি এখন এই হাসপাতালেই সম্ভব।’
রমেশ চন্দ্র সাহা জানান, এ পর্যন্ত ১৮ জন রোগী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের ১৬ জন ঢাকাসহ অন্য জায়গা থেকে আক্রান্ত হয়ে সিরাজগঞ্জ এসেছেন। বাকি দু’জনের মধ্যে সোহাগী খাতুন (৫৫) জেলার উল্লাপাড়া ও ব্যবসায়ী এমদাদুল হক খোকন (৩৫) জেলা শহরের এস. এস. রোডের (নুর মসজিদের গলি) নিজ বাসায় আক্রান্ত হন।
চকরিয়ায় ডেঙ্গু বিষয়ক দিনব্যাপী সেমিনার
চকরিয়া সংবাদদাতা: চকরিয়া দারুল হিকমাহ একাডেমির শিক্ষার্থীদের নিয়ে চকরিয়া সিটি হাসপাতালের সার্বিক সহযোগিতায় ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ক দিনব্যাপি সেমিনার বৃহস্পতিবার ১আগস্ট একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একাডেমির অধ্যক্ষ মো. রিদুয়ানুল মোস্তফা টিপুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন মোর্শেদ। শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র শিক্ষক আবু সাঈদ বিন আমিন। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চকরিয়া সিটি হাসপাতালের চীফ এডভাইজার আলহাজ্ব মুহাম্মদ কাইছারুল ইসলাম, সিটি হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরিদুল আলম, দারুল হিকমাহ’র একাডেমিক এডভাইজার ফরিদুল আনোয়ার, প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারি ডাঃ আবদুস সামাদ, রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ এরফানুল কবির, সহ-সভাপতি মাহমুদুল হক ও সহকারী শিক্ষক আবদুল মান্নান হাবিবী। অনুষ্ঠিত দিনব্যাপি সেমিনারে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে বক্তারা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সজাগ ও সচেতন হলে মহামারি আকার ধারণ করা ডেঙ্গুসহ সবধরনের রোগ-বালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। তাই অভিভাবকসহ সকলকে সর্তকতার সাথে যে কোনধরনের রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে সচেতনতাপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
সৈয়দপুরে ডেঙ্গু মশা নিধনে মাঠে নেমেছেন পৌর মেয়র
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গতকাল সকালে ডেঙ্গু মশা নিধনে ও শহর পরিস্কার পরিচ্ছন রাখতে এবার নিজ হাতে ফগার মেশিন নিয়ে মাঠে নেমেছেন পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার। কয়েকদিন থেকে পৌর মেয়র সকাল সকাল পৌরসভার অন্যান্য কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন ড্রেন ও অপরিচ্ছন্ন ঝোঁপ ঝাড়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটান এবং ফগার মেশিন চালিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
গতকাল শুক্রবার ১২ নং ওয়ার্ডের নতুন বাবুপাড়া, ১৩ নং ওয়ার্ডের সাহেবপাড়াসহ পৌরসভার প্রায় সব পাড়া-মহল্লার ড্রেণগুলোতে একযোগে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু মশা নিধন কার্যক্রম। সব জায়গায় পৌর মেয়র সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর কর্মচারীদের সাথে নিয়ে নিজ হাতে ঝাড়ু দেওয়া, ব্লিচিং পাউডার ছিটানো এবং ফগার মেশিন দিয়ে মশা মারা ওষুধ ছিটানোর কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ওইসব জায়গায় আবারও গিয়ে বিষয়টি তদারকি করা সহ এলাকাবাসীর মতামতের ভিত্তিতে সার্বিক বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি।
পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার জানান, শহরে ডেঙ্গুর আগাম প্রতিরোধক হিসাবে পৌর কর্তৃপক্ষের এই মশক নিধন কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে সব ওয়ার্ডেই চলবে। কোন ভাবেই ডেঙ্গু মশাসহ কোন প্রকার মশার বংশ বৃদ্ধি করতে দেয়া হবেনা। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থায়ই নেয়া হবে।
সিরাজগঞ্জে এডিস মশার লাভা পাওয়া গেছে
বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লাভা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। গত দুই দিনে সিভিল সার্জন কার্যলয়ের এ্যান্টোমোলজি টেকনিশিয়ানরা পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পর্যবেক্ষন করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা থেকে এডিস মশার লাভা এবং এডাল্ট মশা পাওয়া গেছে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, পৌর এলাকা থেকে এডিস মশার পর্যাপ্ত লাভা পাওয়া গেছে। আরো অনেক স্থানে থাকতে পারে। শুধু ঔষধ দিলে হবে না সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমরা সিভিল সার্জন কার্যলয় থেকে লেফলেট,ব্যানার,প্রচার মিছিল এবং বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে গিয়ে সচেতনতা মুলক কর্মসুচী পালন করছি। সবাইকে সচেতন হতে হবে। এখন পর্যন্ত জেলায় ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে এর মধ্যে ১১ জন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে বাকীরা সিরাজগঞ্জ সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। ডেঙ্গু রোগের প্যাথলজিকাল পরীক্ষার সরকারি মুল্য ৫০০ টাকা নেওয়ার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ্যান্টোমোলজি টেকনেশিয়ান মোঃ তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত দুই দিন আমরা সিরাজগঞ্জের সার্কিট হাউজ সহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লাভা পেয়েছি এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ পৌরসসভার ক্যাম্পাসের ভিতর স্তুুপ করে রাখা গাড়ীর টায়ারের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমান এডিস মশার লাভা পেয়েছি। পুলিশ সুপারের বাসভবনের ফুলের টপে লাভা এবং তিনটি এডাল্ট মশা পেয়েছি। গণপুর্ত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনে এবং জেলা পরিষদের ডাকবাংলা সহ করেকটি বাড়িতে আমরা এই লাভা পেয়েছি। যেখানে আমরা লাভা পেয়েছি সেখানে মশা নিধন ওষুধ দিবার পরামর্শ দিয়েছি। এবং এই লাভাগুলো আমরা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করার জন্য সংরক্ষণ করেছি। তবে এই এডিস মশার লাভা শহরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। আমি সকলকে অনুরোধ করছি বাড়ির ফুলের টপ,পুরাতন বতল,ডাবের খোশা এই গুলো পরিস্কার করার জন্য। কারন এই এডিস মশার জন্ম হয় সাধারনত পরিস্কার পানিতে আর এসব স্থানেই পরিস্কার পানি থাকে। শুধু ঔষধ দিয়ে নয় এডিসের বিস্তার রোধে সকলকে সচেতন হতে হবে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আরেকজন এ্যান্টোমোলজি টেকনেশিয়ান মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান আমরা সিরাজগঞ্জে দুই দিনে যে পরীক্ষা করেছি তাতে প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িতেই এডিস মশার লাভা পাওয়া গেছে। লাভা থেকে মাত্র দুই দিনেই এশটি এডাল্ট মশা জন্ম নিতে পারে। এখন যদি সচেতন না হওয়া যায় তাহলে এটি এশটি বড় সমস্যা হবে এই শহরের জন্য। আমরা পৌরসভাকে জানিয়েছি কোথায় কোথায় এডিস মশার লাভা পাওয়া গেছে। তারা সেটা অনুযায়ী তাদের পদক্ষেপ গ্রহন করবে।
সিরাজগঞ্জে এডিস মশার বিস্তার রোধে পৌরসভাকে আরো কার্যকরি হওয়ার আহবান জানিয়েছে সচেতন নাগরিকরা। মশা নিধনে পৌরসভা যে কাজ করছে সেটা পর্যাপ্ত না। বাড়ির আঙ্গিনায় শখ করে লাগানো ফুলের টপের পানি থেকে জন্ম নিতে পারে এডিস মশা যার একটি কামড় কেরে নিতে পারে একটি জীবন। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে । প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। জেলায় এই রোগ মহামাড়ি আকার ধারন করার আগে সকলকে নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনা ও ঘড় পরিস্কার রাখার অনুরোধ জানিয়েছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ