সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সুনামগঞ্জের দুই ব্যবসায়ীকে বাগেরহাট থেকে উদ্ধার ॥ ৩ অপহরণকারী আটক

বাগেরহাট সংবাদদাতা : বিশ লাখ টাকা মুক্তিপনের দাবিতে সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলার দুই কয়লা ব্যবসায়ী নুরুল আলম ও মুসলিম মিয়াকে অপহরনের এক দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার করেছে বাগেরহাট পুলিশ। বাগেরহাটের একাধিক পুলিশ দলের ৪৮ ঘন্টা অভিযানে এই অপহরনের সাথে জড়িত ৩ অপহরণকারীকেও আটক করেছে। শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। এসময় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাতাব উদ্দীনসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আটক ৩ অপহরণকারী হলো পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভিটাবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মান্ন্ন শিকদারের ছেলে মো. তুহিন শিকদার (২২), পিরোজপুর সদরের মাছিমপুর গ্রামের রফিক হাওলাদারের ছেলে পারভেজ হাওলাদার (২৫) ও এই উপজেলার পোরগোলা গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে মো. আজগর আলী।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানায়, সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলার মাটিকাটা গ্রামর দুই কয়লা ব্যবসায়ী নুরুল আলম ও মুসলিম মিয়াকে তাদের কয়লা ইটভাটার জন্য কেনা হবে বলে প্রলোভন দিয়ে কৌশলে বুধবার বিকালে পিরোজপুর জেলা সদরে আনতে সক্ষম হয় অপহরণকারীরা। পিরোজপুরের এই অপহরণকারী চক্রটি এরপর ইটভাটা দেখাবার কথা বলে ওই দিন বিকালে লঞ্চঘাট থেকে একটি ট্রলারে উঠিয়ে কিছু সময়র অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দুই কয়লা ব্যবসায়ীর হা-পা বেধে ফেলে। এরপর অপহরণকারীরা দুই কয়লা ব্যবসায়ীর পকেটে মাত্র ২০ হাজার টাকা পেয়ে তাদেও মারপিট শুরু করে। মারপিটে আহত ব্যবসায়ী নুরুল আলমের পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইলে ফোনে বিশ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। কয়ালা ব্যবসায়ী নুরুল আলমের পরিবারের সদস্যরা অপহরনের বিষয়ে ওই দিন রাতেই তাহেরপুর থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশের পরামর্শে পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের সাথে মোবাইল ফোনে মুক্তিপনের টাকা কমাতে দেন-দরবার চালিয়ে যেতে থাকে। একই সাথে সুনামগঞ্জ পুলিশ মোবাইল ফোন ট্রাকিংক করে দেখতে পায় অপহরণকারীরা পিরোজপুর ও বাগেরহাট সীমান্ত এলাকায় চলাচল করছে। এরপর অপহৃত দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে সুনামগঞ্জ পুলিশ বাগেরহাট পুলিশকে জানায়। বাগেরহাট পুলিশের পরামর্শে অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপন বাবদ এসএ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের বাগেরহাট অফিসের মাধ্যমে অপহরণকারীদের জন্য ৫ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৩ অপহরণকারী বাগেরহাট শহরের এসএ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে এলে সাদা পোকাশে পুলিশ তাদের আটক করে। এরপর অপহরণকারী চক্রের অন্য সদস্যরা পুলিশের অভিযানে তাদের ৩ সদস্য আট হয়েছে বুঝতে পেরে ওই দিন রাতেই বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা সীমান্তে দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই বাগেরহাট মডের থানা পুলিশ দুই কয়লা ব্যবসাীকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়েছে। আটক ৩ অপহরণকারী ও উদ্ধার হওয়া দুই কয়লা ব্যবসায়ীতে শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জের তাহেরপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া দুই কয়লা ব্যবসায়ী জানান, আপহরনের পর থেকে মুক্তি পাওয়া না পর্যন্ত তাদের ট্রলারে নিয়ে নৌপথে বিভিন্ন স্থানে চলাচল করেছে অপহরণকারীরা। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মুক্তিপনের টাকা এনে দিতে তাদের মারপিট করা হয়েছে। মারপিটের সময় আমাদের চিৎকারের শব্দ পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শোনানো হয়েছে। অপহরণকারীদের হাত থেকে বেঁচে ফিরতে পারবে এমন আশা তারা ছেড়েই দিয়েছিলেন। অবশিষ্ট অপহরণকারীরা বাগেরহাট পুলিশের হাতে আটক হবার ভয়ে তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে জানান এই দুই কয়লা ব্যবসায়ী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ