সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী শূন্য ॥ কোচিং ব্যাচ পূর্ণ

খুলনা অফিস : খুলনায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই থাকে না শ্রেণিভর্তি শিক্ষার্থী। অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিংবা কর্মরত নয় এমন ব্যক্তিদের কোচিং-ব্যাচে পরিপূর্ণ থাকে শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা বিভাগের তেমন গরজ না থাকলেও শিক্ষকদের নৈতিক দায়িত্ববোধে ফিরে আসাসহ অভিভাবকদের কোচিং-ব্যাচে না পাঠানোর কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে প্রায় দুইশ’র মতো কোচিং-ব্যাচ রয়েছে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নয় এমন ভায়া শিক্ষক কিংবা পরিচালকদের। এর সাথে গড়ে ওঠেছে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের কোচিং-ব্যাচ। কোচিং বন্ধে সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের কারণে শিক্ষকরা কিছুটা ভয়ে থাকলেও বর্তমানে সবকিছু চলছে নির্ভয়ে। কেননা কোচিং-ব্যাচের সাথে শিক্ষকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পেয়েও তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা বিভাগের তেমন কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি। এ কারণে বর্তমানে প্যানা-পোস্টারে কর্মরত প্রতিষ্ঠানের নাম, শিক্ষকের নাম, পদবি, ডিগ্রি এবং বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন এসব শিক্ষকরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে কাগজে কলমে রয়েছে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি রুটিনও। শিক্ষকরা সময় অনুযায়ি শ্রেণিতেও যান। তাতে কি শ্রেণিতে থাকে না পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী। কেননা শিক্ষকদের ব্যাচে পড়লে ক্লাসে না থাকলেও তেমন কিছু হয় না। আর এ কারণে ক্লাসে শিক্ষার্থী শূন্য হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অপরদিকে পরিপূর্ণ হচ্ছে কোচিং-ব্যাচ।
খুলনা সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক গোলাম রব্বানী বলেন, তার সন্তান কলেজে যেতে চায় না। তবে ব্যাচের সময় কোনো ভাবেই মিস করতে চায় না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ব্যাচে না গেলে খোঁজ নেয় কিন্তু কলেজে এর বালাই থাকে না।
খুলনা বিএল কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রেখা আক্তার বলেন, স্কুল কিংবা কলেজের শিক্ষার্থীদের এখন প্রধান আকর্ষণ কোচিং-ব্যাচ। কলেজের অবস্থা এখন লেফাফাদুরন্ত । শিক্ষকরা কলেজে এলে কাজ নিয়ে ব্যস্ত আর শিক্ষার্থীরা কোচিং-ব্যাচ নিয়ে।
খুলনা বিএল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কে এম আলমগীর হোসেন এর সাথে কথা বলতে বলতে প্রশ্ন শুনেই খেতে বসেছেন বলে জানান। এ ধরনের মন্তব্যের জন্য কলেজে যেতে বলেন। তবে কলেজে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তার কাছ থেকে সময় নিয়ে যেতে বলেন।
খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর টি এম জাকির হোসেন বলেন, এ ক্ষেত্রে তার কলেজেও শিক্ষার্থীদের রাখতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন তিনি।
খুলনা বয়রাস্থ সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখ মো. বদিউজ্জামান বলেন, শিক্ষকদের আদর্শিক, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। একই সাথে অভিভাবকদেরও কোচিং-ব্যাচমুখি মনোভাব থেকে ফিরে আসতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ক্লাসে শিক্ষার্থী পরিপূর্ণ সম্ভব।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর শেখ হারুনর রশিদ বলেন, শিক্ষকরা আন্তরিক ভাবে ক্লাস নিলে শিক্ষার্থীদের কোচিং-ব্যাচমুখি হতে হয় না। শিক্ষকদেরও কোচিং-ব্যাচ করানোর আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাইরের কোচিং-ব্যাচ থেকে ফেরাতে ক্লাসের প্রতি শিক্ষকদের মনোযোগী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ