সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

‘বয়স এবং অবদান’ বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে জামিন দিন

গতকাল শুক্রবার নিজস্ব কার্যালয়ে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ড. কর্নেল অলি আহমদ (অব.) বীর বিক্রম -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ‘বয়স এবং অবদান’ বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সণ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় মুক্তিমঞ্চের প্রধান কর্ণেল অব. অলি আহমেদ এই আবেদন জানান। তিনি বলেন, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের জাজ সাহেবদের কাছে আমরা অনুরোধ করবো, তার (খালেদা জিয়া) বয়স বিবেচনায়, তার অবদান বিবেচনায় নিয়ে, তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান বিবেচনায় নিয়ে বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে মুক্তি দান করবেন।
একই সাথে নেতাকর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে অলি আহমদ বলেন, জনগণকে বলব, ঘরে বসে থাকার সময় শেষ। এর অর্থ এই না- ভাংচুর করবো, লাঠি হাতে নেবো, ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডে যাবো। না, এটা আমরা পছন্দ করি না। দেশের ক্ষতি হোক-এই ধরনের কর্মকান্ডে আমরা লিপ্ত হতে চাই না। আপনারা ছোট-খাটো মিটিং করেন, ছোট ছোট মিছিল করেন, প্রত্যেকটা জায়গায় একত্রিত হোন। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুষ্ঠু পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আপনারা সোচ্চার হন।।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মানের কথা উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেন, বেগম জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা। কারণ তিনি পাকিস্তানীদের হাতে বন্দী ছিলেন। অনেকে বলতে পারেন তাকে এতো কেনো সম্মান দেয়া হয়েছিলো? আমি এখানে জনগণকে বলতে চাই, যে নিয়াজি (আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী) সাহেব এখানে ছিলেন। তিনি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম অধিনায়ক। প্রথম অধিনায়ক হলো পিতার মতো। সুতরাং ব্যাটেলিয়ানের অন্যান্য অফিসার হলো তার সন্তানের মতো, অফিসারদের স্ত্রীরা ছিলো তার মেয়ের মতো। পাকিস্তান সৈন্যরা অনেক কিছু করেছে। কিন্তু তাদের যে একটা কালচার, তাদের যে একটা স্ট্যান্ডার্ড সেটা তারা বিসর্জন দেয় নাই।
তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে সেই সম্মান তারা (পাকিস্তান) দিয়েছিলো। আজকে নিজের দেশের লোকদের কাছে সেই সম্মান তিনি পাচ্ছেন না। যাদেরকে আমরা গালি দেই, তারাও বেগম জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছিলো। অথচ যারা জাতির পিতার সন্তান হিসেবে দাবি করেন তাদের কাছে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোনো সম্মান নাই। অলি আহমেদ জানান, আগামী ৬ আগস্ট ঢাকায় জাতীয় মুক্তিমঞ্চের উদ্যোগে সার্বিক বিষয়ের ওপর কর্মশালা হবে।
কাওরান বাজারে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) কার্যালয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার রাশেদ প্রধান, বিএনপির সারোয়ার হোসেন, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মুনির হোসেন কাশেমী, জাতীয় দলের রফিকুল ইসলাম, এনডিপির মো. তাহের চৌধুরী, এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, তমিজউদ্দিন, কল্যাণ পার্টির শাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ