ঢাকা, বুধবার 23 September 2020, ৮ আশ্বিন ১৪২৭, ৫ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

তারুণ্য ও সৌন্দর্য ধরে রাখার কয়েকটি খাবার

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: রূপ-যৌবন-তারুণ্য ধরে রাখতে অনেকেই কসমেটিক সার্জারি, ওষুধ, বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান গ্রহন করে থাকেন যা খুবই ক্ষতিকর শরীরের জন্য। অথচ নিজের যৌবন দীর্ঘদিন ধরে রাখার জন্য এতো ঝামেলা করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন কেবল খাদ্য তালিকায় সঠিক খাবার রাখবার!

বিশুদ্ধ পানি

শরীরের সঠিক তারুণ্য ধরে রাখতে পানির কোনো জুড়ি নেই। তাই প্রতিদিন প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান করুন। এটি শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে এবং শরীরের কোষগুলোকে সতেজ রেখে স্বাস্থ্যকর অবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তারুণ্য ধরে রাখতে প্রথমেই পানি দিয়ে শুরু করুন।

আপেল

আপেলে থাকা পলিফেনল যা ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে। ফ্রি রেডিকেল কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অকাল বার্ধক্যের জন্য দায়ী। এছাড়া আপেলে রয়েছে উচ্চ আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই প্রতিদিন একটি করে আপেল খাবেন।

মাছের তেল বা তেলযুক্ত মাছ

মাছের তেলে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে, যা তারুণ্য ধরে রাখে এবং অকাল বার্ধক্য কমাতে সাহায্য করে। তাই তেল জাতীয় মাছ অকাল বার্ধক্য রোধে বা তারুণ্য ধরে রাখতে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।

গ্রিন টি বা সবুজ চা

তারুণ্য ধরে রাখতে গ্রিন টি বা সবুজ চা প্রশংসিত এবং কার্যকরী একটি পানীয়। সবুজ চায়ে রয়েছে একাধিক পুষ্টি উপাদান ও খনিজ পদার্থ যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা ভাঁজহীন ত্বক এবং অভ্যন্তরীণ অবস্থা ভালো রাখতে সাহায্য করে।

বাদাম:

চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে বাদাম অত্যান্ত কার্যকরী। বাদামে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। যা ত্বককে মসৃণ করে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে তোলে।

সামুদ্রিক মাছ: সামুদ্রিক মাছ যৌবন ধরে রাখতে সহায়ক। দীর্ঘ দিন যৌবন ধরে রাখতে চাইলে নিয়মিত খাবার তালিকায় লাল মাংস বাদ দিয়ে সামুদ্রিক মাছ রাখুন। তাতে শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে এবং যৌবন ধরে রাখা যাবে বহুদিন।

মিষ্টিকুমড়ার বিচি:

এতে আছ প্রচুর সাইটোস্টেরোল। এটি পুরুষের দেহে টেসটোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফ্যাটি এসিড পুরুষের শক্তি বাড়ায়। পুরুষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

কলা:

কলার রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি ও পটাশিয়াম। পটাশিয়ামের অভাবে ত্বক রুক্ষ হয়, কলা সেই পটাশিয়ামের অভাব পূরণ করে দেয়। ভিটামিন বি ও পটাশিয়াম মানবদেহের যৌনরস উৎপাদন বাড়ায়। আর কলায় রয়েছে ব্রোমেলিয়ানও যা শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক এবং যৌবন ধরে রাখতে সহায়ক।

ডালিম:

ডালিম বা বেদানা রূপ-যৌবন ধরে রাখাতে সাহায্য করে। এই ফলের যে কতগুণ তা অনেকেরই জানা নেই। ডালিমের রসে ইউরোলিথিন এ-এর অণু থাকে, যা আমাদের শরীরের মাইক্রোবস দ্বারা রুপান্তরিত হয় এবং পেশিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কমলালেবু:

কমলালেবু খাওয়া শরীরের জন্য খুবই ভাল। কারণ এতে অনেক ভিটামিন-সি থাকে। ত্বক টানটান রাখতে কমলালেবু সাহায্য করে এবং হার ক্ষয় রোধ করে।

স্ট্রবেরি:

স্ট্রবেরি হোক কিংবা ব্ল্যাকবেরি, সবকটিই আপনার শরীরের জন্য খুবই ভালো। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে। আপনার ত্বককে করে রাখবে সতেজ।

ডার্ক চকলেট

অনেকেই চকলেট ভালোবাসেন। যারা চকলেট ভালোবাসেন তাদের জন্য ভালো খবর হলো ডার্ক চকলেট বয়স ধরে রাখতে সহায়তা করে। ডার্ক চকলেটে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। তাই যারা নিয়মিত প্রতিদিন ছোট এক টুকরা ডার্ক চকলেট খান তারা দীর্ঘদিন যৌবন ধরে রাখতে পারেন।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল একটি উপকারী তেল। খাবার রান্নার সময় অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমান কম থাকে এবং সহজে মেদ জমে না। এছাড়াও প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বকে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে ঘুমালে ত্বকে বলিরেখা পরে না সহজে। ফলে দীর্ঘ দিন যৌবন ধরে রাখা যায়।

গাজর ও টমেটো

গাজর ও টমেটো ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষ করে যৌবন ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই দুটি সবজির জুড়ি নেই। এগুলোতে প্রচুর পরিমানে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এছাড়াও এতে আছে বিটা ক্যারোটিন ও লুটেইন যা শরীরের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে সহায়তা করে।

আঙ্গুর

বয়স ধরে রাখতে আঙ্গুরের জুড়ি নেই। আঙ্গুরে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। ফলে নিয়মিত আঙ্গুর খেলে ত্বক ও দেহ সুন্দর ও সুস্থ থাকে।

ব্রকলি

ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা বয়সজনিত বিভিন্ন অসুখ থেকে দেহকে রক্ষা করে এবং শরীরের বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে ফেলে।

টক দই

টক দই মেদ ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। দইয়ে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম আছে যা শরীরের গঠন ভালো রাখে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করে।

এছাড়াও দই ত্বককে রাখে বলিরেখা মুক্ত। তাই যৌবন ধরে রাখতে চাইলে প্রতিদিন দই খান।

পালং শাক

পালং শাকে প্রচুর পরিমানে লুটেইন আছে যা শরীরের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে এবং যৌবন ধরে রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত পালং শাক খেলে ত্বক চোখের বয়সজনিত সমস্যা কমে যায়। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন আছে বলে পালং শাক শরীরের নানা অসুবিধা দূর করে এবং শরীরে পুষ্টি ও শক্তির যোগান দেয়।

হলুদ:

হলুদে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লামমেটরী উপাদান। এই উপাদান হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। সাথে সাথে বয়সের ছাপ পড়া রোধে সাহায্য করে থাকে।

থানকুনি পাতা:

বয়স বাড়লেও, যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করে থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে। আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়।

থানকুনি পাতায় থাকে Bacoside A ও B। Bacoside B মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

থানকুনি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়।

থানকুনি পাতা চুল পড়া আটকে দেয়। এমনকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।

দাঁতের রোগ সারাতেও থানকুনির জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে, তারপর ছেঁকে নিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায় চটজলদি।

পেটের রোগ নির্মূল করতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পেট নিয়ে কোনও দিনও সমস্যায় ভুগতে হয় না।

শুধু পেটই নয়, আলসার, এগজিমা, হাঁপানি-সহ নানা চর্মরোগ সেরে যায় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকেও জেল্লা বাড়ে।

পুরনো ক্ষত কোনও ওষুধেই না সারলে, থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে তার জল লাগালে সেরে যায়। সদ্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে, ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ