বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মুমিন নর-নারীর অনন্য বৈশিষ্ট্য

ফারিহা নাওয়ার : সবর অর্থ ধৈর্য, দৃঢ়তা, সহিষ্ণুতা। বিপদ মসিবত এবং সমস্যা ও সংকেট ধৈর্য অবলম্বন করা। নিজের নীতি আদর্শ ও অবস্থানের উপর অটল-অবিচল থাকা। বিরোধিতা ও অত্যাচার নির্যাতনের মোকাবেলায়ও দৃঢ়ভাবে নিজের লক্ষ্য অভিমুখী থাকা। ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সাথে নিজের নীতি ও অবস্থানের উপর অটল থাকা ও সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়াই মুমিন নর-নারীর অনন্য বৈশিষ্ট্য।
হযরত আবু আশ’আরী (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তির সন্তান মারা যায় তখন আল্লাহ ফিরিশতাদের জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি আমার বান্দার সন্তানের রূহ কবয করেছ? তারা বলে, জী-হ্যা। তারপর আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি তার কলিজার টুকরার জান কবয করে এনেছ? তাঁরা বলেন, জী হ্যা এনেছি, তারপর আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, এ সময় আমার বান্দা কি বলল? তারা বলেন, এ বিপদে সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন’ বলেছে। তখন আল্লাহ বলেন, আমার এ বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী কর এবং সে ঘরের নাম রাখ ‘বায়তুল হামদ’ বা প্রশংসার ঘর। (তিরমিযী)
হযরত সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের অবস্থা অদ্ভুত প্রকৃতির। তার সকল কাজই কল্যাণকর। আর এ সৌভাগ্য মুমিন ব্যতিত আর অন্য কারো লাভ হয় না। সে যদি দারিদ্র, অসুস্থতা এবং দুঃখ কষ্টে পতিত হয় তাহলে ধৈর্য্যধারণ করে। এমনিভাবে স্বচ্ছল অবস্থায়ও সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। (মুসলিম)
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ধৈর্য্যধারণের চেষ্টা করবে আল্লাহ তাকে ধৈর্য্যধারণের শক্তি দান করবেন। আর (বান্দাহর জন্য) ধৈর্য্য থেকে অধিক উত্তম ও ব্যাপক কল্যাণময় বস্তু আর কাউকে দান করা হয়নি। (বুখারী ও মুসলিম)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিন নর-নারীর উপর সর্বদা বিপদ ও পরীক্ষা উপস্থিত হয়। কখনো সরাসরি তার উপর বিপদ আছে। কখনো তার সন্তান মারা যায়। আবার কখনো তার ধন-সম্পদ নষ্ট হয়। (আর এ সকল মুসিবতে ধৈর্য্যধারণ করার ফলে তার অন্তর পরিস্কার হতে থাকে। পাপ পংকিলতা থেকে মুক্ত হতে থাকে।) অবশেষে সে নিষ্পাপ আমলনামা নিয়ে আল্লাহর কাছে মিলিত হয়। (তিরমিযী)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোন মুসলিম নর-নারী মানসিক বা শারীরিক কষ্ট, কোন শোক, দুঃখ পেলে বা চিন্তাগ্রস্ত হলে সে ধৈর্য্যধারণ করে তাহলে আল্লাহ প্রতিদানে তার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। এমন কি যদি সামান্য একটি কাঁটাও পায়ে বিঁধে তাও তার গুনাহ মাফের কারণ হয়ে যায় (বুখারী ও মুসলিম)
হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বিপদ ও পরীক্ষা যতই কঠিন হবে এর প্রতিদানও হবে তত মূল্যবান। আল্লাহ যাদেরকে বিপদ ও পরীক্ষার সম্মুখীন করেন, তারপর তারা আল্লাহর সিদ্ধান্তকে আনন্দিতচিত্তে মেনে নিয়ে ধৈর্য্যধারণ করে, আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হন। আরা যারা এসব বিপদ ও পরীক্ষায় আল্লাহর উপর অসন্তুষ্ট হয় আল্লাহও তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন। (তিরমিযী)
ধৈর্য ধারন ও আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতার মাঝেই রয়েছে আত্মতৃপ্তি। এই আত্মতৃপ্তির মাধ্যমে মুমিন নর-নারী আল্লাহর সান্নিধ্যে নিজেকে সোপর্দ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ