সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কাজ এবং বেমানান কাজ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খোলা চিঠি লিখেছিলেন ভারতের ৪৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক। ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে রণহুংকার তোলা এবং গণপিটুনীতে নিরীহ মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা। সেই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের খোলা চিঠির কোন জবাব প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন কিনা তা জানা যায়নি। তবে সরকারের পক্ষে মুখ খুলেছেন ৬২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। ক্ষমতাসীন বিজেপিও সংঘ পরিবারের ওই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ৪৯ বিশিষ্ট নাগরিকের সমালোচনা করে বলেছেন, তারা দেশের সম্মানহানি করছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর যাবতীয় সুপ্রচেষ্টার নেতিবাচক প্রচার চালাচ্ছেন। দেশের গণতন্ত্র ও বিকাশ থমকে দেওয়ার চেষ্টা করছে এই মহল। ২৬ জুলাই প্রদত্ত এই পাল্টা চিঠির তিন দিন আগে প্রধানমন্ত্রীকে যারা খোলা চিঠি দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অপর্ণা সেন, অদুর গোপাল কৃষ্ণ, রামচন্দ্র গুহ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শ্যাম বেনেগল, মনিরত্নম, গৌতম ঘোষ, অনুরাগ কাশ্যপ, কৌশিক সেনের মতো বিশিষ্টজনরা ছিলেন। ওই চিঠিতে তারা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।
পাল্টাপাল্টি চিঠির ফলাফল কখনও তেমন শুভ হয় না। এই ক্ষেত্রেও ভিন্ন ফল আশা করা যায় না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হলো যে, ব্লেমগেম শুধু আমাদের দেশেই হয় না, ভারতেও ওই গেমটা বেশ চালু আছে। আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা স্পষ্ট করেই বলতে পারি, ব্লেমগেম দলীয় রাজনীতির জন্য বেশ উপাদেয় হলেও তাতে সমস্যার সমাধান হয় না; দেশ ও জাতির কোন কল্যাণ হয় না বরং সংকটের মাত্রা বাড়তে থাকে।
ভারতে এখন ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে রণহুংকার তোলা হয়, গণপিটুনীতে নিরীহ মানুষ হত্যা করা হয়- এগুলো তো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ভাষ্য। এসব তো ভারতের মতো বহু ধর্ম-বর্ণের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে চলতে পারে না। এ ব্যাপারে যদি ভারতের বিবেকবান নাগরিকরা রাষ্ট্রের কাক্সিক্ষত সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন, তাতে তো কারো ক্ষুব্ধ হওয়া মানায় না। এমন বেমানান কাজ যারা করেন তারা আসলে স্বদেশ কিংবা মানবতার প্রকৃত বন্ধু হতে পারেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ