শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

এডিস মশা হাসি-তামাশা পছন্দ করে না -অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে কষ্ট করতে হবে। এডিস মশারা খুব অ্যারিস্টোক্রেট। তারা হাসি-তামাশা পছন্দ করে না। ডেঙ্গু হলে চিকিৎসা করাতে হবে। বার বার প্লাটিলেট পরীক্ষা করতে হবে। এ বিপদ থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটাতে হবে। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ডেঙ্গু নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য এডিস মশা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের জলবায়ু থাকবে। এ মশা বেশি ঠান্ডা ও বেশি গরমে মারা যায়। ২৫ থেকে ২৯ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এডিস মশা বেশি হয়। একই সঙ্গে প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে এ এলাকায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বেশি। জ্বর হলেই পরীক্ষা করা দরকার। জ্বর হলে লম্বা সময় থাকবে। শরীর ব্যাথা হবে, কামড়াবে। শরীরটাকে অস্থির করে তুলবে। সঠিক চিকিৎসা হলে ডেঙ্গু হলেও মানুষ মারা যায় না।
এডিস মশার ওষুধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা-ভারতসহ কয়েকটি দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের এখানে না হয় ওষুধ কাজ করছে না। ওদের ওখানেও কি কাজ করছে না? আসলে মূল কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। একদিন বৃষ্টি হয়, একদিন হয় না। এতে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে। মশা কামড়ালেই চিকিৎসা করাতে হবে। এ বিপদ থেকে উত্তরণ পেতে হবে। আমি দোয়া করি, ডেঙ্গু থেকে সবাই মুক্ত থাকুক। এডিস মশা কামড়ালে জ্বর আসার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিতে হবে। আমার হয়েছিল তাই আমি বুঝি।
সাধারণত আগস্ট সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা গেলেও এ বছর জানুয়ারি থেকেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর দেখা মিলতে থাকে। গত জুন থেকে ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১১ হাজার ৬৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন আটজন। ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৭২৫ জন এরই মধ্যে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। আর এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ হাজার ৯২১ জন।
এর মধ্যে চলমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু সহজে শনাক্ত করার লক্ষ্যে গত রোববার সকালে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ডেঙ্গু শনাক্তে যেকোনো ধরনের পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকার বেশি নিতে পারবে না হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ