শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনায় ৩৪টি ভূমি অফিসে নামজারী বন্ধ ॥ জনসাধারণ চরম বিপাকে

খুলনা অফিস : সার্ভারে ত্রুটির কারণে খুলনার ৩৪টি ভূমি অফিসে প্রায় এক মাস যাবৎ নামজারী বন্ধ রয়েছে। ফলে জমি-প্লট ক্রয়-বিক্রয় ও প্লান অনুমোদনসহ ভূমি সংক্রান্ত কোন কাজই করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি সার্ভারে চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যা দুরীভূত হবে।
জানা গেছে, ৪ হাজার ৩৯৫ কিলোমিটার আয়তনের খুলনা জেলায় ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, তেরখাদা, রূপসা, দিঘলিয়া ও ফুলতলা এই নয়টি উপজেলা রয়েছে। এ নয় উপজেলায় দু’টি পৌরসভা, ৭৪টি ইউনিয়ন ও ৭৫৯টি মৌজা রয়েছে। মোট জনসংখ্যা ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭১ জন। এছাড়া ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ৩১টি ওয়ার্ড ও ১৮৪টি মৌজা রয়েছে। জনসংখ্যা রয়েছে অন্তত ১৬ লাখ। মোট ৪ হাজার ৪৪০ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার আয়তনের মহানগরী ও জেলায় ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭১ জন মানুষের জমির নামজারীর জন্য ৩৪টি ভূমি অফিস রয়েছে। অফিস গুলো হলো খুলনা সদর, দৌলতপুর, বারাকপুর, সেনহাটি, তেরখাদা, বারাসাত, নৈহাটী, ঘাটভোগ, ফুলতলা, দামোদর, থুকড়া, রুদাঘরা, শোভনা, বয়ারশিং, শরাফপুর, বটিয়াঘাটা, সুরখালি, বালিয়াডাঙ্গা, কৈলাশগঞ্জ, বানিশান্তা, পানখালি, তীরডাঙ্গা, সুতরখালী, গড়ইখালী, লস্কর, সোলাদীয়া, দেলুটি, কপিলমুনি, লাড়–লী, আমাদী, মদিনাবাদ, মহেশ্বরপুর ও বেতবাগী। কিন্তু এসব ভূমি অফিসে চলতি ১ জুলাই থেকে সার্ভারে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফলে জমি-প্লট ক্রয়-বিক্রয় ও প্লান অনুমোদনসহ ভূমি সংক্রান্ত  কোন কার্যক্রম করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
নগরীর বাসিন্দা এনামুল হক জানান, সাড়ে তিন কাঠা জমির নামজারীর জন্য দৌলতপুর ভূমি অফিসে এক সপ্তাহ ধরে ধর্না দিচ্ছেন। কিন্তু সার্ভারে ত্রুটি রয়েছে এমন সমস্যার কথা বলে কাজ করছে না অফিস কর্তৃপক্ষ। ফলে জমির নামজারী করতে না পারায় তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন।
খুলনা জর্জ কোর্টের আইনজীবী শেখ মফিজ উদ্দিন বলেন, বাড়ি নির্মাণের জন্য প্লান অনুমোদন দরকার। এ জন্য তার নামে জমির নামজারী করতে হবে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সার্ভারে ত্রুটি থাকায় সদর ভূমি অফিসে এসেও তিনি নামজারী করতে পারেননি। এ অবস্থায় প্লান অনুমোদন করতে না পারায় বাড়ি নির্মাণ কাজ পিছিয়ে গেছে।
ডুমুরিয়ার বাসিন্দা এস এম কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে তার কিছু জমি বিক্রি করা খুবই প্রয়োজন। কিন্তু নামজারী না হওয়ায় জমি বিক্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
খুলনা সহকারী ভূমি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বিএম খালিদ হোসাইন সিদ্দিক বলেন, ১ জুলাই থেকে সার্ভারে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। সেদিন থেকে নামজারী বন্ধ রয়েছে। ফলে অফিসগুলোতে শত শত আবেদন জমা পড়ে আছে। সার্ভার পরিচালনায় নিয়োজিত এটুআই কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হয়েছে। তারা বলছে দ্রুতই সমস্যা দূর হবে। কিন্তু এখনও ত্রুটিমুক্ত হয়নি। সার্ভার ত্রুটিমুক্ত হলে এক সাথে এতো আবেদনের নামজারী করতে হিমশিত খেতে হবে।
এ ব্যাপারে এটুআই-এর ইঞ্জিনিয়ার হুমায়ুন আহমেদ বলেন, আগে ৩০০ উপজেলায় অনলাইনে নামজারী করা হচ্ছিলো। বর্তমানে আরও ১৮৫টি ভূমি অফিস এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত চাপে এ ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে এ সমস্যা সমাধানে একটি কারিগরি টিম কাজ করছে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে সার্ভার ত্রুটিমুক্ত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ